শিল্প ও সাহিত্য

আজহার আহমেদ আজু’র একগুচ্ছ কবিতা

🍁দিওনা দুঃখ

——–
আমাকে দিওনা দুঃখ
আমি স্বপ্নের আকাশে আগুন ধরিয়ে দেবো
ধূসর আবীলতায় ছেয়ে দেবো কল্পলোকের ভৈরবী বাগান
অস্বাভাবিক কঠোরতায় কেড়ে নেবো বিম্বাধরের মোনালিসা-হাসি
চৈতালী হূদয়ের সুজলা-সুফলা প্রান্তর করে দেবো ঊষর
প্রেমহীন দুরাত্মা অশ্বারোহীর সন্ত্রাসী চিৎকার যাবে শোনা
আমাকে দিওনা দুঃখ।

আমি খোঁপার ফুলদানীতে নাগাসাকী’র গন্ধ দেবো ছড়িয়ে
ভালোলাগার তন্ময়তায় রপ্তানী করে দেবো লংকা পোড়া
শিরায় শিরায় রাত রোগের জীবাণু দেবো ঢুকিয়ে
গোধূলি -মদিরা দেহের বিস্তীর্ণ উল্লাস
আমাকে দিওনা দুঃখ।

আমি নীল-মিসিসিপি- তিতাসে যন্ত্রণার পোনা ছেড়ে দেবো
গভীর রাতে
উর্বশী-যাতিনী চোখের তারায় দেবো অমাবস্যা-অন্ধকার
বিউটি স্পট,হয়ে যাবে ক্লেশদায়ক দগদগে লাল ঘা
সোনালি চিকন আঙুলে আদুরে-প্রবণতার খুশ খুশ
বিরক্তি দেবো জাগিয়ে
আমাকে দিওনা দুঃখ।

আমাকে যদি দুঃখ দাও
গজগদন্তধবল বুকের স্তনে তীব্র যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা দেবো
শতাব্দীর পুরনো বাড়ির মতো হাহাকার ছন্দহীন করে দেবো হূদয় মহল
আরো দেবো রক্ত কণিকায় দ্রোহ
আমাকে দিওনা দুঃখ।

🍁ভালবাসা কি করে হয়
——-
আকাশের আজ এত রং
যদি তোমার আচলে এনে দেই
নীল সঙ্ঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির রং
তুমি খোপার বাধন খুলে
একরাশ মুক্ত মেঘ সাজিয়ে
আমায় ভিজিয়ে দিও
তবেই জানবে
ভালবাসা কি করে হয়..

তোমার দুচোখের মায়ায়
যদি আজ কাজল মাখা
কোন এক কালো দিঘির
সমস্ত জল ভরে দেই
ও দুটো তারায়
তুমি সম্পূর্ণ ছায়াপথ সাজিয়ে
অনন্ত কাল আমায়
একাকার করে দিও
তবেই জানবে
ভালবাসা কি করে হয়..

যদি তোমার তপ্ত নিঃশ্বাসে
আজ সাহারার সমস্ত উত্তাপ
জড়িয়ে দেই
হঠাৎ জেগে উঠা ঝড়ের মত
যদি আজ তোমায়
লন্ড ভন্ড করে দেই

তৃষিত মরুর বুকে
মিশে থাকা
কোনো এক বেদুঈনের
বিচ্ছদের সুর
ও নিঃশ্বাসে সাজিয়ে
একটাবার
একবুক হাহাকারে আমায়
জড়িয়ে ধরো
তবেই তুমি জানবে
ভালবাসা কি করে হয়

যেমন করে
আমি তোমায় জেনেছি
বারে বারে
এ একাকী যাযাবরের
তুমি মহাবিশ্ব
একবার সে অতল ছুয়ে দেখো
তবেই তুমি জানবে
বধু
ভালবাসা কি করে হয়..

🍁তবুও আছ
————
আততায়ীর ছোড়া
বুলেট বিদ্ধ রক্তাক্ত পাখীর মত
থুবড়ে মরছে আমার অন্তরাত্না
তোমার দ্বারে।

বসন্তের মুখরীত কাননে
ছিলনাতো কোনো ঝর,
ছিল ঝরা বকুলের
মালা পড়ানোর অভিলাষে
লুকোচুরিতে মুখরীত সন্ধ্যা,
আবির রাঙা ঠোটে মধুর চুম্বন,
আধারের পাশে দ্রুত নিশ্বাস,
কেটেছে সময় অহেতুক অভিমানে।

আকাশে মেঘ ছিলনা।
হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দ।
রক্ত ঝরছে হ্নদপিন্ডে,
ব্জ্রপাত নয় আততায়ীর ছোড়া বুলেট
চোখ মেলে দেখলাম তুমি নেই-
তবুও আছ।

🍁তোমায় নিয়ে হারাবো বলে
———-
পুরো একটা রাত সাজিয়ে রেখেছি তোমায় নিয়ে হারাবো বলে
জোসনা নয়,
ও নিয়ে বড় কাড়াকাড়ি
এক বুক তারা ছড়ানো অমবস্যার আকাশটাকেই
আমার বড়ো আপন লাগে ..

বৃষ্টি নয়
দেখো ঘন কুয়াশা এনেছি
যার মাঝে তুমি আমি
একাকার..
হারিয়ে যাবো
তোমার হাত ধরে আমার বড়ো হারাতে ইচ্ছে করে..

জমা করেছি কিছু ভুল
তোমার নিঃশ্বাসের ছোয়ায়
আজ তাদের পুড়িয়ে আমি নতুন জন্ম নিতে চাই
অশ্রু নয়
এনেছি শেষ রাতের শিশির মাখা ব্যর্থতা
তোমার গলায় মুক্তো সাজাবো বলে

সমস্ত জীবন একটি রাতের বুকে জমা আছে
তুমি যদি আসো
আমার সমস্ত তোমায় দিয়ে আমি হারিয়ে যাবো
তোমার মাঝে আমার বড়ো হারাতে ইচ্ছে করে..

🍁প্রস্ফুটিতা হও তুমি
————-
প্রফুল্লিতা হে, ধোঁয়াশে থেকো না

ধোঁয়াশে থেকোনা অমন,উন্মোচিতা হও;
কতো আর ঝরাবে রক্ত!
ঝরতে ঝরতে যে ফ্যাকাশে হয়ে গেলাম।

লোকাচারে এতো ভয়!
মিথ্যে জেনো ওসব
লোকাচার দিয়ে কী
হূদয়ের আবাদ হয়!
কবে কী কোথাও হয়েছে?

জ্বলে উঠো একবার
তারপর নিভে যাও
জেনো,ছাইয়ের মতো
পবিত্র কিছু হয় না
ছাই রাখে না কোনো
বৈধ-অবৈধের স্মারক।

নিশ্চিতা হও,প্রফুল্লিতা হে
সাহসিকা হও
সাহসিকারাই ইতিহাসের নন্দিত নায়িকা
প্রস্ফুটিতা হও তুমি
হূদয়ের আকাশে একটি জমাট নক্ষত্র হও।

Related Articles

Back to top button