কুলাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশী মাছ ভারতে রপ্তানী : একটি সফল গল্প


সুলতান মাহমুদ : কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দরদিয়ে হাজার হাজার কেজি বাংলাদেশে উৎপাদিত মাছ ভারতে রপ্তানী হচ্ছে। অর্জিত হচ্ছে লাখ লাখ ডলার বৈদেশিকমুদ্রা। সরকার পাচ্ছে লাখ লাখ টাকারাজস্ব। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সাত জনলাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সারা বছর প্রচুরপরিমান মাছ রপ্তানী করে লাভের মুখদেখছে।
ঐসব প্রতিষ্ঠানে শত শত মানুষেরকর্মসংস্থান হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলামৎস্য দপ্তরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে গুণগতমানসম্পন্ন মাছ রপ্তানী করে বিশ্বেবাংলাদেশে সম্মান অক্ষুন্ন রাখছে। অত্রএলাকার মাছচাষিরাও ভাল দামে মাছবিক্রি করতে পারছে রপ্তানিকারকদেরকাছে। এটা একটা সফলতার গল্প যাঅনেকেরই জানা।
কিন্তু এই সফলতার পেছনের গল্পটা একটুভিন্ন। সেই গল্পের শুরু ২০১৫ সালেরমাঝামাঝি সময়। কুলাউড়া উপজেলারবর্তমান মৎস্য অফিসার জানতে পারলেনচাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে দু একজন ভারতেমাছ রপ্তানী করছেন। কিন্তু তাদের মৎস্যঅধিদপ্তরের কোন লাইসেন্স নাই এবংমৎস্য অফিস থেকে কোন স্বাস্থ্যকরত্বসনদও নেননা।
কি পরিমান মাছ রপ্তানিহচ্ছে তার কোন তথ্যই মৎস্য অফিসজানেনা। সরকারের নির্ধারিত ফি না দিয়েএবং স্বাস্থ্যকরত্ব সনদ ছাড়া মাছ রপ্তানীকরার কারনে একদিকে সরকার রাজস্বথেকে বঞ্চিত হত অপরদিকেরপ্তানীকারকরাও গুনগত মান সম্পন্ন মাছরপ্তানী না করার কারনে ভারতেবাংলাদেশের মাছের মান নিয়ে নেতিবাচকমনোভাব ছিল।
রপ্তানীকারকরা অনেকসময় খারাপ মানের মাছ পাঠানোর কারনেপেমেন্ট না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হত।
মৎস্য অফিসার মোঃ সুলতান মাহমুদরপ্তানীকারকদের বোঝালেন নিয়ম মেনেলাইসেন্স নিয়ে, ফি দিয়ে মাছ রপ্তানিকরেন, কাস্টম ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদেরআইন মেনে রপ্তানি করতে বললেন। কিন্তুকে শোনে কার কথা। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনম্যানেজ করে অবৈধভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েরপ্তানিই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছিল।
মৎস্য অফিসার সুলতান মাহমুদ উপজেলাপ্রশাসন ও থানা পুলিশ এর সহায়তায়মোবাইল কোর্ট এবং অভিযান পরিচালনাকরে অনিয়ম বন্ধের চেস্টা করেন। কিন্তুচাতলাপুর কুলাউড়া থেকে প্রায় ৩৮ কিমিদূরে হওয়ার কারনে অবৈধ রপ্তানী বন্ধকরা যাচ্ছিল না। কাস্টমস এর উর্ধ্বতনকর্তৃপক্ষের কাছে লেখালেখি ও অভিযানঅব্যাহত রেখে চেষ্টা চালিয়ে যান মৎস্যঅফিসার। অবশেষে অনেক চেষ্টায় চারটিপ্রতিষ্ঠানকে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্সনেওয়াতে সক্ষম হয় মৎস্য বিভাগ।ইতোমধ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্যপরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রন থেকে বরফায়িতমাছের স্বাস্থ্যকরত্ব সনদ প্রদানের বিশেষক্ষমতা পেয়ে যান জনাব মাহমুদ।

এরপর মোটামুটি নিয়ম মেনে রপ্তানি শুরুহয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে জনাব মাহমুদ ছয়মাসের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে চলে যান। এরপরআবার রপ্তানিতে অনিয়ম শুরু হয় এমনকিপ্রায় তিন মাস ভারতে মাছ রপ্তানিপুরোপুরি বন্ধ থাকে। বুনিয়াদী প্রশিক্ষণথেকে ফিরে জনাব মাহমুদ আবার রপ্তানিচালুর উদ্যোগ নেন। অনেক চেষ্টার পর২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আবারনিয়মতান্ত্রিক মাছ রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমানেপ্রতি মাসে বিশ থেকে তিরিশ হাজার কেজিমাছ রপ্তানি হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ সুলতান মাহমুদ জানান, গত তিন মাসে কুলাউড়াউপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়েভারতে বরফায়িত রুই, কাতলা, তেলাপিয়া,পাঙাশ, কার্পিও, পুটি ইত্যাদি মাছ রপ্তানিহয়েছে চুয়ান্ন হাজার কেজি, বাংলাদেশবৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে এক লক্ষপঁয়ত্রিশ হাজার ডলার যা বাংলাদেশী টাকায়প্রায় এক কোটি আট লক্ষ টাকা, মৎস্যঅধিদপ্তর এর কোডে জমা হয়েছে এক লক্ষবত্রিশ হাজার পাঁচশত টাকা।এই পরিসংখ্যানদুই বছর আগেও ছিল প্রায় শুন্যের কোঠায়।মৎস্য অধিদপ্তরের বলিষ্ঠ উদ্যোগে মাছেরউৎপাদন ও রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবেইনশাল্লাহ।






