লিড নিউজ

বালাগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি: অতি বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার হাওরগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কয়েক হাজার হেক্টর বোরো জমির কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের বিরামহীন বৃষ্টিতে নলুয়া হাওর, মাছুয়া হাওর, রৌয়ার হাওর, চাতল হাওর ও মাইজ আইল হাওর সহ উপজেলার ছোটবড় হাওর গুলোর নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। ফলে এসব হাওরের বোরো ফসলের অর্ধেকেরও বেশি কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এর মধ্যে অনেক কৃষকের শতভাগ ক্ষেতই ছিল হাওরের নিম্নাঞ্চলে। যার সব গুলোই এখন পানির নিচে।

উপজেলা কৃষি অফিসের হিসেব অনুযায়ী চলতি রোরো মৌসুমে সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো’র আবাদ হয়েছে। কুশিয়ারা ডাইকের সুইস গেইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে অনেক খালের মুখে সুইস গেইট না থাকায় হাওরে পানি প্রবেশ করছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া বুরো জমির পরিমান মোট চাষাবাদের অর্ধেকের চাইতে কম হবে। তবে বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় এ পযন্ত বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলছে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাওরগুলো প্লাবিত হওয়ার পরিমাণ আরোও বাড়তে পারে।

এদিকে ওসমানীনগরে সুইস গেইটে পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় কয়েকটি হাওরের কয়েক হাজার বোরো ফসল পানতে তলিয়ে গেছে। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হাওরগুলোর কাঁচা ধান তলিয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মাথায় হাত ওঠেছে। ওসমানপুর ইউনিয়নের হাউনিয়া-ছানিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সুইস গেইট বন্ধ থাকায় হাওরগুলোর ভিতরের পানি নিস্কাষন হচ্ছে না। সুইস গেইটের কারনে হাওরের ভিতরে প্রায় ৪ ফুট উঁচু হয়ে পানি আটকে আছে বলে স্থানীয় বাসিন্ধা ও কৃষকরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর এলাকায় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ব্যয়ে দু’টি হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে হাউনিয়া-ছানিয়া হাওরে এই স্লুইস গেইট নির্মান করা হয়েছিল। হাউনিয়া-ছানিয়া হাওর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ওসমানপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ময়নুল আজাদ ফারুক। কিন্তু হাওর পানিতে তলিয়ে গেলেও সুইস গেইট দিয়ে পানি নিষ্কাষনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যাননি বলে অভিযোগ ওঠেছে।

১৩ কেদার জমির ফসল হারিয়ে ভর্গাচাষী নূরুল ইসলামের মাথায় হাত ওঠেছে। নূরুল ইসলাম (৩৫) দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামের বিত্তহীন বর্গাচাষী। ১৬ কাঠা ধান দেয়ার শর্তে ৩৫হাজার টাকা দাদন এনে রুনিয়া হাওরে ১৩ কেদার জমিতে বুরো ফসল লাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মোমিন পুরে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সর্বনাশা সুইস গেইটে পানি আটকানোর কারণে গোটা রুনিয়া হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। এতে কৃষক নূরুল ইসলাম যেনো বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তার জিজ্ঞাসা-এবারতো বন্যা হয়নি, হয়েছে অতিবৃষ্টি। নূরুল ইসলাম প্রতি কেদার বুরো জমিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরছ করেছেন। কিন্তু তার পরিবারের আগামী দিনের ভয়াবহ দূরবস্থা কে সামলাবে? যাঁরা এই দূরবস্থার জন্য দায়ী তাঁদের বিচার করবে কে?

কৃষকরা জানান, প্রায় ১ ফুট পানির নীচে হাওরগুলোর বোরো ধান। কিন্তু মোমিনপুর নামক স্থানে হাউনিয়া-ছানিয়া হাওর উপ-প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্লুইস গেইটের উজানে ৩-৪ ফুট পানির ব্যবধান থাকা সত্ত্বে প্রজেক্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ও অপরিকল্পিতভাবে সংকীর্ণ পরিসরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকায় কৃত্তিম জলাবন্ধতার কারণে নূরুল ইসলামের মত সহস্রাধিক কৃষক আজ সর্বশান্ত হতে চলেছেন।

Related Articles

Back to top button