লিড নিউজসিলেট বিভাগ

এমসির ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: আরও ২ ধর্ষকের ডিএনএ সংগ্রহ

নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় এজাহার নামীয় আরও দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে গণধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাছুমের (২৫) ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়।

সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দু’জনকে পুলিশি পাহারায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ নিয়ে মামলার আট আসামির সবার ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে গত ১ অক্টোবর মামলার অপর ছয় আসামি সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, রাজন, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুলের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আসামিদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ধর্ষিত নারীর ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটক রেখে নারীকে ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মী গণধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ সুরমার নবদম্পতি গত শুক্রবার বিকেলে প্রাইভেটকারে করে এমসি কলেজে বেড়াতে যান। বিকেলে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে প্রথমে মারধর করেন। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেন। ছাত্রলীগ নেতাদের প্রত্যেকেই ছাত্রাবাসে থাকেন। তারা টিলাগড় কেন্দ্রিক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার গ্রুপের অনুসারী।

এ ঘটনায় গত শনিবার ভোরে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করে নগরের শাহপরান থানায় এ মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতার স্বামী। মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক আহমদ (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)।

এছাড়া ঘটনার পর অভিযানে নেমে সাইফুরের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলাদা আরেকটি মামলা দায়ের করেন শাহপরান (র.) থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার। ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তিনি।

Related Articles

Back to top button