সিলেট

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে বর্ষবরণ

নিউজ ডেস্ক : ডালে-ডালে ফুটেছে হরেক ফুল, আর তাতে যেন সুবাস ছড়িয়েছে আম্র মুকুল। বাংলা নববর্ষের প্রথম এই দিনটিকে বরণ করে নিয়েছে লিডিং ইউনিভার্সিটি।

রোববার পহেলা বৈশাখ লিডিং ইউনিভার্সিটির কালচারাল ক্লাব বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ-১৪২৬ উদযাপন করতে পাঞ্জাবি-শাড়ির সাজে সকাল ১০টায় দক্ষিণ সুরমায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে।

শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রথম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী, উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, ট্রেজারার বনমালী ভৌমিক, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে লিডিং ইউনিভার্সিটির কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। কালচারাল ক্লাবের উপদেষ্টা চৌধুরী তাবাসসুম শাকিলা আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান অতিথি ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, নতুন বছরের আগমন সবার জন্য সুখ ও সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনুক। তিনি পুরাতন গ্লানিকে মুছে ফেলে সবাইকে নব উদ্যমে কাজ করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, আজ আমরা সবাই এক সাথে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপন করতে পেরেছি এটি খুবই আনন্দের বিষয়। ব্যাপক পরিসরে এ সফল আয়োজনের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ এর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতি বাঙালি জাতির অহংকার। তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সগৌরবে লিডিং ইউনিভার্সিটি নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে। তিনি এ আয়োজনের জন্য কালচারাল ক্লাবের উপদেষ্টা এবং সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আগামী দিনগুলি যেন সুন্দর হয় এ কামনা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বনমালী ভৌমিক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাই। এ সময় আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম. রকিব উদ্দিন, কলা এবং এবং আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোস্তাক আহমেদ দীন, রেজিস্ট্রার মেজর (অব.) মো শাহ আলম, পিএসসি, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো গানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল বৈশাখী গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, নাটক, বাংলার ভাটিয়ালি, ভাওয়ালি, রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুলগীতি পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানমালায় আরো ছিল নাগরদোলা, বায়স্কোপ, পুতুল নাচ, সাপের খেলা, বানর নাচ, ঘোড়ার গাড়ি, ঘুড়ি উৎসব এবং বৈশাখী মেলায় ছিল পিঠা ও অন্যান্য খাবারের আয়োজন। এছাড়াও স্থান পেয়েছে হারিয়ে যাওয়া বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রদর্শনী।

কালচারাল ক্লাবের সদস্য মুক্তা, সৌরভ, আনিস, পিংকি এবং তানজিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Back to top button