রোমানিয়ায় মানবপাচার বিরোধী অভিযান

রোমানিয়ায় মানবপাচার বিরোধী অভিযান।
মানবপাচার নির্মূল করতে রোমানিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ৩৫টি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী৷ বাংলাদেশ, সিরিয়া, আফগানিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে৷
সোমবার (২২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে রোমানিয়া সীমান্ত পুলিশ জানিয়েছে, হাঙ্গেরি সীমান্তবর্তী আরাদ, বিহোর, ব্রাইলা, ডলজ এবং ভরান্সিয়া কাউন্টিতে মানবপাচারে জড়িতদের ব্যবহার করা ৩৫টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে৷
অভিযানে সহায়তা দিয়েছে পশ্চিম রোমানিয়ার ওরাদিয়ার বর্ডার পুলিশের টেরিটোরিয়াল ইন্সপেক্টরেট সার্ভিস ও আরাদ সীমান্ত পুলিশ৷ অভিযান শেষে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মোট ৪৩টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে৷
পুলিশি তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অভিবাসী পাচারে জড়িত ছিলেন এমন ৩০ জন পাচারকারীকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিরা রোমানিয়া, অস্ট্রিয়া, ইটালি, সিরিয়া, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, নেপাল, মিশর, তুরস্ক এবং বেলারুশের নাগরিক৷
রোমানিয়ায় আসা অভিবাসীদের শেঙেন জোনে ও পশ্চিম ইউরোপে পাঠানোর পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে৷ সীমান্ত পার করানোর আগে চক্রটি অভিবাসীদের এসব বাড়িতে লুকিয়ে রাখত৷
অভিযানের পর বেশ কয়েকটি যানবাহন শনাক্ত করার তথ্য দিয়েছে সীমান্ত পুলিশ৷
অভিযানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কারিগরি ও ফরেনসিক ব্যুরো এবং রোমানিয়ান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন ডিরেক্টরেট সহায়তা দিয়েছে৷
চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে সীমিত পরিসরে ইউরোপে অবাধ চলাচল অঞ্চল শেঙেন জোনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে রোমানিয়া। আপাতত আকাশপথেই সেই সুবিধা পাচ্ছে দেশটি৷ শেঙেনে জোনে যুক্ত হতে গেল বছর থেকে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে বুখারেস্ট৷
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইনফোমাইগ্রেন্টসকে জানিয়েছে, গত বছর তারা নিজস্ব এস্কর্ট দিয়ে এক হাজার ২২২ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এসব অভিবাসীদের মধ্যে ৪০০ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন৷




