শাবির ছাত্রী হলে চুরি, আতঙ্কে ছাত্রীরা


শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোর ৫টায় হলের ৪০১ ও ৪০২নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে চুরির ঘটনায় হলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলের আবাসিক ছাত্রীরা।
হলের এক ছাত্রী জানায়, শনিবার ভোর ৫টায় হলের ওই দুই কক্ষ থেকে চারটি ল্যাপটপ ও দুইটি মোবাইল চুরি হয়। হলের তিনতলার ছাদের দরজার গ্রিল কেটে একদল চোর ভেতরে ঢুকে ওই দুই কক্ষের ভেন্টিলেটর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দরজা খুলে নেয়। চুরি শেষে তারা বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। এসময় পাশের রুমের এক ছাত্রী “চোর চোর” বলে চিৎকার করে। ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে চোরদল ছাদ দিয়ে নেমে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি তৎক্ষণাত হল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা আমলে নেননি। এমনকি ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেননি হলের প্রভোষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ছাত্রী। পরবর্তীতে পাঁচঘন্টা পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বিষয়টি নিয়ে বসেন হল কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রীরা অভিযোগ করছেন, একের পর চুরি হলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়না হল কর্তৃপক্ষ। এর আগে হল থেকে ল্যাপটপ চুরি হলেও বিষয়টি নিয়ে তাদের কিছূই করার নাই বলে জানিয়েছিলেন হল প্রশাসন।
প্রথম ছাত্রী হল ও বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের মধ্যবর্তী জায়গায় ছাত্রীরা একের পর এক ছিনতাই এর শিকার হলেও তা নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতা লক্ষণীয়। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারের মাধ্যমে নিরাপত্তার জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছিলেন ১৩০ জন ছাত্রী। তবে শিক্ষার্থীদের সেই আহ্বান আমলে নিয়ে আদতপক্ষে কোনো ধরনের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট শরীফা ইয়াসমিন বলেন, ভোরে হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে মিটিং করছি। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক সুজন তালুকদার। তিনি বলেন, ছাত্রীদের সাথে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি হলের ভেতর থেকে কেউ একজন সহয়তা না করলে এধরনের চুরি সম্ভব নয়।
এদিকে এ ঘটনা আমলে নিয়ে হল প্রশাসনের সাথে মিটিং করছে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস,ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার এবং প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।




