লিড নিউজ

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে অগ্রগতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকা ও সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, কৃষিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে তিনি পচনশীল কৃষি পণ্যের সংরক্ষণ ও বহুমুখীকরণেও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরীর ওপরও জোর দেন।

আর এ ব্যাপারে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবদান রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন।

 

সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলামের উপস্থাপনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোলাম শাহী আলম।
অনুষ্ঠানে ১৭৩৩ জন স্নাতক, ৫১৫ জন এম এস এবং একজন পিএইডি ডিগ্রীধারীর সনদের স্বীকৃতি দেন রাষ্ট্রপতি।

 

এ সময় রাষ্ট্রপতি দুই জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক এবং দুই জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক তুলে দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক উজ্বল দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে বর্তমান সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলছে।

তিনি বলেন, উচ্চতর কৃষি শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যুগের চাহিদানুযায়ী জৈবপ্রযুক্তি ও জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের আওতায় জীববিজ্ঞানের মলিকিউল ও জিন পর্যায়ে সর্বশেষ গবেষণা-অগ্রগতি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ-যা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এ স্বাতন্ত্র মর্যাদায় আসীন করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়, নদী, হাওড়, সবুজ বনাঞ্চল ও প্রান্তর এই অঞ্চলকে এক অনন্য প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে পরিণত করেছে। এখানকার বিস্তীর্ণ জলজ সম্পদ, উর্বর ভূমি, লালচে ও পাথুরে মাটি এবং বিস্তৃত প্রান্তরে ছড়িয়ে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। লাগসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এর উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে আরো সুদূরে। ২০৫০ সাল কিংবা ২১০০ সালে দেশের প্রক্ষেপিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দেশের কৃষি ও ভেটেনারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপনের স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র লাভের মধ্য দিয়ে আজ তোমাদের জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হলো। নিজেদেরকে তোমরা জ্ঞানে-দক্ষতায় সমৃদ্ধ করেছ।

গোটা দেশ আজ তোমাদের মুখের দিকে চেয়ে আছে। সমগ্র জাতি তোমাদের ঘিরে স্বপ্ন দেখে।

দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্র্যাজুয়েটরা একযোগে কাজ করবে, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘলালিত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে অগ্রসেনানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে-এই প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি।

Related Articles

Back to top button