তাহিরপুর-আনোয়ারপুর সড়কে ভাঙ্গন: চরম দুর্ভোগ


তাহিরপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে আনোয়ারপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের ২০টি স্থানে বড় বড় গর্ত বর্ষায় হাওরের ঢেউয়ে সড়কে বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন থাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ন তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে চরম দূভোর্গ পোহাচ্ছে ৫লক্ষাধিক জনসাধারণ। এর ফলে প্রতিদিন ঘটছে নানা রকম দূর্ঘটনা। সংস্কার না হওয়ায় এই গুরুত্বর্পূন সড়কটি বর্তমানে উপজেলাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলা থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করার এটিই একমাত্র সড়ক। এই সড়ক দিয়ে সারা বছর পাশ্ববর্তি বিশ্বাম্বরপুর উপজেলা দিয়ে জেলা সদরে প্রতিদিন যাতায়াত করছে লক্ষাধিক জনসাধারন। এক বছর পূর্বে ৫কিলোমিটার এ সড়কে নিম্ন মানের কাজ করায় সড়কের ঢালাই উঠে প্রায় ২০টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এসড়কের দু-পাশের ব্লক ও ছোট ছোট কার্লভাট সংযোগের মাটি সড়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মটরসাইকেল,সিএনজি,বাস,প্রাইভেটকার,টমটমে যাত্রী ও স্থানীয় জনসাধরণ চলাচল করছে। এছাড়াও এই সড়ক দিয়েই হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসছেন টাংগুয়ার হাওরে বেড়াতে।
এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী টমটম,সিএনজি,লাইটেসের চালকগন বলেন,তাহিরপুর উপজেলায় পর্যটন সমৃদ্ধ টাংগুয়ার হাওর থাকায় দেশ,বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক ও পাশ্বভর্তি জামালগঞ্জ,বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলা থেকে এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের জনসাধারন বেড়াতে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহনে আসছে।
এ সড়কে বাস,ট্রাক,হোন্ডা,সিএনজি,টমটম সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের পরিমান দিন দিন বাড়ছে। এই ভাঙ্গাচুরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির অনেক ক্ষতি হয় আর যাত্রীরাও কষ্ট করে। ব্যবসায়ী সাদেক আলী,রফিকুল ইসলাম,নিউটন রায়,বোরহান ও স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন,এই সড়ক দিয়ে যাত্রী পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল সড়ক পথে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসছে তাহিরপুর উপজেলায়। সড়ক ভাঙ্গাচুরা থাকার কারনে গাড়ী আসতে চায় না বেশি টাকা বাধ্য হয়ে দিতে হয়। ফলে পরিবহনে খরচের পরিমান বেড়ে যায়।
বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং বেড়াতে আসা পর্যটক বলেন,উপজেলার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ন এ সড়কের আনোয়ারপুর থেকে তাহিরপুর সদর পর্যন্ত ৫কিলোমিটার সড়কের এই বেহাল অবস্থা খুবই দুঃখ জনক। এই ভাঙ্গা সড়কের চলতে গিয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়,সময় বেশি লাগে আর ভাড়াও বেশি দিতে হয়।
আমরা হাওরবাসী সংঘটনের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সমন্বয়ক ফেরদৌস আলম জানান,গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় ও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকার কারনে জনসাধারণ দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। সড়কটি ভাল ভাবে মেরামত করা খুবেই প্রয়োজন। এই অবস্থায় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সর্বস্থরের জনসাধরনের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,আমি প্রতি মাসেই জেলায় মিটিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ন সড়কটির সংস্কার করার বিষয়টি উপস্থাপন করলেও কেউ কর্নপাত করছেন না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ন এ সড়কটি কে সময় উপযোগী সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ না নেওয়ায় উপজেলাবাসী ও এই উপজেলায় আসা সর্বস্থরের জনসাধারন খুব কষ্টে আছে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইড) আলমগীর হোসেন বলেন,সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন ওয়াহিদ চৌধুরী জানান,বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। খুব শ্রীর্ঘই এই সড়কে মেরামতের কাজ শুরু হবে।




