

নিউজ ডেস্ক: ১৯৪৭ সালের পরে আমার বাবা মায়ানমার থেকে কূটনৈতিক পদ্ধতিতে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। ১৯৫২ সালে আমার পিতা চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকার গোলাপ সিন লেইনে একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠা করেন। ওই হোটেলের নাম ছিল পাকিস্তান হোটেল বর্তমানে ইউনাইটেড বোর্ডিং নামে পরিচিত। আমার জন্ম ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামে নন্দনকানন পাকিস্তান হোটেলেই। এ হোটেলের চতুর্থ তলায় আমরা বসবাস করতাম।
আমি ১৯৬১ সালে ইংলিশ মিডিয়াম হিল সাইড স্কুলের কেজি ওয়ানে ভর্ত্তি হই ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত এই স্কুলে অধ্যায়নরত ছিলাম।

১৯৬৬ সালে জায়গা জমি মোনসেফ কোর্টে বিচারাধীন একটি মামলার নিষ্পত্তির ধার্য্য তারিখের দিন ছিল,উনাদের শাস্তি নিশ্চিত জেনে আমার পিতাকে জাকের হোসেন মাস্টার, ফজল করিম ও মোহাম্মদ সোনারপাড়ার ডেইলপাড়া পাহাড়ের দ্বারে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জালিয়াপালং ইউনিয়নের লম্বরীপারার জনৈক মোজাহের বলী ওই মামলার বাদী হন এবং প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ প্রকাশে রশিদ মিয়া। এই মামলায় তিন আসামীর যাবতজীবন জেল হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জেল থেকে পালিয়ে যায় তিন আসামী। এদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়। একজন এখনও জীবিত রয়েছে।
আমার পিতার মৃত্যুর পর পরিবারে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের আত্নীয় স্বজনরা আমাদের বঞ্চিত করে হোটেলটি দখল করে নেয়। পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে চট্টগ্রামের তৎসময়ের জেলা প্রশাসক সহ বিশিষ্ট নাগরিকরা আমাদের নন্দনকাননের বাসায় একাধিক বৈঠক করেন।কিন্তু এইসব বৈঠকে কোন সমাধান হয়নি। বরং আমাদের পরিবারের বিরোধীয় আত্নীয়দের হাতে নিয়ে তৃতীয় একটি পক্ষ হোটেলটি তাদের দখলে নিয়ে নেয়।

এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে পড়ে কক্সবাজার চলে আসি। কক্সবাজার শহরের ৬ নং ঘাটে আমাদের ডিজেল চালিত সমিল ও কাটের বাড়ী ছিল। এবং উখিয়ার জালিয়াপালংয়েও আমাদের বাড়ী ছিল। আমরা পরিবারের কিছু সদস্য ৬ নং ঘাটের বাড়ীতে এবং কিছু সদস্য জালিয়াপালং এর বাড়ীতে থাকার সিদ্ধান্ত নিই। আর আমি শহরের বাহারছড়া এলাকার নজির মিয়ার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠি। স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এয়ারপোর্ট রোডে ১০ টন বরফকল স্তাপন করি। দক্ষিণাঞ্চলে কাটের ব্যবসা করি। মাছের ব্যবসা করেছি। কণিকা মিডিয়া কালার ল্যাব করেছি। দিন দিন এসব ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছি। একসময় সব ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে হোটেল মোটেল জোনে ৪২ শতক জমি ক্রয় করে সোনালী ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠা করি।
আমি ১৯৬৯ সালে কক্সবাজার মহকুমা স্কুলে ভর্ত্তি হয়, যেটি বর্তমানে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
স্কুলে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৭০ সালে আনসার ট্রেনিং গ্রহণ করি। ওই সময়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য কামাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জয় বাংলা বাহিনীতে যোগদান করি। পিটিআই মাট ছিল আমাদের ট্রেনিং ক্যাম্প।
আমি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে ফেলি এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করি। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলাম।
১৯৭২ সালে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাশ করি। ১৯৭২ সালে কক্সবাজার কলেজে ভর্ত্তি হয়। কিছুদিনের জন্য চট্টগ্রাম চলে যায় এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্ত্তি হয়।১৯৭৩ সালে এলাকায় এসে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি।
১৯৮১ সালের ১২ মার্চ কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী পরিবার, বৌদ্ধ মন্দির এলাকার গোলাম মওলা চৌধুরীর কন্যাকে বিয়ে করি।
আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আমি উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। যথারীতি আওয়ামীলীগের প্রাণপুরুষ একেএম মোজাম্মেল হক সাহেবের নির্দেশে সবসময় একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সরব থেকেছি।
২০০৩ সালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, প্রয়াত জননেতা একেএম মোজাম্মেল হক ও সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও মেয়র মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির সহসভাপতি।
আমি কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ কতৃক গঠিত উখিয়া-টেকনাফ সাংগঠনিক টিমের টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
২০০৩ সালেও জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক থাকাকালীন সময়েও আমি উখিয়া-টেকনাফে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব পালন করেছি।

আমার ছোট ভাই রশিদুল আলম রুবেল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। ১৯৮৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাজিরহাট কলেজের নির্বাচিত জিএস আমার ছোটভাই রশিদুল আলম রুবেলকে শিবিরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নির্মম নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেন। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা, আমাদের শান্তনা দিতে আমাদের ঘরে আসেন।
২০০৯ সালে আমার মালিকানাধীন হোটেলে মেহমান হয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।
১৯১৭ সালে মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করি। এই কমিটি নেতৃত্বে উখিয়া-টেকনাফে একাধিক সমাবেশ করি। সর্বশেষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বৃহত্তর সমাবেশ করি। আওয়ামীলীগে আমার অবদান বিবেচনায় আমাকে আহবায়ক করে উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান।
বৈশ্বিক দূর্যোগ করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমার আবাসিক হোটেলটি মার্চের ২৭ তারিখ ডাক্তারদের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার জন্য ছেড়ে দিই। তাদের জন্য ৪ মাস থাকা ও খাবারের যাবতীয় ব্যবস্থা করি।
তবে এতে কতিপয় অর্থ ও ক্ষমতা লোভী ব্যক্তির মনঃক্ষুণ্ণ হয়। তারা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে নানা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের আশ্রয় নেয়। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ চক্রটি টাকা দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে আমাকে রোহিঙ্গা নেতা হিসেবে আখ্যায়িত
করে আমার জন্য দোয়া মাহফিল আয়োজন করে। ওই মোনাজাতেই উল্লেখ আছে, পালংখালীর এক নেতা তাদের দোয়া মাহফিল করতে বলেছেন। এতে প্রতিয়মান হয়, এটি একটি পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্র।
অথচ মূর্খরা প্রকৃত সত্য না জেনে মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারী ও মিথ্যাচার কারীদের জানা উচিত, মিথ্যা ক্ষণস্থায়ী, সত্য চিরস্থায়ী। মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে সত্যের সাথে যুদ্ধ হয় না, যুদ্ধ করে ঠিকাও যায় না।
আমি আমার বিরুদ্ধে প্রচারিত উক্তরুপ জঘন্য মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। এহেন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশি নাগরিক হয়েও রোহিঙ্গা পুত্র হিসেবে বেঙ্গ করাই আমি ক্ষিপ্ত।। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,আমার নামে যারা অপপ্রচার এবং বেঙ্গ করেছে তাদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগর কোনো কার্যালয় না থাকায় ২০১১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন আপার নির্দেশে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সিংহভাগ নিজের টাকাই নির্মাণ করি।।
প্রতিবাদকারী
শাহ আলম চৌধুরী রাজা
সহ-সভাপতি
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ।




