চোখ যে মনের কথা বলে


ফিচার ডেস্কঃ বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ বেশ প্রচলিত আছে যে ‘চোখ যে মনের কথা বলে’। অর্থাৎ একজন মানুষের চোখের দিকে তাকিয়েই তার মনের ব্যাপারে অনেকটুকু কথা জেনে ফেলা যায়। ব্যাপারটি কিন্তু সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে শুধুমাত্র চোখের দিকে তাকিয়েই আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া সম্ভব। চলুন তবে জেনে আসা যাক সেগুলো সম্পর্কে-
হালকা হয়ে যাওয়া ভ্রূ বা আই-ব্রো
আপনার আই-ব্রো এর শেষ তৃতীয়াংশ যখন নিজে থেকেই হালকা হয়ে যেতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে যে আপনার থাইরয়েডের সমস্যা হচ্ছে। মূলত হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে এটা হতে পারে।
অঞ্জলি যেটি কোনভাবেই সারানো যাচ্ছে না
চোখের অঞ্জলি, বা চোখের উপরের বা নিচের পাতায় তৈরি হওয়া ব্যথাযুক্ত পিন্ড যদি কোনভাবেই তিন মাসের মধ্যে না সারে এবং বারবার একই জায়গায় হতেই থাকে, তবে সেটি দুর্লভ এক ধরনের ক্যান্সারের লক্ষণ বহন করে যার নাম হলো সিবেসাশ গ্ল্যান্ড কার্সিনোমা।
কম্পিউটার ব্যবহারকালে ঝাপসা দৃষ্টি
কম্পিউটার ব্যবহারকালে ঝাপসা দৃষ্টির রোগটির নাম ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম (সিভিএস)। এর ফলেই কম্পিউটার ব্যবহার করতে বসলেই আপনার দৃষ্টিশক্তি একেবারে ঝাপসা হয়ে যায়, চোখ চুলকায় এবং চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। কম্পিউটার স্ক্রিনে কনট্রাস্ট কম থাকলে এবং পিক্সেলের দিকে বেশী ফোকাস দিলে এমনটা দেখা দেয়।
দৃষ্টিসীমায় ছোট দাগ
মাইগ্রেনের কারণে দৃষ্টিসীমায় ছোট দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি যেদিকে তাকাবেন, সেদিকে ছোট দাগের মত দেখা দেবে। মাথা ব্যথা থাকুক বা না থাকুক আপনি একটি বাঁকা রেখা কিংবা ঝকমলে আলো দেখতে পাবেন।
চোখের সাদা অংশ হলুদ রঙ হয়ে যাওয়া
চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়াকে সাধারণত ‘জন্ডিস’ বলে পরিচিত আমাদের কাছে। সদ্য জন্মগ্রহণ করেছে এমন শিশু যাদের লিভার দুর্বল তাদের এবং বয়স্ক মানুষ যাদের লিভার এবং গলব্লাডারে সমস্যা, তাদের এমন রোগ দেখা দিতে পারে।
চোখের আকৃতি বড় হয়ে যাওয়া বা চোখ কোটর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা
হাইপারথাইরয়ডিজমের কারণে চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে বলে মনে হয়। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের অতি সক্রিয়তার কারণে এমনটা হতে পারে।
হঠাৎ ক্ষীণ দৃষ্টি কিংবা দৃষ্টিহীনতা
ক্ষীণ দৃষ্টি কিংবা দৃষ্টিহীনতা সাধারণত স্ট্রোকের পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করে।
ডায়াবেটিসের দরুণ ঝাপসা দৃষ্টি
ডায়াবেটিসের দরুণ চোখের অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে কিন্তু সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা যেটি দেখা দেয়, সেটি হলো ‘ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি’। এ রোগের ফলে চোখের সার্কুলেটরি সিস্টেম আক্রান্ত হয়। আমেরিকার বয়স্ক মানুষদের অন্ধত্বের কারণ এ রোগটি।
দৃষ্টিশক্তি আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান। কিন্তু এ ব্যাপারটিই আমরা সব থেকে অবহেলা করে থাকি। চোখের কোন সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এদিকে নজর দিই না। দুর্ভাগ্যক্রমে, আমেরিকান বয়স্ক সমাজে অন্ধত্বের সবচাইতে মারাত্মক কারণ হলো ‘ডায়াবেটিস’। পরিসংখ্যান মতে, চারজনের মধ্যে একজন আমেরিকান ব্যক্তি প্রি-ডায়াবেটিক কিংবা ডায়াবেটিক।
এছাড়াও কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় কাজ করা, বাড়িতে ভিডিও ডিসপ্লে টার্মিনালের ব্যবহার এবং কাজের অতিরিক্ত ধকল আমাদের সকলের চোখের সমস্যা ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে।
আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ লক্ষণগুলো মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে নিজের খেয়াল রাখা এবং সে অনুসারে চিকিৎসা গ্রহণ করা।
সূত্র: Healthy Holistic Living




