লিড নিউজ
বিয়ানীবাজারে লিটু হত্যা: গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ড আবেদন


নিজস্ব প্রতিনিধি : বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে গুলিতে নিহত লিটু হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার ৪ জনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, উদ্ধারকৃত রিভলবার লিটু হত্যায় ব্যবহার হয়নি এবং লিটুর মৃত্যু হয়েছে পাইপগান জাতীয় কোন অস্ত্র থেকে ছোঁড়া গুলিতে-ময়নাতদন্তে নিহত খালেদ আহমদ লিটুর মাথায় ছড়ানো অবস্থায় কার্তুজের গুলি পাওয়া যাওয়ায় এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ।
সিলেট ওসমানি হাসপাতালের মর্গ থেকে উদ্ধারকৃত গুলি জব্দ করে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাতে কলেজ উল্টো পাশের একটি দোকানের সামনে থেকে পয়েন্ট ৩২ রিভলবার উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক তিন ছাত্রলীগকর্মীর দেয়া তথ্যানুযায়ী অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
লিটুর পিতার দায়ের করা মামলার অন্য তিন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সম্ভাব্য বেশ কিছু স্থানে অভিযান তাদের সেখানে পাওয়া যায়নি। হত্যা কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান- চার আসামির ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতার করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
লিটু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। লিটু হত্যার পর বিয়ানীবাজার থানা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত যে একটি কক্ষের ভেতরে লিটুর সঙ্গে আসামিরা সবাই উপস্থিত ছিল। তাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। কক্ষের ভেতরের কেউ উদ্দেশ্য করে হোক আর অনিচ্ছায় হোক গুলি করলে তা লিটুর ডান চোখের ওপরে লাগে। পুলিশকে ফাহাদ জানায়- তাদের গ্রুপের নবাগত শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে দেখাতে সে রিভলবার ও পাইপগান নিয়ে আসে। তবে কার হাতের অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়েছে সে কথা ফাহাদ পুলিশকে জানায়নি। গ্রেফতার অন্য তিন আসামি কামরান, এমদাদ ও দেলোয়ার পুলিশকে একই তথ্য দিলেও কার গুলিতে লিটু খুন হয়েছেন সে তথ্য তারা চেপে যায়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন- লিটুর মাথায় ঢুকে কার্তুজের গুলি ছড়িয়ে পড়ে। ময়নাতদন্তে লিটুর মাথা থেকে উদ্ধারকৃত গুলি মঙ্গলবার রাতে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গুলি দেখে মনে হয়েছে ঘটনাস্থলে থাকা পাইপগান জাতীয় কোন অস্ত্র থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই সোমবার দুপুরে খালেদ আহমদ লিটুর গুলিবিদ্ধ লাশ বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শ্রেণি কক্ষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাতে লিটুর পিতা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫ জন আসামি করে একটি হত্যা মামলা (১৩)-১৭-০৭-১৭ দায়ের করেন। এ মামলায় আসামি দেখিয়ে পুলিশের হাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক পৌরসভার ফতেহপুর গ্রামের হোসেন আহমদের পুত্র ফাহাদ আহমদ (২৩), কসবা নাদুর গোষ্ঠীর মাসুক আহমদ এর পুত্র কামরান আহমদ (২৪), খাসা গ্রামের সাহাব উদ্দিনের পুত্র এমদাদুর রহমান (২২) ও দাসগ্রামের আবুল খালেদের পুত্র দেলোয়ার হোসেন মিষ্টুকে (২৮) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি দাসগ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের পুত্র শিপু (২৪), ফতেহপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র কাওছার (২৫) এবং নয়াগ্রামের কালা মিয়ার পুত্র সাহেদ আহমদ (২৪) পলাতক রয়েছে। পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত চার জনকে এ মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। আসামিরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।




