

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেটে কিছুটা এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় ও মামলার ফলে অনেকটাই দৌড়ের উপর রয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (৫ জানুয়ারির নির্বাচন) বর্জন করেছিল বিএনপি। ওই সময় সিলেটসহ সারাদেশেই আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা অগুনতি মামলার আসামি হন। সেসব মামলার অনেকগুলো এখনও চলমান।
সেসব মামলার ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই সিলেটে আরো অসংখ্য মামলার ফাঁদে পড়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন মামলায় জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। এছাড়া ‘নাশকতার চেষ্টা’ চালানোর অভিযোগ এনেও দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ ‘গায়েবি মামলা’ (যে ঘটনা ঘটেনি, সেই ঘটনায় মামলায়) দিয়ে হয়রানি করছে নেতাকর্মীদের।
গত বুধবার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের ২৪ নেতাকর্মীকে একটি মামলায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফারুক আহমদ, জেলা বিএনপির সদস্য ওয়ারিছ আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, যুগ্ম সম্পাদক দুলাল রেজা প্রমুখ।
এছাড়া গত বৃহস্পতিবার নগরীর জালালাবাদ থানার একটি মামলায় আরো ১২ নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, অসংখ্য মামলার আসামি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন গ্রেফতার হওয়ার শঙ্কায় রাতে বাসা-বাড়িতে থাকাটা নিরাপদ মনে করছেন না। তারা আত্মীয়স্বজনদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে থাকছেন।
বিএনপির অভিযোগ, তাদেরকে এখন রাজনৈতিক কর্মসূচিও পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতিকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসব নেতাকর্মী এখন কারান্তরীণ রয়েছেন।
এদিকে, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন অসুস্থ। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে রয়েছেন। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বদরুজ্জামান সেলিম। গেল সিটি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তার বরখাস্তের আদেশ মৌখিকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও লিখিতভাবে কোনো নির্দেশনা দেয়নি কেন্দ্রীয় বিএনপি। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিয়ে চলছে নগর বিএনপি।
এরকম অবস্থায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে বিএনপি কিছুটা এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলা-গ্রেফতারের পরও তারা শক্তিশালী অবস্থানে আছেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত্ সাদেক সিলেটভিউকে বলেন, ‘একের পর এক মামলা, গণগ্রেফতারের পরও সিলেটে বিএনপি অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমরা আশা করেছিলাম গায়েবি মামলা হবে না, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। আমাদের নেতাকর্মী বাসা-বাড়ি তো দূরের কথা, এলাকায়ও থাকতে পারছে না।’



