লিড নিউজ

বিয়ানীবাজারে তিন নদীর পানি বিপদ সীমার উপর: প্লাবিত নিমাঞ্চল

আহমদ রেজা চৌধুরী : বিয়ানীবাজারে সুরমা, কুশিয়ারা ও সুনাই (বড়দাল) নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ জন্য প্লাবিত হয়েছে বিয়ানীবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও ভারতের বরাক নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে বিয়ানীবাজারে সুরমা ও কুশিয়ারা, সুনাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে। এর ফলে বিয়ানীবাজার উপজেলাসহ বড়লেখা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার শেওলা, দুবাগ, মুড়িয়া, মাথিউরা, তিলপাড়া, কুড়ারবাজার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে। শেওলা ইউনিয়নের কুশিয়ারা,মেওয়া ওও নেড়াউদি, মুড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নওয়াগ্রাম, চারখাই ইউনিয়নের নওয়াগ্রাম ডাইক ভেঙ্গে গেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার, মাথিউরা, তিলপাড়া, মুড়িয়া ও লাউতা ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার বাড়িতে ঘরে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জামে মসজিদ। দুবাগের মেওয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ এবং লাউতার গজারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম মেওয়ার মায়ন চত্বর এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে প্রায় দুই ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে কার, মাইক্রো ও অটোরিক্সা দুপুরে দিকে চলাচল করলেও বিকালে বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রিবাহী ও মাল বোঝাই যানবাহন। দুবাগ ইউনিয়নের খাড়াভরা গ্রামের প্রবল স্রোতে ঝুঁকির মূখে থাকা শফিক ও রফিক উদ্দিনের পরিবারকে মঙ্গলবার রাতে নিরাপদ স্থানে সরানো কথা জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী।
বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর অভ্যন্তরিণ সড়কের প্রায় দশটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সিলেটের সাথে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করার সময় বেশ কিছু গাড়ি বিকল হয়ে সড়কে আটকা পড়ে। বিয়ানীবাজার-সারপার, বিয়ানীবাজার- তিলপাড়ার রাস্তায় পানি উঠেছে।
সাদিমাপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ জিহাদ বলেন, বাড়ির উঠানে পানি রয়ে চলছে। ঘর থেকে বের হতে নৌকার ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মেওয়া এলাকার আব্দুল আজিজ বলেন, মেওয়াসহ তৎপার্শবর্তী এলাকায় পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এরই মধ্যে ২-৩ কিলোমিটার এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আশংকা নিয়ে বাস করছি।
পূর্ব মুড়িয়ার ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অবিরাম বৃষ্টি ও সুনাই নদীর পানি বেড়ে চলায় মাইজকাপন, ইনামপুর, বড়উধা এলাকার মানুষ পানির সাথে বসবাস করছেন। নওয়াগ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হাটু পানি রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুুত রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে একাধিক কমিটি গঠিত হয়েছে। কবলিত এলাকার পরিস্থিতি জানিয়ে ত্রাণ সরবরাহের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলা সিলেটের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ দূর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। দেশ বিদেশের সকলে দূর্গত মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি

Related Articles

Back to top button