সারাদেশ

রামপাল পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রাজু আহমেদ: রামপালে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে অটল সরকার । অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব পরিবেশবাদীরা। তাদের যুক্তি এই বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। বিপন্ন বিলুপ্ত হবে – হারিয়ে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ।

২০১৫ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক -ছাত্র ও পরিবেশবাদীরা এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন । বাম দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছে । বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ , ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে ।

সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে বলে কমিউনিস্ট পার্টি সহ অন্য দলগুলো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যে কোনো ধরনের সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করবে সরকার। রাজনৈতিক দল ও সরকারের মুখোমুখি অবস্থান নতুন দেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ হবে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলে সুন্দরবনের বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই ।

কিন্তু সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন,অন্যত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলে পরিবেশের বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে না । কিন্তু রামপালে তা স্থাপন করলে হতে পারে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় । ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের উপর পড়তে শুরু করেছে। হারিয়ে যাচ্ছে ষড়ঋতুর দেশ । শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রে জলবায়ু সম্মেলন হবে। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থায়ন থেকে সরে আসার আভাস পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ফ্রান্স,রাশিয়া সহ বিশ্বের পরাশক্তিগুলো জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ও পরিবেশ রক্ষার পক্ষে ।কিন্তু পরিবেশ বিনষ্ট করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সরকারের দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে দেশকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে বলে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করেন।

Related Articles

Back to top button