লিড নিউজ

‘নেককার মহিলারা সৃষ্ঠির শ্রেষ্ঠ নিয়ামত’

কে এম সুহেল আহমদ, কাতার থেকে: আমেরিকা প্রবাসী প্রখ্যাত ইসলামী শিক্ষাবিদ ও মুবাল্লিগ মুফতী জামাল উদ্দীন বলেছেন, নেককার মহিলা সৃষ্টির শ্রেষ্ট নিয়ামত ও সম্পদ।
নারীদের জিম্মাদারীর দায়িত্ব পুরুষের উপর দেয়া হয়েছে। নারীদের হকটাকে প্রথমে স্থান দেয়া হয়েছে। একজন নেককার মহিলা একহাজার ওলীর চেয়ে ও উত্তম। তাই পৃতিবীর প্রথম শিক্ষার স্থান হচ্ছে মা।
শিক্ষক যিনি হবেন তিনি হবেন মহান।
মা হচ্ছেন প্রথম শিক্ষক। শিক্ষার অর্জনের সর্বোচ্চ মাধ্যম হচ্ছে সান্নিধ্য লাভ। সন্তান মায়ের সান্নিধ্যে থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করবে।
মা- বাবা হলেন বেহেস্তের গেইট, কিন্তু মায়ের মর্তবা বেশি। কার সেবা বেশি করতে হবে
এ ব্যাপারে রাসূল ( সাঃ) এরশাদ হচ্ছেঃ” এক লোক রসুল (স.)-এর দরবারে এসে বলল : হে আল্লাহর রসুল! কোন ব্যক্তি আমার সদাচরণ ও আনুগত্য পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকারী? তিনি এরশাদ করলেন, তোমার ‘মা’। সে আরজ করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার ‘মা’। আবার সে আরজ করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার ‘মা’। পুনরায় সে নিবেদন করল, তারপর কে? তিনি জবাব দিলেন, তোমার পিতা। সন্তানের জন্য তুলনামূলকভাবে মা-ই বেশি ত্যাগ স্বীকার করেনন।
৯ মার্চ (শুক্রবার) কাতারের দোহাস্থ বিন যায়িদ সেন্টার(ফানার ভবন) চতুর্থ তলায় সূচিত “আদর্শ পরিবার গঠনে নারীর অবদান শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নসীহত প্রদানকালে তিনি উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন।
মাওলানা ইউসুফ নূরের সঞ্চালনায় মুফতী জামাল আরো বলেন,
নারী- পুরুষদের সমান অধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিদানের বেলায় সমান, চাহিদার বেলায় ও প্রয়োজন মেটানোর বেলায় সমান কিন্তু কর্মক্ষেত্রের বেলায় সমান নয়।
ঈমাণওয়ালাদের পরিচয়ে হল মনের তৃপ্তি।
মা জাতিকে আল্লাহ অনেক মর্যাদা দান করেছেন।
অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা ফরজ এ জন্য ইসলামে পর্দাকে ও ফরজ করা হয়েছে। যাতে করে আল্লাহ’র বান্দা ও বান্দীরা তাদের চোখকে সংযত রাখে।যেহতু পর্দা রক্ষা করা ফরজ তাই এ ফরজ বিষয়কে তাদের জন্য অনাধিকার চর্চা বা জুলুম করা হয়নাই।
একজন নারী যখন মা হয়ে তার বাচ্চাকে দুধ পান করান তখন তার প্রতি ফোটায় ফোটায় নেকী দেয়া হয় ও তার জন্য আল্লাহ বেহেস্ত কে ওয়াযিব করে দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন,যেখানে মানুষ তৈরী হয় সেই স্থানটি মর্যাদাসম্পন্ন জায়গা। একটি সন্তানের প্রতি মার যে পরিমান দয়া-মায়া আছে তা আর কোথাও নেই।
মেয়েদের কাজ, চলাফেরা ও তাদের সৃষ্টি ভিন্ন।
আজকে মায়েদের মর্যাদা নেই, ছেলেরা মায়েদের উপর যুলুম করছে।
আজকাল আদর্শ ছেলে,মেয়ে তৈরীর সংখ্যা খুবই কম।তাই ছেলে’মেয়েদরকে ঘরের মধ্যে তালিমের মাধ্যমে দ্বীনি ইলম শিখাইতে হবে।
এই বিশ্বের বুক থেকে মানবতা দূর করার জন্য ইহূদী নাসারা কার্টুণ নামক ছবি নির্মাণ করেছে। সেটি দেখে আজকালকের সন্তানেরা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা বোনদের উপর মায়া,মহব্বত রাখতে হবে, তাদেরকে অবহেলার পাত্র ভাবা যাবেনা।
আল্লাহ ইসলাম ধর্মকে মানব জাতির সফলতা কামিয়াবীর জন্য সৃষ্টি করেছেন।সারা বিশ্বের মুসলমানদের জামাত এক হতে হবে। এর দ্বিতীয় কোন জামাত নেই।
মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ইসলামে নাই।
ঈমানের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, তিনটি জিনিস যদি কারো কাছে না থাকে তবে ইমানদার নয় তম্মধ্যে হলঃ শিরক, কুফর ও নিফাক। যে ঈমানের মধ্যে শিরক,কূফর ও নিফাক নেই সেই ঈমান আল্লাহ’র কাছে মকবুল।
(ঈমান হওয়ার জন্য যোগ্য লোক সেই) একজন লোক অল্প সময়ে মেধাশক্তিকে কাজে লাগানো এবং আল্লাহ ও তার প্রীয় হাবীব (সাঃ) এর কথা বা আখিরাতের কথা বুজার জন্য তার ঐ মেধাশক্তিকে কাজে লাগায় তবে ৮০ বছরের ক্ববুল ইবাদতের চাইতে বেশী নেকী তার আমলনামায় দেওয়া হবে।
আল্লাহ সুবহানাতা’লা সর্ব প্রথম মানুষের আত্মার সাথে প্রশ্ন রেখেছিলেন, সেই প্রশ্নটি বড়ই রহস্যজনক।
ইরশাদ হচ্ছে, “আমি কি
তোমাদের প্রতিপালক নই?” মানুষের আত্মা
সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে ৩ হাজার বছর পর অর্থাৎ “হে নিশ্চয়ই আপনি আমাদের রব।” যারা উত্তর দিয়েছে তারা খুবই বুদ্ধিমান। তাদের মধ্যে সেদিন নবী,ওলী, গউছ কুতুব সবাই ছিল।
মানুষের মধৈ ৩টি স্থর আছে: যথাক্রমে শারীরীক, মানসিক যোগ্যতা ও আধ্যাত্বিক শক্তি। তামাম বিশ্বের মানুষ আজ শারীরীক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত।
মানসিক রোগের চিকিৎসা পৃতিবীতে আবিষ্কার হয়নি।
মানুষকে আল্লাহ তৈরী করেছেন আধ্যাত্বিক শক্তি ব্যবহার করে তার গায়েবী খাজানা থেকে সরাসরি উপকৃত হওয়াই সৃষ্টির মূল রহস্য।
যাতে করে মানুষ একমাত্র তারই উপাসনা করবে।শুধু তাই নয়, মানুষদের আল্লাহ পৃতিবীতে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। তাইতে পবিত্র ক্বোরআনের এরশাদ হচ্ছে, ” আল্লাহ’র প্রতিনিধি হিসেবে এ পৃথিবী পরিচালনার জন্য তোমাদেরকে খেলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।”
তাই একজন মানুষ সে পুরুষ বা নারী হোক যদি আল্লাহ’র প্রতিনিধি হিসেবে দাবী করে তবে তাকে ঐ শক্তি অর্জন করতে হবে, যে শক্তি দিয়ে সমস্ত সৃষ্টি জগৎকে তার তাবেধারি বানাতে পারবে। আর ঐ শক্তি অর্জন না করতে পারে তবে তাকে মানুষ বলা যাবেনা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলনূর কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজ ‘ কাতারের প্রিন্সিপাল মোঃ জসিম উদ্দীন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম আমিনুল হক (সভাপতি,বাংলাদেশ লেখক সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন কাতার), প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমামগণ, লেখক সাংবাদিক সহ সর্বস্থরের প্রবাসী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে, প্রধান আলোচকের দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Related Articles

Back to top button