বিয়ে না করলে প্রেমিকের বাড়িতে আত্মহত্যা করবে প্রেমিকা


নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: নবীগঞ্জে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩দিন ধরে অনশন করছেন প্রেমিকা সেলিনা আক্তার শারমিন নামের এক যুবতি। প্রেমিকাকে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরিবারের ভয়ে মেনে নিচ্ছে না প্রেমিক ময়নুল ইসলাম নামের যুবক। এ নিয়ে এলাকায় রসালো আলোচনা সমালোচনার ঝর বইছে। বিয়ের দাবী মেনে না নিলে প্রেমিকের বাড়িতেই আত্মহননের হুমকি দিয়েছে প্রেমিকা। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে। জানা যায়, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও পয়েন্টস্থ মঈনুল টেলিকম এন্ড ডিজিটাল স্টুডিওর স্বত্ত্বাধিকারী ও কামারগাঁও গ্রামের গ্রামের আব্দুল খালিকের পুত্র মঈনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নুরগাঁও গ্রামের ক্ষুদে ব্যবসায়ী হুশিয়ার আলীর কন্যা সেলিনা আক্তার শারমিনের সাথে প্রেমের সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রায় ২বছর ধরে চলে তাদের প্রেম ও প্রনয় এই দাবী শারমিনের। মঙ্গলবার সরেজমিনে শারমিনের সাথে আলাপকালে সে সাংবাদিকদের জানায়, গত ২৩ এপ্রিল রোববার দুপুরে প্রথমেই মঈনুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে গিয়ে থাকে বিয়ের চাপ দিলে মঈনুল কোর্ট ম্যারেজের আশ্বাস দেয়। তবে এতে অসস্মতি জানায় শারমিন। এ নিয়ে প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাক বিতন্ডা হওয়ার পর অবশেষে মঈনুল তার এক ভাগিনাকে দিয়ে শারমিনকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। মঈনুল হয়তো ভাবছিল শারমিন তাদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবী জানালেই তার অভিভাবকরা হয়তো মান সম্মানের ভয়ে শারমিনকে মেনে নিতে পারেন। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে হিতে বিপরীত। উল্টো মঈনুলের অভিভাবকরা এ ঘটনায় যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। পরিবারের এমন অবস্থা দেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় প্রেমিক মঈনুল। তবে অনড় থাকে প্রেমিকা শারমিন। বাড়িতে পাঠিয়েই মঈনুল গা ঢাকা দিলেও মঈনুলের বাড়িতেই বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করে প্রেমিকা শারমিন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুকজনতার ভীড় জমে ওঠে। এ নিয়ে গত সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়াসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে মঈনুলের বাড়িতেই সামাজিক সালিশ বৈঠক বসিলে মঈনুল শারমিনের সাথে তার প্রেমের সর্ম্পককে অস্বীকার করে। এবং শারমিনকে বিয়ে করবেনা বলেও সোজা জানিয়ে দেয়! এতে বিচারকরা পড়েন বিপাকে। সামাজিক বিচারে কোন সমাধান না হওয়াতে মধ্য রাতে বিচারকরা যার যার পথে চলে যান। এনিয়ে শারমিনের অভিভাবকরা পড়েন চরম হতাশায়। আইনের আশ্রয় নিতে শারমিনের মা ঝরনা বেগম ছুটে যান নবীগঞ্জ থানায়। এ ব্যাপারে দীঘলবাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একাধিকবার এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।সুত্র:হবিগঞ্জসমাচার




