বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম মেয়র হলেন আব্দুস শুক্কুর


আহমদ রেজা চৌধুরী: বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়ল প্রার্থী আব্দুস শুকুর। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং পূর্বের ফলাফলে মিলিয়ে তিনি পৌর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা সম্মেলন কক্ষ থেকে বেসরকারিভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা কিছুক্ষণের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন।
পৌরসভা নির্বাচনে সেরা মানুষকেই বেছে নিল বিয়ানীবাজার পৌরবাসী। ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে পদচারণা আর সর্বোপরি পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আব্দুস শুকুর নির্বাচিত হলেন বিশাল ব্যবধানে।
বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচিত প্রথম মেয়র আব্দুস শুকুরের জন্ম ১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। পৌর এলাকার (সাবেক সদর ইউনিয়ন) খাসা গ্রামের আব্দুস সালাম ও ময়জুন নেছা দম্পতির সন্তান আব্দুস শুকুর ছাত্রাবস্থা থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। গোলাবশাহ সমাজ কল্যাণ সংস্থার একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগন্য।
সমাজসেবার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতেও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখেন আব্দুস শুকুর। ১৯৯০ সাল থেকে ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। অল্প দিনেই নিজেকে প্রমাণ করেন একজন পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে। নেতৃত্ব গুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা, হাসি মাখা বন্ধুত্ব সুলভ আচরনের কারণে সকলের কাছেই তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। ১৯৯৫ সালে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্র লীগের প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঐ ছাত্র সংসদে আব্দুস শুকুরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০০৪ সাল (পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব) পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর শাখার সকল কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। নিজের কর্মগুণে ২০০৪ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিয়ানীবাজার পৌরসভা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে তিনি পৌর আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। কোন ধরণের বিতর্কে বা নোংরা রাজনীতিতে না জড়িয়ে আব্দুস শুকুর নিজেকে নিয়ে যান এক অনন্য উচ্চতায়। পরিচিতি পান পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে। এই ‘ক্লীন ইমেজে’র কারনে বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন ঘোষণার পূর্ব থেকেই আলোচিত ছিলেন আব্দুস শুকুর। সকলের বিশ্বাস ছিল- আব্দুস শুকুর-ই নৈাকার যোগ্য মাঝি। একমাত্র তিনিই হাল ধরে নৈাকাকে বিজয়ের ঠিকানায় নিয়ে যেতে পারবেন। নির্বাচিত হয়ে তিনি সে বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করলেন।
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক থাকা কালে তিনি নিজের সংস্কৃতিমনা পরিচয়কে সামনে তুলে ধরেন। কলেজ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে সে সময় সংগীতানুষ্ঠান, নাট্যচর্চাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তারা বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার ধারা বজায় রাখেন। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক কমান্ডের মাধ্যমে বিয়ানীবাজারে ব্যাপক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। বিশেষ করে নাট্য চর্চায় তারা রীতিমতো সাড়া ফেলে দেন। বিয়ানীবাজারে নাট্যোৎসব আয়োজন, নাট্য কর্মী গড়ে তোলা, বিভিন্ন এলাকায় নাটকের প্রসার ঘটানোসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সকলের নজর কাড়ে। মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক কমান্ড বিলুপ্ত করে ‘বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড’ গঠন করা হলে তিনি সে সংগঠনের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। নাটকসহ সংস্কৃতি চর্চায় অবদানের জন্য তিনি ‘বিসাক নাট্যজন পদক’ এ ভূষিত হন। এছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলার নাটকের সমৃদ্ধ ইতিহাস নিয়ে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড’র সভাপতি, সাংবাদিক আব্দুল ওয়াদুদ রচিত ‘নাট্যচর্চায় বিয়ানীবাজার’ গ্রন্থের প্রকাশনায়ও তিনি অবদান রাখেন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায়ও আব্দুস শুকুর অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিয়ানীবাজারের একমাত্র শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জিসি দেব’র পৈত্রিক সম্পত্বিটি শত্রু সম্পত্তি হিসাবে গন্য করে লীজ দেয়া হলে তারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করেন। তাদেও প্রচেষ্টায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ড. জিসি দেব’র সম্পত্তির অংশ ‘শত্রু সম্পত্তি’র তালিকা থেকে বাদ দেয়। তিনি ‘ড. জিসি দেব স্মৃতি সংসদ’র সাথে জড়িত রয়েছেন।
নানকার আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এলাকা সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের সানেশ্বর উলুউরি গ্রাম। ১৯৪৯ সালে এই এলাকার সুনাই নদীর তীরে পাকিস্থানী ইপিআরের ছোড়া গুলিতে প্রান দেন ৫ জন কৃষক। কিন্তু কোন ধরণের স্মৃতি চিহ্ন না থাকায় এই স্থানটি বিস্মৃত হতে চলেছিল। ১৯৯০ সালে নানকার আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সুনাই নদীর তীরে স্মৃতিসৌধ নির্মানের জন্য স্থানীয় জনগনের দেয়া জমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে আব্দুস শুকুর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও তিনি আবাহনী ক্রীড়া চক্র-বিয়ানীবাজা
দীর্ঘ প্রায় ষোলো বছর নির্বাচনের প্রতীক্ষায় থাকা বিয়ানীবাজার পৌরবাসীর জন্য এ নির্বাচন ছিল পরিবর্তনের সোপান। পৌরবাসী চেয়েছিলেন একজন যোগ্য মেয়র, যিনি প্রকৃত অর্থেই তাদের সমস্যা লাঘবের মাধ্যমে বিয়ানীবাজার পৌরসভাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর করে গড়ে তুলবেন। স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হিসাবে আব্দুস শুকুরকে নির্বাচিত করে পৌরবাসী প্রমাণ করলেন-তারা যোগ্যতর মানুষকে চিনে নিতে ভুল করেননি।
তিনি ৯ ওয়ার্ডের ১০ কেন্দ্রের ৫ হাজার ৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি মেয়র প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু ৩ হাজার ৮৯২ ভোট পান। প্রতিদ্বন্দ্বি এ দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৯০ ভোটের ব্যবধান ছিল। গত ২৫ এপ্রিল পৌরসভা নির্বাচনে ঘোষিত ৯ কেন্দ্রের ফলাফলে ১৫৮ ভোটে এগিয়ে ছিলেন আবু নাসের পিন্টু



