

ফাহাদ মারুফ: করোনা ভাইরাসে যখন বিশ্ব থমথমে। প্রতিটা পবিবার প্রতিটি মানুষ যখন ভাইরাসে আতঙ্কিত। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দিন দিন বাড়ছে লাশের বুঝা। তেমনি বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে করোনার প্রভাব।

করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা লকডাউনে মানুষ যখন ঘরবন্দি চাকরি হারিয়ে, অনেকের ব্যবসা বন্ধ করে, আরো বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে এক সময় ফুরিয়ে যায় খাবার, অনেকের ফুরিয়ে যায় টাকা। কাজ, কর্ম যখন স্থগিত, তখন মানুষ অসহায় হয়ে ঘরে পানি খেয়ে দিনপাত করছে।

কারো কাছে হাত পাততে পারে না, বলতে পারে না নিজের দূর্বলতা। এমন ঘটনা মধ্যবিত্তদের মাঝেই বেশি। বলা হয়, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।
আর সিঙ্গেল মাদার ও অসহায় বিধবা মায়েদের কথা বলা বাহুল্য। মহিলারা না পারেন কাউকে কিছু বলতে না পারেন কোথাও থেকে ত্রাণ নিয়ে আসতে।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনায় মানুষ যখন ঘরবন্দি তখন জীবনের যুঁকি নিয়ে দেশের এমন পরিস্তিস্থিতে সিঙ্গেল মাদার ও অসহায় বিধবা মায়েদের কথা চিন্তা করে একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেন ব্যাংকার শামীম আহমেদ।

পাগলের বন্ধু খ্যাত মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের (আমরা যাদের পাগল বলি) নিয়ে কাজ করা মানুষ ব্যাংকার শামীম আহমেদ উনার পহেলা বৈশাখের বোনাসের পুরো টাকা সিঙ্গেল মাদার ও অসহায় বিধবা মায়েদের জন্য উৎসর্গ করেছেন।
বুধবার ঢাকার আদাবর, মুগদা পাড়া, তুরাগ থানার কামারপাড়া, সাভার ও মিরপুরে ৪০ জন সিঙ্গেল মায়েদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন সেই বোনাসের টাকা দিয়ে শামীম আহমেদ।

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো ৫ কেজি চাউল,৩ কেজি আটা,৫ কেজি আলু,১ কেজি ডাল,১/২ কেজি পেয়াজ,১/২ কেজি লবন,১/২ লিটার তৈল ও ১ টি হুইল সাবান।
এদিকে ঢাকার বাহিরে ও ব্যাংকার শামীম আহমেদ নিজে ও হেল্পিং হ্যান্ডস বিডির ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার ১৫ জন সিংগেল মাদার ও অসহায় বিধবা মায়েদের কাছে খাদ্যসামগ্রী কিনার জন্য বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া সহযোগীতায় ছিলেন ফেসবুক বন্ধু আহসান হাবিব বাপ্পি ও মোঃ ইফতিয়ার হাসান এই কাজে নিজ থেকে ওনাদের সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা করেছেন। আজকের এই কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন ফেসবুক বন্ধু মাসুদুল হাসান।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণে সহযোগীতা করেন মুগদা মান্ডার ফেসবুক বন্ধু মোঃ নজরুল ইসলাম , তুরাগ থানার কামাড় পাড়া এলাকার সাংবাদিক নাদিরা দিলরুবা ও সাভারে Bangladesh Man For Man এর সভাপতি মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম (রাজিব) ।
এই কাজের মাধ্যমে প্রমানিত হলো ফেসবুক বন্ধুরা শুধু ভার্চুয়াল বন্ধু নয়, তাদের সহযোগীতা দিয়ে সমাজের অনেক ভালো কাজ করাও সম্ভব।

কথায় আছে, মানবতার কাজ করতে হলে, কোন কিছুতে ঠেকে না, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ব্যবস্থা করে দেন। কারণ তিনি উত্তম প্রতিদানকারী।
ব্যাংকার শামীম আহমেদ আমাদের প্রতিবেদক ফাহাদ মারুফকে বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সমাজের প্রতিও আমাদের দায়িত্ববোধ আছে। দেশের এই দুর্যোগময় সময়ে মোট জনসংখ্যার ১৪% মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে।
তাই আমি সমাজের বিত্তবান, সমাজসেবক, রাজনীতিবীদ, সুশীল সমাজ সহ সমাজের সবার প্রতি অনুরোধ রইলো দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যার যার অবস্থান থেকে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ান, মানুষগুলোকে বাঁচান।

তাহলে দেখবেন একজন মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না। তা না হলে করোনার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে খাদ্যের অভাবে।
আমরা সাধারন জনগন হয়ে যদি পহেলা বৈশাখের বোনাসের টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে পারি, আপনারা কেনো পারবেন না?
এভাবে সবাই যার যার জায়গা থেকে একে অন্যের পাশে দাড়ালে আর যতটুকু সম্ভব নিয়ম অনুসরণ করে বাসায় অবস্থান করলে ইনশাআল্লাহ আমরা এই দূর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারব।

একদিন তো আমরা সবাই মারা যাবো। যাওয়ার আগে আমরা ভালো কিছু কাজ করে যাই।নতুন প্রজন্মরের মাঝে মানবতার বীজ বুপন করে যাই। তাহলে একদিন এই দেশটা হয়ে উঠবে “সোনার বাংলাদেশ”
তিনি আরো বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা যেনো ভালো কাজ করতে পারি। পাশে থেকে সাপোর্ট দিবেন, এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানান তিনি।

বর্তমানে ব্যাংকার শামীম আহমেদ যমুনা ব্যাংক এ ফার্স্ট এসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। ব্যাংকার শামীম আহমেদের প্রতিটি মানবিক কাজসহ এই মহতী ব্যতিক্রম উদ্যোগকে অনেকেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উনি এর আগে রাস্তায় পড়ে থাকা অনেক মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে কুড়িয়ে এনে চিকিৎসা দিয়ে সু্স্থ করে তোলার দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাঠকের সুবিধার্ধে উনার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি দেওয়া হল। নিচে ক্লিক করলে আইডি পেয়ে যাবেন।
পাঠকের সুবিধার্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের নিয়ে কাজ করা ফেসবুক পেইজের লিংক দেওয়া হল। নিচে ক্লিক করলে পেয়ে যাবেন।




