নদীর দু’তীরে অবৈধ ভরাট হয়ে গেছে জুড়ী নদীর তলদেশ


আব্দুর রহমান শাহীন (জুড়ী) মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জুড়ী নদীটি দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নদীর দু’পাশে চর জেগে উঠেছে।
এ সুযোগে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যাক্তি তাদের নিজ¯¦ লোকবল নিয়ে নদীর দু’পাশে জেগে উঠা চরে মাটি ভরাট করে পাকা ঘর-বাড়ি ও দোকানপাট অবৈধভাবে নির্মাণ করে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য।
এ নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত শুরু হলেই সঙ্গে সঙ্গে নদীতে পানি ফেঁপে ফুলে উঠে। এ উপজেলার বহু ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট তলিয়ে জনসাধারণের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। যার ফলে, অত্রাঞ্চলের জনসাধারণকে এ ক্ষয়ক্ষতির মাসুল দিতে হয় দিনের পর দিন, বছরের পর বছর।
জুড়ী নদীটির উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জমপই পাহাড়। সেখান থেকে সৃষ্টি হয়ে এ নদীটি জুড়ী উপজেলার ফুলতলা, সাগরনাল, গোয়ালবাড়ি ও জায়ফরনগর সহ কয়েকটি ইউনিয়ন হয়ে এশিয়া মহাদেশের ঐতিহ্যবাহী হাকালুকি হাওরের মধ্য দিয়ে জেলার কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
বর্তমানে এ নদীটির এমন অবস্থায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনঃখনন করতে পারলে অত্রাঞ্চলের জনসাধারণের কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে। ১৯৭৯সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুড়ীতে শুভাগমন করেন এবং জুড়ী নদীর পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন শেষে নিজে খনন কাজে অংশ নেন।
নদীটি পুনঃখনন করে জিয়াউর রহমান তৎকালীন বৃহত্তর হাকালুকি হাওরের বিশাল এলাকা বোরো চাষের আওতায় নিয়ে আসার ফলে অত্রাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক সেঁচ সুবিধা পেয়েছিল। তখন কৃষি ক্ষেতে এসেছিল অভাবনীয় সাফল্য। এ নদীটি দিয়ে একসময় বড় লঞ্চ, নৌকা চলাচল করত।
ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট, আজমিরিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা বাণিজ্য ছিল নৌপথ কে ঘিরে। অতচ এখন শুষ্ক মৌসুমে মানুষ পায়ে হেঁটে নদীর পার হয়। কালের প্রবাহে এ নদীটি দিরে দিরে ভরাট হয়ে পরিণত হয়েছে খালে ।
জুড়ী উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতি অনেকটাই জুড়ী নদীকে ঘিরে। কিন্তু এই নদীটির দূরাবস্থার ব্যাপারে বার বার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করার পরও বিগত সরকারগুলোর উদাসীনতার কারণে প্রায় ৩৭বছর অতিবাহিত হলেও জুড়ী নদীটির পুনঃখনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জুড়ী নদীর বিশাল অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, নদীটির অস্থিত্ব একেবারে মুছে যাচ্ছে । কোনো কোনো স্থানে এমন অবস্থা হয়েছে যে, এটি এক সময় গভীর নদী ছিল কিনা তা সহজে বোঝার উপায় নেই। জুড়ী শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে জুড়ী নদী ।
এ শহরের প্রাণকেন্দ্র জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জুড়ী নদীর দু’ধারে তাকালে দেখা যাবে দখলদাররা নদীর বুক পর্যন্ত দখল করে নিয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে নদীর দু’পার অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে দোকানপাঠসহ অট্রালিকা নির্মাণ করে নিচ্ছে।
কেউ কেউ আবার ভূয়া কাগজপত্র ও নকল দলিল করে ভোগ দখল করছেন। জুড়ীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল জুড়ী নদীটি দখলমুক্ত করে নদীটি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনঃখনন করা হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত ছিল কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা কার্য কর হয়নি।
নদীটি পুনঃখনন করা হলে বৃহত্তর হাকালুকি হাওরের প্রায় লক্ষধিক একর ভূমি কৃষি সেঁচের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তাই শীঘ্রই নদীটির দু’পাড়ের অবৈধ ভূমি দখল মক্ত করে নদীটি পুনঃখনন অতীব জরুরী বলে সচেতন মহল দাবী করছেন।




