রোহিঙ্গাদের দুঃখের যেন শেষ নেই: ওপারে মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতা, এপারে লুটেরা


মিডিয়া ডেস্ক : মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের দুঃখের যেন শেষ নেই। অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে চোখের পানি ফেলে স্বদেশ ত্যাগি দুর্ভাগা মানুষগুলো এপারে পা ফেলেই নতুন করে শিকার হচ্ছে নিষ্ঠুর-নির্মমতার।
এমনকি ‘মগের মুল্লুক’ নামে পরিচিত দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে রোহিঙ্গারা পড়ছে লুটেরাদের কবলে। বাংলাদেশ সীমান্তে লুটেরার দল হামলে পড়ছে দেশ ছেড়ে আসা হতভাগা রোহিঙ্গাদের উপর।
স্বদেশ থেকে নিজের গৃহপালিত গরু, মোষ এবং ছাগলগুলো নিয়ে আসার সময় লুটেরার দল ছিনিয়ে নিচ্ছে অসহায় রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে। পলায়নপর রোহিঙ্গারা এভাবেই নিজেদের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা সহ সর্বস্ব খোয়াচ্ছে।
অপরদিকে বাংলাদেশ সীমান্তের একশ্রেণীর লোক মিয়ানমার থেকে কম টাকায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নৌকা যোগে নিয়ে আসার প্রলোভনে ফেলে সাগরের বুকে জিন্মি করে আদায় করছে কাড়ি কাড়ি টাকা। এমনকি এপারে অর্থশালী রোহিঙ্গাদের আনার পর তাদের আটকিয়ে রেখে বিপুল অংকের অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে অনুপ্রবেশকারি রোহিঙ্গাদের এসব দুঃখ দুর্দশার নানা কাহিনী শুনা গেছে। সেই সাথে সীমান্তে রোহিঙ্গাদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া সহ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আনার সহযোগিতাকারি ২৩ জনকে উখিয়া ও টেকনাফ থানা পুলিশ আটক করেছে।
শুক্রবার বিকালে উখিয়া থানা ভবনের নিচে কাঁদছিলেন লাইলী বেগম নামের এক হতভাগি নারী। এই রোহিঙ্গা নারী সাতটি সন্তান আর নিজের গৃহপালিত ৯টি গরু নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেন গত মঙ্গলবার।
উখিয়া থানা ভবনে লাইলী বলেন-‘আমার ৯ টি গরু ও সন্তানদের নিয়ে পাহাড়ি ঢালু পথ পাড়ি দিয়ে আমি এপারে পার হই। উখিয়া সদর উপজেলা স্টেশনের পুর্বে গরু নিয়ে আসলে স্থানীয় তিনজন আমার গরুগুলো কেড়ে নেয়। ওরা তিনজনের নাম শাকিল, মিন্টু ও আজিজুল হক।
রোহিঙ্গা নারী লাইলী আরো জানান, তার স্বামী এসব গরু হারিয়ে আবার ফিরে গেছেন মিয়ানমারে পুড়া মাটির ভিঠায়। আমার সন্দেহ, গরুতো হারিয়েছি নাকি এবার স্বামীও হারালাম কে জানে? এসময় তার কোলে ও পার্শ্বে ৬টি শিশু সন্তান বসে ছিল।
উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান- সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এপারে আসার সময় লুটেরার দল রোহিঙ্গাদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে এটা সত্যি কথা। এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে শাকিল নামের এক তরুণকে আটকও করা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগে ৮ জন দালালকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
ওদিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলছে রীতিমত ‘আরেক ডাকাতি। ’ শাহপরীর দ্বীপের বেশ কিছু লোক মিয়ানমারে নৌকা নিয়ে গিয়ে কম টাকার বিনিময়ে ‘মানবিক সাহায্যের’ নামে রোহিঙ্গাদের এপারে আনার প্রলোভনে ফেলে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। এমনকি এসব সমাজবিরোধী লোকজন রোহিঙ্গাদের এপারে এনে ‘থাইল্যান্ডের জঙ্গলের কাহিনীর’ মত করে আটকিয়ে রেখে টাকা আদায় করছে।
শাহপরীর দ্বীপ সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সোনা আলী শুক্রবার গণমাধ্যমকে জানান- রোহিঙ্গা আনার কাজে জড়িত এসব লোকজন সবাই সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারি দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলাও রয়েছে। জিয়াবুল এবং সৈয়দ নামের দুই মানবপাচারকারি ডজন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আবারো নেমেছে মানবপাচারে।
জানা গেছে, ২০১৩-২০১৪ সালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে সাগর পথে মানবপাচারে জড়িত পাচারকারী দল সবাই এখন মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের এপারে আনার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এমনকি সাগরে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকাগুলো পর্যন্ত এখন রোহিঙ্গা পরিবহণে ব্যস্ত।
টেকনাফ থানার ওসি মোঃ মাঈনুদ্দিন খান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের এপারে এনে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহপরীর দ্বীপ থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।




