মৌলভীবাজারে আঞ্চলিক মহাসড়কে নরক যন্ত্রণা : চালকদের নৈরাজ্য


সরেজমিনে গিয়ে বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের চান্দগ্রাম-মাইজগ্রাম, খলাকান্দি, বড়লেখা পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী থেকে গাজিটেকা-যাত্রীছাউনি, ষাটমা স্কুল, ডাকবাংলা, মধ্যবাজার, লাইটেস স্ট্যান্ড, পাখিয়ালা, থানা এলাকা, উপজেলা, কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ বাজারের উত্তর অংশ, ওয়াপদা, সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি এলাকার সড়কের বেহাল অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। এসব স্থানে সড়ক ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয় ও পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের এই ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি এলাকা গত পাঁচ মাস কয়েক দফা বন্যা নিমজ্জিত ছিল। দীর্ঘদিন পানিতে তলিয়ে থাকায় সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এসব স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সওজ যানচলাচলের জন্য সামান্য ইট ও বালু দিয়েছে। তবে জোড়াতালির এ সংস্কারে কমেনি জনদুর্ভোগ। এছাড়া সড়কের অন্য অংশগুলো প্রায় একবছর ধরে একটু একটু করে ভাঙছে। সড়কের মধ্যে ছোট-বড় ফাটল ও ঢেউয়ের মতো অসমতল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টিপাতের সময় সড়কে ফাটল ও টেউয়ের মতো স্থান ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এসব গর্তের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। এই সড়ক দিয়ে বড়লেখা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ আশাপাশের উপজেলার মানুষ জেলা সদরে আসা যাওয়া করেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জায়েদ আহমদ অনলাইন গণমাধ্যমকে জানান, ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ি চালাতে তাদের যেমন কষ্ট হয় তেমন বিরক্ত হন যাত্রীরাও। এতে করে ক্ষতি হয় গাড়ির। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।
এই সড়কের নিয়মিত যাত্রী স্পৃহা চৌধুরী অনলাইন গণমাধ্যমকে জানান, গত প্রায় পাঁচ মাস থেকে এই সড়কে দুর্ভোগ চলছে। সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। এখন এটাকে সড়ক মনে হয়না। সড়কটির ৩টি স্পট পুকুরের মত হয়ে গেছে। পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। গাড়ি গর্তে পড়ে ঝাঁকুনি দেয়। তখন ভয় হয়।’
চালকরা বন্যার সময় ৩-৪ গুণ ভাড়া আদায় করলেও তেমন গায়ে লাগেনি। কিন্তু এখন রাস্থায় পানি নেই, তবুও ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করছে। তাদের নৈরাজ্য যেন দেখার কেউ নেই।
সওজের বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ অনলাইন গণমাধ্যমকে জানান, সড়কটির বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের চেষ্টার কমতি নেই। মন্ত্রণালয় থেকে একটি টিম সরেজমিনে অবস্থা দেখে গেছেন। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এই সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার পিরয়ডিক মেইনটেইনেন্স প্রোগ্রামের (পিএমপি) আওতায় প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।
সওজের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দফতর থেকে দরপত্র আহবান করা হবে। এছাড়া উক্ত সড়কের বিভিন্ন অংশের ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক মজবুতিকরণসহ একটি ব্রিজের ডিপিপি পাশ হয়েছে।’




