লিড নিউজ

দ্বিতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট হলেন শি জিনপিং

নিউজ ডেস্ক :: ১৭ মার্চ শনিবার দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি)-এর ভোটাভুটিতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। একইসঙ্গে শি জিনপিং-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র ওয়াং কিশানকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে এ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মাও সে তুং-এর পর চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা শি জিনপিং-এর জন্য এই ভোটাভুটি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কেননা তার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বা আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকার পথ প্রশস্ত করতে গত ১১ মার্চ সংবিধান সংশোধন করে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ প্রেসিডেন্ট থাকার বিধান তুলে দেয় ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস। শনিবার কংগ্রেসের তিন হাজার সদস্যের মধ্যে দুই হাজার ৯৭০ জন ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এদের কেউই শি জিনপিং-এর বিরুদ্ধে ভোট দেননি। তবে একটি ভোট কম পেয়েছেন ওয়াং কিশান।

এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে চীনের ক্ষমতাসীন দল পিপলস পার্টি শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারাকে দলীয় গঠনতন্ত্রে স্থান দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাকে মাও সে তুংয়ের সমান মর্যাদায় আসীন করে।

২০১২ সালে প্রথম দফায় চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন শি জিনপিং। তিনি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই শি দেশটির ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে আত্মপ্রত্যয়ী ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ববাদী একটি যুগের সূচনা করেন। পরাক্রমশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে চীনের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সফলতার পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিবিসির চীন প্রতিবেদক স্টিফেন ম্যাকডোনেল মনে করেন, দেশটিতে শি জিনপিংকে চ্যালেঞ্জ জানানো এখন প্রায় দুঃসাধ্য। তার ভাষায়, ‘একটি শান্তিপূর্ণ রদবদলের সংস্কৃতি মেনে প্রতি ১০ বছর পর পর নিজস্ব অভিমতের পক্ষের মানুষকে নিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসাটা জরুরি। সেই প্রক্রিয়ার অবসান হলো। দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় না থাকার সাংবিধানিক ধারা বদলে শি জিনপিং’কে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হলো। এ নিয়ে কোনও জাতীয় বিতর্কের সুযোগ নেই।’

সূত্র: বিবিসি।

Related Articles

Back to top button