সিলেটের রাস্তায় এবার নারী ট্রাফিক পুলিশ


নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীতে এবার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সাথে সংযুক্ত হলো নারী ট্রাফিক পুলিশ। সোমবার থেকে নগরীতে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ১১ জন নারী ট্রাফিক পুলিশ। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন-ট্রাফিক সার্জেন্ট হৈমন্তী সরকার। মাঠে নেমেই তারা রাস্তার যানজট নিরসনের পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন যানবাহনের কাগজপত্র।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমেদ জানান, নতুন হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেমেছেন নারী ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। আধ্যাত্মিক এ নগরীতে নারী ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম সফল করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, নারী পুলিশ সদস্যরাও অর্পিত দায়িত্ব গুরুত্বের সাথে পালন করছেন। সিলেট নগরীর রাজপথের শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা দক্ষতার পরিচয় দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নারী ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে সিলেটের নারী নেত্রীরা স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সিলেটে নারীর অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে এটি নয়া দিগন্তের সূচনা করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক পূর্বে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগে নারী পুলিশ সদস্যের সংযোজন ঘটে। রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি স্থানে নারী ট্রাফিকের কর্মকান্ড প্রশংসিত হওয়ায় সিলেটেও ট্রাফিক পুলিশের নারী সদস্যদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। রাজপথ সামলাতে গতকাল সোমবার থেকে কাজ শুরু করেন তারা। যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশী করতেও দেখা যায় তাদের। স্কুটি নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়িয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের নারী সার্জেন্ট হৈমন্তী সরকার।
নগরীর নাইওরপুল এলাকায় দেখা যায়, একজন নারী ট্রাফিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুরুষ সহকর্মীদের সাথে রাজপথ সামলানোর ভাগীদার এ নারী ট্রাফিককে দেখে অনেকেই চমকে ওঠেন। এটাকে নারী-পুরুষের সমতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন পথচারীরা।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সিলেট বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট সৈয়দা শিরিনা আক্তার নারী ট্রাফিক পুলিশের যাত্রা শুরু হওয়াকে সিলেটে নারীর অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর মাধ্যমে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীর সক্ষমতাকে প্রমাণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা মুকুল সিলেট নগরীর রাজপথে নারী ট্রাফিক পুলিশের যাত্রাকে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দেশে নারী সার্জেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ পুলিশে নারী পুলিশের অভিষেক ঘটে ১৯৭৪ সালে।




