বানিয়াচংয়ে যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত হলো রাস্তা: বরাদ্দের অভিযোগ


নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তায় মাটি ভরাট করেছেন স্থানীয় যুবকেরা।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) বানিয়াচংয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাপাশা আবর এলাকায় বেহাল সড়কে মাটি ভরাটের এ কাজটি করেন স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী, যুবলীগ কর্মী, এনজিও কর্মকর্তাসহ ১০ থেকে ১২ জনের একদল যুবক।
যাত্রাপাশার চুকরা বিলেরপাড় হতে ইকবাল মেম্বারের বাড়ি হয়ে কুন্ডুরপাড় পর্যন্ত সড়কটি স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করা হয়।
যুবকেরা এ প্রতিবেদককে জানান, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিলো। একসময় ওই রাস্তা দিয়ে কৃষি কাজের সকল যানবাহন চলাচল করত। এখন যানবাহন দুরের কথা, পায়ে হেটে চলাচলের সুযোগ নেই।
তারা আরও জানান, দীর্ঘ ৫-৬ বছর যাবৎ এ রাস্তা মেরামত করতে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার কোন বরাদ্দ দেননি। দিনে দিনে রাস্তাটি বিলীন হতে চলেছে।
যুবলীগ কর্মী ফয়সল আহমদ জানান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের জনবহুল এ রাস্তা মেরামতের জন্য বার বার জনপ্রতিনিধির শরনাপন্ন হয়েছি। ভুক্তভোগী হয়ে এখন আমরা নিজেদের শ্রমে রাস্তা মেরামতের কাজে নেমে পড়েছি।
ভুক্তভোগী এনজিও কর্মকর্তা রাসেল মিয়া জানান, নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যানরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খবর রাখেন না। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আমরা ভুল করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজকর্মি বলেন, শুধু রাস্তার বেহাল দশা নয়, এই এলাকায় গভীর নলকুপ নেই বললেও চলে। এলাকার বাসিন্দারা সুপেয় পানির জন্য সীমাহীন কষ্ট করছে। ইউনিয়নের মধ্যে যাত্রাপাশা ২ নং ওয়ার্ডে জনগন ও ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাই প্রার্থীদের জয় পরাজয় অনেকটা নির্ভর করে এই ওয়ার্ডের ভোটারদের সিদ্ধান্তের উপর।
উল্লেখ্য, ৪ নং দক্ষিন-পশ্চিম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন মরহুম এডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ এমপি ও মরহুম এডভোকেট জনাব আলী এমপি। এই ওয়ার্ডের সাবেক দুইজন এমপি থাকা স্বত্বেও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা এ ওয়ার্ডের জনগনকে বঞ্চিত করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
এ ব্যাপারে ৪ নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেখাছ মিয়া এ প্রতিবেদক কে বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় অনেক কাজ হয়েছে।
আমার প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে চুকরাবিল থেকে তৈয়ব উল্লাহর বাড়ি পর্যন্ত ১ লক্ষ টাকায় রাস্তার কাজ হয়েছে। তাছাড়া আমার জানামতে চুকরাবিল থেকে ইকবাল মেম্বারের বাড়ি হয়ে কুন্ডুরপাড় পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য দেড়লক্ষ টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই রাস্তায় কাজ শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন রেখাছ মিয়া।




