পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান এক্সেলসিয়র সিলেট’র


ডেস্ক রিপোর্ট : এক্সেলসিয়র সিলেট নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক্সেলসিয়র কর্তৃপক্ষ। এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে কিছু কাগজে শামসুল ইসলাম টুনুর বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষ প্রসুত তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে আমরা যুগপৎ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির ভূমির নকল জাবেদা দিয়ে সাউথ ইস্ট ব্যাংক লালদিঘির পার শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঋন পরিশোধ না করে একই দলিল দিয়ে ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখা থেকে আবারো টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয় যা কোম্পানীর ভাইস চেয়ারম্যান সহ অনেক পরিচালক জানতেন না।
রহস্যজনক ভাবে এমন একটি রিপোর্ট প্রকাশের পূর্বে প্রতিবেদক এর কোন রকম দলিল বা ডকুমেন্ট দেখার গরজ অনুভব করেননি। সাউথ ইস্ট ব্যাংক বা অন্য কোন ব্যাংক থেকে এক্সেলসিয়র সিলেট কখনো এক টাকাও ঋন উত্তোলন করেনি। বরং জাকারিয়া সিটি ক্রয়ের অংশ হিসেবে এর পূর্বের ঋনের উত্তরাধিকারী হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রায় ৬ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। জাকারিয়া সিটি ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিতে ও ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনায় শামসুল ইসলাম সম্পৃক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয় আমমোক্তারনামা সহ দলিল ও ডকুমেন্টস সমুহে তার স্বাক্ষর আছে। জাকারিয়া সিটির জায়গা সাউথ ইস্ট ব্যাংকে মর্টগেজ ছিলো, উত্তরাধিকার হিসেবে তা এখনো আছে। অতএব, নকল জাবেদা বলতে শামসুল ইসলাম কিংবা প্রতিবেদক কোন স্বার্থে কি বোঝাতে চেয়েছেন তা-ই রহস্যজনক।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ডাঃ জাকারিয়া হোসেন গংরা প্রথম চুক্তিপত্রে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে পাওয়ার অব এটর্নি (ক্ষমতা অর্পন) প্রদান করেন এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম, এমডি সাঈদ চৌধুরী ও মার্কেটিং ডিরেক্টর আহমদ আলীকে। পরে ২০১৪ সালের ১৮মে এই তিন জনকে ডাঃ জাকারিয়া গংদের পক্ষে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় হস্তান্তরের যাবতীয় ক্ষমতা উল্লেখ করে আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদন করা হয়।
রিপোর্টে এই কথাটি উল্লেখ করা হলেও প্রতিবেদক শামসুল ইসলামের কাছে জানতে চাননি, আমমোক্তারনামা ব্যাক্তি মালিকানার জন্য দেয়া হয়েছিলো নাকি কোম্পানির পক্ষে দেয়া হয়েছিলো? যেহেতু এটা কোম্পানির নামে হস্তান্তরের জন্য কোম্পানী প্রতিনিধি হিসেবে দেয়া হয়েছিলো, সেহেতু যত শীঘ্র সম্ভব কোম্পানীর নামে রেজিস্ট্রি করে সকল বিনিয়োগকারিদের মালিকানা নিশ্চিত করা ছিল তাদের দায়িত্ব। কিন্তু শামসুল ইসলাম কোন মতলবে তা থেকে বিরত ছিলেন? শামসুল ইসলামের নানা টালবাহানায় দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত ও বিনিয়োগকারিদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হবার পর বিজ্ঞ আইনজীবিদের সহায়তা ও পরামর্শ নিয়ে আমমোক্তারপ্রাপ্ত অন্য প্রতিনিধিগন তা কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তখন পরিচালনা পরিষদের পরামর্শ মোতাবেক চেয়ারম্যান শাহ জামাল ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সিরাজ হক কোম্পানির পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারিদের স্বার্থ ও আমমোক্তারনামার আমানত রক্ষা করলেন যারা, তারা প্রতারক হিসেবে ভূষিত হলেন এবং যিনি আমানতের খিয়ানত ও ভূমি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালালেন তিনি মহৎ সাজলেন। এ ধরনের ভয়ংকর সাংবাদিকতা কার স্বার্থে কিসের বিনিময়ে হয়েছে সচেতন মানুষ মাত্রেই তা জানতে চান।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, শামসুল ইসলামকে না জানিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে ঋন নেয়া হচ্ছে। অথচ ১০ নভেম্বর ২০১৪ ইং তারিখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে বিনিয়োগ তথা ঋন গ্রহনের প্রথম যে আবেদন করা হয়, তাতে কোম্পানির চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও শামসুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন। ব্যাংক ঋনের ব্যাপারে বাংলাদেশে ও বিলেতে বিনিয়োগকারিদের একাধিক সভায় ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার আলোকে পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, মার্কেটিং ডাইরেক্টর ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তাই শামসুল ইসলামের বরাত দিয়ে প্রতিবেদকের কল্পিত প্রতারনার গল্প রহস্যজনক ।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে কোম্পানির কাজে যুক্তরাজ্যে গিয়ে শামসুল ইসলাম জানতে পারেন প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রবাসী এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছেন এবং সমুদয় টাকা কোম্পানির এমডির মাধ্যমে আনা হয়, যা তাকে জানানো হয়নি। অথচ বিনিয়োগকারিগন লিখিত চুক্তি মোতাবেক বিনিয়োগ করেছেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বে তাদের অর্থ প্রেরন করেছেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের প্রতিটি কিস্তির পৃথক পৃথক রশিদ দেয়া হয়েছে। এই টাকা কোম্পানির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, ব্যাংক একাউন্টে শামসুল ইসলাম অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন এবং পরিচালনা পরিষদের প্রতিটি সভায় লিখিতভাবে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। কাজেই বিদেশ গিয়ে তিনি জেনেছেন কথাটি নিরেট মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর।
এক্সেলসিয়র সিলেটের প্রায় প্রতিটি সভায় কম্পিউটারাইজড হিসাব নিকাশ প্রদান করা হয়, যা কোম্পানীর রেজ্যুলেশন দেখলেই প্রতিবেদক নিশ্চিত হতে পারতেন। এক্সেলসিয়র সিলেটের সাধারন সভায় শামসুল ইসলাম সহ অন্যান্য বিনিয়োগকারিদের উপস্থিতিতে কোম্পানীর সূচনা থেকে তখন পর্যন্ত আয়-ব্যয় উপস্থাপন করেন অডিট ফার্ম প্রতিনিধি একাউন্টেন্ট প্রদীপ কুমার সাহা। এরপর থেকে বোর্ড সভা ও সাধারন সভায় সকল বিনিয়োগকারির নাম ও প্রদত্ত অর্থ এবং কোম্পানীর সমুদয় আয়-ব্যয় যথানিয়মে উপস্থাপন এবং অডিট ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষা সম্পাদন করা হয়। অথচ শামসুল ইসলাম নাকি কোন হিসাব নিকাশ পাননি। এরকম ডাহা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও প্রবাসী বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করার হেতু কি?
এখানে আরো উল্লেখ্য যে, এক্সেলসিয়র সিলেটের সভায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন কানুন সম্পর্কে সকলকে অবহিত করার জন্য প্রফেশনাল অভিমত নেয়া হয়েছে। তারা বোর্ড সভায় উপস্থিত হয়ে এবং লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সাধারন সভায় উপস্থিত বিজ্ঞ পরামর্শক বাংলাদেশ কোম্পানী আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে উপস্থিত বিনিয়োগকারিদের প্রশ্নেরও জবাব দেন। তিনি ব্যাংক ঋনের ক্ষেত্রে পারসোনাল লায়াবিলিটি ও কোম্পানির লায়াবিলিটি সহ আইনগত বিভিন্ন দিক বিশ্লেষন করেন। যাদের টিন ও ট্যাক্স ফাইল এখনো তৈরি হয়নি তারা কোম্পানী হাউজে নাম রেজিস্ট্রির পূর্বে তা সম্পন্ন করারও তাগিদ দেন।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রবাসী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে উচ্চশিক্ষিত মেধাবী নতুন প্রজন্মের প্রবাসিদেরকে স্বদেশমুখী করার সফল প্রয়াসে এক্সেলসিয়র সিলেট যেখানে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে, সরকার ও পর্যটন কর্পোরেশনের শীর্ষ ব্যক্তিরা সরেজমিন পরিদর্শন করে মুগ্ধ হচ্ছেন, সেখানে এধরনের মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষ প্রসুত সংবাদ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কারন নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও প্রতিবন্ধক। আমরা এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সকল প্রকার অপ-প্রয়াস থেকে নিবৃত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই।




