লিড নিউজ

বিয়ানীবাজারে টিলা ধসের আশংকা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সম্পতি ভারী বর্ষণে বিয়ানীবাজার উপজেলায় টিলা ধসের আশংকা করছেন এলাকাবাসীর ।

অবৈধভাবে টিলার মাটি কেটে নেয়ায় স্থানীয়দের বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় রাত জেগে থাকেন টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাসকারীরা। সম্প্রতি ভারিবর্ষণে উপজেলার বেশ কিছু এলাকার টিলায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়িপাড়া, সুপাতলা, নিদনপুর, মোল্লাপুর, মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম, ফেনগ্রাম, ছোটদেশ, ভাগন ও চন্দগ্রাম এলাকা, মোল্লাপুর ইউনিয়নের মোল্লাপুর, পাতন, আবদুল্লাহপুর এবং লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ, আষ্টসাঙ্গন, লাউতা, পাহাড়িয়াবহর, বাউরভাগ, লাল বাউরভাগসহ টিলাবেষ্টিত এলাকায় অবৈধভাবে টিলার মাটি কাটা হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব টিলার মালিকরা অবৈধভাবে কেটে টিলার মাটি অন্যত্র বিক্রি করছেন।

পৌরসভার নিদনপুর এলাকার গিয়ে দেখা যায়, বিশাল টিলার পাদদেশে বসবাস করছেন আমিরুল ইসলামসহ তার চার ভাই। বসতঘরগুলোর লাগোয়া টিলার চারপাশের মাটি কেটে অন্যত্র নেয়া হয়েছে।

গত কয়েকদিন আগে ভারিবর্ষণে টিলার মাটির বিশাল অংশ ধসে আমিরুল ইসলামের বসতঘর পর্যন্ত আসে। এতে তাদের বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়। আমিরুল ইসলাম জানান, তারা পাঁচ ভাই এ টিলার মালিক। এক মাটি ব্যবসায়ী টিলার সব মাটি কেটে নেয়ার কথা বললেও কেটে আমাদেআংশিক র ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।

টিলার ওপর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন মোল্লাপুর ইউনিয়নের মোল্লাপুর গ্রামের প্রবাসী আবদুল বাছিত বলেন, তার প্রতিবেশী অবৈধভাবে ১৬ ফুটের বেশি গর্ত করে টিলার মাটি কেটে নেয়ায় তারা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। ভারিবর্ষণে টিলার মাটি ধসে পড়ছে।

তাদের বসতঘরের কাছে ফাটল দেখা দেয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তিনি এর প্রতিকার চেয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর গত ২৬শে এপ্রিল একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরও টিলার মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।

মুল্লাপুর গ্রামের যুবক আশরাফূল আলম রিমন বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে আমাদের গ্রামের বেশ কয়েকটি টিলা ঝুকিতে রয়েছে।কারণ এই টিলা গুলোতে আগে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা হয়েছে। আমাদের গ্রামের মানুষ এখন টিলা ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া টিলার মাটি কাটা অবৈধ। টিলার মাটি কাটা বন্ধ করতে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছি। এখন টিলার ওপরে ও নিচে যদি ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী থাকেন তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের খোঁজ নিয়ে আমরা সরানোর ব্যবস্থা করবো। টিলার মাটি কাটার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Back to top button