লিড নিউজ

স্কুল শিক্ষিকার ঘুমন্ত ছবি ফেসবুকে ভাইরাল: অতপর…

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকার টেবিলে মাথা রেখে ঘুমের ছবিটি ফেসবুকে ঝড় তুলেছে। পক্ষে-বিপক্ষে ফেসবুকে ঝড় উঠলে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষিকার ভাগ্যে তিরস্কার জুটলেও পরে মুল বিষয় জানাজানিতে চেয়ারম্যান মহোদয়ের গর্হিত কাজের জন্য সর্বমহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এবং শিক্ষক সমাজে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা চেয়ারম্যান মহোদয়ের এমন গর্হিত কাজের নিন্দা জানিয়েছেন।
জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন পরিদর্শনে উপজেলার খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান, সেখানে তিনি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করে কর্তব্যরত শিক্ষিকাকে টেবিলের উপর ঘুমাতে দেখেন। শিক্ষার্থীরা তাদের মতো করে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রায় ৮-১০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পরীক্ষা হলে অবস্থান করার পর শিক্ষিকার ঘুম ভাংগে। বুধবার দুপুরে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষিকা দিপ্তি রানী বিশ্বাস গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দেখতে পান উপজেলা চেয়ারম্যান। তখন তিনি তার সহকারীকে দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে শিক্ষিকার ছবি তুলেন। এবং পরে নিজের অধিনস্থ এক সাংবাদিককে দিয়ে ছবি ফেসবুক সহ অনলাইন পত্রিকায় ভাইরাল করে দেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে ঐ শিক্ষিকার ফেসবুক ষ্ট্যাটাসে। যা হুবহু তুলে ধরা হলো;-

FB_IMG_15083437369306785
“তিন দিন ধরে আমার শরীর খুবই খারাপ। আমার স্বামী বাড়িতে এসে ঔষধ দিয়ে গেছেন। আজ সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে হেড স্যারের কাছ থেকে ছুটি নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছুটি না নিয়ে নিজের দায়িত্বের প্রতি সম্মান আর সহকর্মীদের সহযোগীতা ভেবে স্কুলে গেলাম। যাওয়ার পর পরীক্ষার ডিউটিতে ছিলাম। শরীর মোটামুটি ভালই আছে। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পেলাম মাথা ঘুরাচ্ছে তাই চেয়ারে গিয়ে বসলাম। এরপর হঠাৎ করে মাথা টেবিলে লেগে গেলে নিজে বুঝতেই পারি নাই। ৫-৭ মিনিট সময় পরে শরীর কাপছে। এমতাবস্থায় দেখি জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান উনার সহকারি দিয়ে ছবি তুলাচ্ছেন। পরে স্কুলের অফিসে গিয়ে উনি আমাকে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করেন এবং আমার সামনেই কে এম মামুন নামের একজনকে ফোন দিয়ে ছবিগুলো পাঠান। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কেন তিনি এমনটি করলেন। উনারওতো একটি পরিবার আছে। এরপরই এই অপ্রস্তুত ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার এই অসুস্থ শরীরের ঘুমের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী।”
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কোনভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

সুলতানা চৌধুরী ও ফিরুজা আক্তার নামের দুইজন স্কুল শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের শারিরীক অবস্থা কুনো সময় ভাল কুনো সময় খারাপ থাকতে পারে,তাই বলে একজন শিক্ষিকা মায়ের জাতিকে এভাবে অপমান করা টিক হয়নি। আগে খবর নেয়া উচিত ছিলো শিক্ষিকার ব্যাপরে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চেয়ারম্যান সাহেব ক্লাস রুমে ডুকলেন এবং ছবিও প্রচার করালেন তা খুব দুঃখজনক। আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এ দিকে শিক্ষিকার স্বামী সুবিনয় মল্লিকও স্ত্রী অসুস্থতা নিয়ে স্কুলে গেছেন বলে জানান।

Related Articles

Back to top button