আমার দেখা ইব্রাহিম চৌধুরী


এইচ বি রিতা, নিউইয়র্ক: ইব্রাহিম চৌধুরী, যাকে সবাই চিনেন একজন কর্মোদ্যমী সৃজনশীল সম্পাদক, সফল সাংবাদিক, লেখক, কবি, এবং দ্বায়ীত্বশীল জ্যোতির্মান মানুষ হিসাবে। কিন্তু আমি সেই মানুষটাকে চিনি আরো একটু ভিন্ন আকারে।
ইব্রাহিম চৌধুরী ভাইজান আমার দেখা এক ভিন্ন রকমের মানুষ। বিনয়ী, সৌহার্দ্যবান, বিবেচনাশীল সহানুভূতিশীল এবং ইতিবাচক মনের একজন মানুষ তিনি। উনার মাঝে দ্বৈত চরিত্রের একটা সংযোগ রয়েছে বলে আমার মনে হয়। বাহির থেকে খুব শক্ত মনের মনে হলেও উনার ভিতরটা খুবই কোমল, নরম একেবারে শিশুদের মত।
কেন বলছি? হ্যা! কারণ তো আছে অবশ্যয়ই।
ভাইজানের সাথে আমার পরিচয় ২০১৭ তে লেখা বিষয়ক ইমেইল আদান প্রদানের মাধ্যমে। তারপর দেখা হয় প্রথম আলো অফিসে। সেদিন আমার প্রিয় মাযহার ভাই ও ছিলেন অফিসে। লেখার ধরণ সম্পর্কে মাযহার ভাই কঠোর কিছু পরামর্শ দিলেন। ভয় পেলাম। ভাইজান বললেন, রিতা! আপনি লিখতে থাকেন। আমি আছি।
সেই থেকে প্রথম আলোতে ছাইপাস লিখে বনে গেলাম রিপোর্টার, (কেউ কেউ ভুল করে সাংবাদিক বলেন) কলামিষ্ট, কবি এবং প্রাবন্ধিক।
প্রতিটা মানুষের উন্নয়নে একজন ব্যাক্তি বিশেষের হাত দরকার হয়, একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার হয়। আমার লিখালিখি জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো ছড়াতে সেই হাতটি ছিল ইব্রাহিম ভাইজানের। সেই প্ল্যাটফর্মটি তৈরী করেছিলেন ইব্রাহিম ভাইজান।
আর ওই যে বললাম, একেবারে কোমল, নরম শিশুদের মত ভাইজানের মন, সেটাও আমার খুব কাছ থেকে দেখা ভাইজানের আরেকটা চরিত্র।
গতবছরের ফেব্রুয়ারী থেকে যখন আমার স্বাস্থ্য পড়তে শুরু করলো, কখনো নোর্থ শোর কখনো মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তিরত আমি, স্টিল ডিজিজে যখন সম্পূর্ণ পঙ্গুত্ব নিয়ে অবশেষে লিভারটাও গেল, লাইফ সাপের্টে বাঁচার সম্ভাবনা ২৫%, তখন কতবার যে এই মানুষটি পুরো টিম নিয়ে আমাকে দেখ্যে গেলেন!
কতবার যে রওশন হক আপুকে ফোন করে করে আমার জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন… তার সাক্ষী মহান স্রষ্টা এবং রওশন আপু। পুরো শহর জুড়ে সবাইকে আমন্ত্রণ জানি্য়ে দোয়া পড়ালেন আমার জন্য।
নতুন জীবন নিয়ে ফিরে আসার পর ভাইজান নিয়মিত খোজ নিয়েছেন, এখনো নিচ্ছেন। দুই একবার সাহস করে অসুস্থ্যতা নিয়ে প্রথম আলোর মানুষগুলোকে যখন দেখতে অফিসে গেলাম, তখনো ভাইজান বাহিরে এসে আমার হাত ধরে সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে আমাকে ভিতরে নিলেন।
এমন মমতার স্পর্শ, নিঁখাদ ভালবাসা ক’জন পায় বলেন?
আমি পেয়েছি।
যতবার এই সব মুহূর্তগুলোক চোখে ভাসে, ভাইজানের প্রতি মমতা ও শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। অদৃশ্য এক ভালবাসার টান অনুভব করি। পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকে, যাদের সম্পর্কে লিখতে গেলে কলমের কালী শেষ হয়ে যাবে, যাদের কথা বলতে গেলে পিপাসায় গলা শুকিয়ে যাবে! ইব্রাহিম ভাইজান তাদেরই একজন।
আজ এই মানুষটির জন্মদিন। ভাইজান শুভ জন্মদিন আপনাকে। সুস্থ্যতার সাথে বেঁচে থাকুন অনেকগুলো বছর। সব সময় এমন করেই একজন অভিবাবকের মত পাশে থাকবেন- অনুরোধ। এত্তগুলো ভালবাসি আপনাকে।




