লিড নিউজ

মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসায় নিয়োগ বিধিমালা না মেনেই চলছে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া

এহসান বিন মুজাহির: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিধিমালা না মেনেই মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা রোডস্থ মৌলভীবাজাার টাউন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। মৌলভীবাজাা জেলার একমাত্র কামিল মাদরাসা টাউন কামিলে অধ্যক্ষ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী বহুল প্রচারিত জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নিয়ম থাকলেও টাউন কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নামমাত্র প্রচারিত জাতীয় “দৈনিক সমাচার” ও স্থানীয় দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকায়। পত্রিকাদ্বয়  জেলার সর্বত্র পৌছে না।এর মধ্যে দৈনিক সমাচার পত্রিকাটি মৌলভীবাজানে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং স্থানীয় একমাত্র দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকাটির প্রকাশনাও অনিয়মিত।
এছাড়া নিয়ম থাকলেও মাদরাসার নোটিশ বোর্ডে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কাগজ লাগানো হয়নি। এমনকি পত্রিকায় প্রকাশিত এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও মাদরসার নোটিশ বোর্ডে সাটানো হয়নি। মাদরাসার ভিতরে ও বাহিরে আরও যোগ্যতা স¤পন্ন প্রার্থী থাকলেও তাদেরকে জানানো হয়নি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারী-প্রকাশ-প্রচার ইত্যাদি কোন কিছুতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা যথার্থভাবে মানা হচ্ছে না। ভিন্ন কৌশলে অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া।
নিয়োগে দলীয়করণ, অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি হচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ ও গোপন সংবাদের প্রেক্ষিতে তথ্য সংগ্রহ করতে মাদরাসায় গেলে, নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র সরবরাহ তো দূরের কথা, প্রদর্শন করতেও অপারগতা প্রকাশ করা হয় স্থানীয় এমপি’র দোহাই দিয়ে। মোবাইল ফোনে স্থানীয় এমপি সৈয়দা সায়রা মহসীনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ফোনটি নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাও: আব্দুর রহিমকে দিতে বলেন। এমপি তখন সাংবাদিকরা যা যা চান তা দিতে বলেন মাও: আব্দুর রহিমকে। এরপরও রহস্যজনক কারণে নিয়োগপ্রার্থীদের একটি তালিকা ব্যতিত আর কোন কাগজাতই দেয়া হয়নি। এতে করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- টাউন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগে এ গোপনীয়তার রহস্য কি?
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদন করেছেন- (১) ব্রাক্ষণবাজার ইউনিয়ন আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হিংগাজিয়া মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মোঃ গোলাম ছারওয়ার খাঁন (২) জুড়ী থানা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র উপদেষ্টা ও নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা লিয়াকত আলী খান (৩) কমলগঞ্জ থানা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র উপদেষ্টা ও মোঃ শাফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আলাউদ্দিন (৪) ফেঞ্চুগঞ্জ থানা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র উপদেষ্টা ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওঃ মোঃ ফরিদ উদ্দিন (৫) মৌলভীবাজার জেলা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র সভাপতি ও টাউন কামিল মাদ্রাসারই ভাইস-প্রিন্সিপাল মাওলানা শামছুল ইসলাম (৬) নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র সহ-সভাপতি ও মকিমপুর ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওঃ মাহবুবুর রহমান (৭) শ্রীমঙ্গল থানা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র উপদেষ্টা ও আনওয়ারুল উলুম ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল মাওঃ মোঃ আব্দুল লতিফ ও (৮) বিশ্বনাথ থানা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র সিনিয়র উপদেষ্টা ও সৎপুর কামিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মাওঃ মোঃ মুনিরুল ইসলাম।  অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এ তথ্যে দেখা আবেদনকারী ৮ জনের পরষ্পরের মধ্যে রয়েছে সাংগঠনিক যোগসাজস- যা এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দূর্ণীতির বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া, ২০০৬ সালে ফাজিল/কামিল মাদ্রাসাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থীরা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ নিয়োগের যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত হন। সেসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ অক্টোবর ২০১০ সালের শিক্ষা/শ:১৪বিবিধ-১-৮/২০১০/৪১৬নং স্মারকের জরুরি সংশোধনীতে কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘প্রথম/সমমান’ শর্তটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল- যা অদ্যাবধি বলবত রয়েছে। অথচ, উপলে¬াখিত আবেদনকারীদের মধ্যে ২ জন এ বিধির আওতাভূক্ত না থাকা সত্ত্বেও এ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ্য পদে প্রার্থী হয়েছেন। এতে করেও প্রতীয়মান হয় গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এ মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি তাদের মনোনীত কোন ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ওই মনোনীত ব্যক্তির সাংগঠনিক নেটওয়ার্কভূক্ত ৭ জনকে দিয়ে আবেদন করিয়েছেন। তা না হলে টাউন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদের মত কর্তৃত্বশীল ও লোভনীয় পদের জন্য মাদ্রাসার বাহিরের মাত্র ৭ জন প্রার্থী আবেদন করার বিষয়টি অবিশ্বাস্য। এতে করে  আরও প্রতীয়মান হয়, যে এর বাইরে অন্য ব্যক্তিবর্গ যাতে আবেদন করতে না পারে সেজন্যেই কৌশলে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি জারী-প্রকাশ-প্রচার ইত্যাদি কোনকিছুই করা হয়নি।
নিয়মানুযায়ী, মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আবেদন করার জন্য নির্ধারিত সময় দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই, নির্ধারিত সময় দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যাচাই-বাছাইকৃত আবেদনকারীদের বরাবর ডাকযোগে পত্র বা প্রবেশপত্র প্রেরণ এবং তা মাদ্রাসার নোটিশবোর্ডে টাঙ্গানো, নির্ধারিত দিনে/সময়ে যাচাই-বাছাইকৃত আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং লিখিত পরীক্ষার ফলাফল মাদ্রাসার নোটিশবোর্ডে টাঙ্গানো, ঐদিনই অথবা পরবর্তীতে, লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য্য আবেদনকারীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ এবং মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গানো, এরপর বিধি মোতাবেক নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগপত্র প্রদান/প্রেরণ করতে হয়। কিন্তু মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত কোনো বিধি না মেনেইে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার প্রয়াস চালাচ্ছে। এখন শুধু নিয়োগপত্র জারী করার সময় সুযোগের অপেক্ষার প্রহর গুণা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button