লিড নিউজ

সেপ্টেম্বরে আসছে বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর থেকে কমিটিহীন বিয়ানীবাজার উপজেলা, কলেজ ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হতে যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সেলক্ষ্যে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ অবস্থায় বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের ৩টি ইউনিটের নেতৃত্বে আসতে ভিতরে ভিতরে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং লবিং নতুন করে শুরু হয়েছে।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। এর পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত কোন প্রকার কমিটি ছাড়াই অভিভাবক ও সাংগঠনিক কাঠামোহীন ভাবে চলছে বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কার্যক্রম। সংগঠনের উপজেলা, কলেজ, পৌর ও ইউনিয়ন শাখা সহ কোন ইউনিটেই এখন নেই কমিটি।
স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন থেকে কমিটি গঠনের দাবী জানিয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারণে এ উপজেলায় ছাত্রলীগের কোন ইউনিটের কমিটি গঠন করছে না সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণ বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভা ও পরবর্তীতে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাকির হোসেন নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়ে ঘোষণা করেন, ‘পৌর নির্বাচনের পরপরই বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা দেয়া হবে।’ কেন্দ্রীয় নেতার এ বক্তব্যে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়।
তারা নবউদ্যমে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পৌর নির্বাচনে নৌকার বিজয় হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার পালে আরও হাওয়া লাগে। তারা আশ্বান্বিত হন এই ভেবে যে, এবার নিশ্চয় কেন্দ্রীয় নেতা কথা রাখবেন। দীর্ঘদিন পর গঠিত হবে বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি। কিন্তু পৌর নির্বাচনের প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রকাশ্যে কোন প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
এতে করে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতার প্রকাশ্য ঘোষণা কিংবা কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতা সংগঠনের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দও স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে বিষোদাঘার করছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাদের দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী অবশ্যই অতি শীঘ্রই বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে দেয়া হবে।
আমি ৪ জুলাই মঙ্গলবার সিলেটে ছিলাম। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দদের নির্দেশ দিয়েছি, স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে দেয়ার জন্য। এ বিষয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমদ চৌধুরী বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দেয়া নির্দেশের কথা স্বীকার করে বলেন, গত পৌর নির্বাচনের সময় জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দও বিয়ানীবাজারে গিয়েছিলাম। স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কাজ করেছি।
কেন্দ্রীয় নেতার পাশাপাশি আমরাও তাদেরকে কমিটমেন্ট দিয়েছি কমিটি গঠন করে দেয়ার বিষয়ে। তাছাড়া দীর্ঘদিন থেকে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের কোন ইউনিটেরই কমিটি নেই বিধায় সেখানে কমিটি গঠন করে দেয়া অতীব জরুরী এবং তা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেলক্ষ্যে কাজ করছি। সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার কমিটি গঠন প্রক্রিয়া আমরা ৩টি ধাপে বিভক্ত করেছিলাম। প্রথম ধাপ শেষ হয়ে গেছে। এখন দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের অন্য ৪টি উপজেলার কমিটি গঠনের কাজ চলছে।
আগামী আগষ্ট মাসে আমাদের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তাই সেপ্টেম্বরে তৃতীয় ও শেষ ধাপে বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে দেয়া হবে। তাই সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বিয়ানীবাজার উপজেলা, কলেজ ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি গঠন না হওয়ায় বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিযোগীতার সৃষ্টি হয়েছে।
এখানে নেতৃত্বের ঝট লেগে গেছে এবং একাধিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ। এ অবস্থায় বিভক্ত গ্রুপগুলোর মধ্যে সম্ভপর সর্বোচ্চ সমন্বয় সাধন সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আগামী কমিটিতে তারাই স্থান পাবে যারা বিগত নির্বাচন তথা দলীয় কর্মকান্ডে আন্তরিকতা ও দলীয় আনুগত্যের সহিত কাজ করেছে।

Related Articles

Back to top button