ছাতকে ইয়াকুব হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা

তানভীর আহমদ জাকির: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে গত ৬ নভেম্বর দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা মুয়াজ্জিন ইয়াকুব আলীকে হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ নভেম্বর শনিবার বিকালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজার সংলগ্ন এ সংবাদ সম্মেলন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আনোয়ার হোসেন। যুবনেতা আতাউর রহমান এমরান ও আশরাফুর রহমান এনামের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরি বকুল, গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বৃন্দ,গোবিন্দগঞ্জ অনার্স ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন, শামস উদ্দিন কাছা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক, ফজর উদ্দিন, রহমান চৌধুরি, আবুল লেইছ, মো. কাহার, আবদুল লতিফ মাস্টার, সাবেক মেম্বার নুর আলম, শামসুল হক, মুজিবুর রহমান, আরশ আলী মাস্টার, সদরুল আমিন সোহান, হুসাইনুজ্জামান লিটন, তাজ উদ্দিন, আবু জাহিদ মো. আবদুল গাফ্ফার, সাবেক ইউপি সদস্য আলী আশরাফ তাহিদ, আফরোজ বখত, জসিম উদ্দিন, গৌছ উদ্দিন আলা উদ্দিন, সাবেক মেম্বার সমসির আলী, আবদুস ছোবহান, দিদার আলম, আবদুল খালিক মনাই, সমর উদ্দিন, জইন উদ্দিন আহার, কবির উদ্দিন, সাবেক মেম্বার আজাদ মিয়া প্রমুখ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন, গোবিন্দগন্জে শুধু ছাতক নয় বিশ্বনাথ থানার আশপাশ এলাকার মানুষ ও বসবাস করে অাসছে, এই এলাকার একটি সুনাম রয়েছে এলাকার কোন শিক্ষার্থীর ডিগ্রি-অনার্স- মাষ্টার্স ও ফাজিল শ্রেণীতে পড়ালেখার মান উন্নয়নে এলাকাবাসী সোচ্চার ও সহযোগীতা করে মেধাবীদেরকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়। ইয়াকুব আলী হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, গত ৬ নভেম্বর পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করা হয় শুধু তাই নয় তার লাস গুম করার ও চেষ্ঠা করে হত্যা কারীরা পরে এলাকাবাসী প্রশাসনের সহযোগীতায় তার লাস উদ্ধার করেন। সন্ত্রাসীরা গোবিন্দগন্জে বিভিন্ন অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছে এবং মানুষের উপর জবরদখল-জবরদস্তি করে জুলুম করতেও দ্বিধাবোধ করেনা, এলাকাবাসী সহ ছাতকের সচেতন নাগরিক সমাজ তাদের বিরুদ্বে কোন কথা বললে হুমকি সহ খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে বন্ধ করে দেয়, ইয়াকুব আলী হত্যার পর থেকে এলাকাসহ বিভিন্ন সচেতন নাগরিকরা সজাগ হয়েছে, এই অন্যায়কারী-জুলুমকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্বে ফোশে উটেছে, তারা কোন নির্দিষ্ট এলাকার বিরুদ্বে অবস্হান নিয়ে প্রতিবাদ করছেন না বরং গুটি কয়েক জন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্বে কথা বলছেন, এভাবে চললে আগামী প্রজন্ম নিরাপদ ভাবে বসবাস করতে পারবে না, তাই এই সন্ত্রাসীদের আইনের আওয়াতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রসাসনের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি বক্তব্যে আরো বলেন, গোবিন্দগন্জ পয়েন্ট থেকে মটর বাইক, অটোরিকশা চুরি করে অাসছে এই গুটি কয়েক সন্ত্রাসীরা, এছাড়াও তারা সাধারন মানুষের কাছ থেকে জোর পূর্বক ভাবে টাকা চিন্তাই ও প্রবাসীদের জমি-বিটা দখল করে অাসছে তাদের বিরুদ্বে কথা বললে অত্যাচার জুলুম শুরু করে দেয় ও খুন-গুম করার হুমকি দিয়ে থাকে এবং গোবিন্দগন্জের কলেজে ছাত্রীদের উত্তাত্ত করে ইভটিজিং করেছে এবং কলেজ কতৃপক্ষের কাছে স্টাম্পে লিখিত মোচলেখা দিয়েও ছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরন থেকে বিরত থাকেনি হত্যাকারীরা, তাদের তান্ডবে গোবিন্দগন্জের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে কিন্তুু ইয়াকুব আলী হত্যার পর থেকে এলাকাবাসী ফুসে উটেছে এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে আইনের মাধ্যমে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসীদের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরাও এই হত্যাকারীদের বিচার চায়, তারা একত্রিত হয়ে প্রবাস থেকে এলাকাবাসীকে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করে আসছেন। সংবাদ সম্মেলন ও দোয়া মাহফিলের শেষের দিকে ইয়াকুব আলীর রুহে মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।




