লিড নিউজসিলেট

সিলেটে পোশাকের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট,নেই প্রশাসনের নজরদারী

সিলেটমিডিয়াডেস্ক।।   দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে সিলেটের পোশাকের বাজারে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে পোশাকের বাজারে চলছে ইচ্ছামতো দাম আদায়। জবাবদিহিতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের গায়ে লাগিয়েছেন মনগড়া মূল্যের ট্যাগ। আর এতেই বিপাকে ক্রেতারা।

ক্রেতারা বলছেন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পোশাকের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলেও প্রশাসন নীরব। ঈদের বাজারে ক্রেতারা অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কাছে অনেকাংশে জিম্মি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। তবে প্রশাসন বলছে ব্যাপারটা আগে জানা ছিলো না। এখন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মিরবক্সটুলাস্থ পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘শী’, ইনফিনিটি, বারুণী, জিন্দাবাজারে মোবারক বেবী শপসহ পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে পোশাকের সকল কাপড়ের দোকানের চিত্র প্রায় সমান। মেয়েদের এক পিস টপস সর্বনিম্ন ১২ শত টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত, কুর্তি ১ হাজার টাকা থেকে ৩২০০/৩৫শত টাকা, মেয়েদের রেডি ড্রেস মানের পার্থক্য ভেদে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা মাত্রাতিরিক্ত বলেই মনে করছেন ক্রেতারা।

জিন্দাবাজার মিতালী ম্যানশনের সামনে মোবারক বেবী শপে কেনাকাটা করে ফিরিছিলেন সুলতানা। তিনি বলেন, এই দোকানে ছোটদের পোশাকের মূল্য প্রায় তিনগুন।

নয়া সড়কে একটি শপিংমল থেকে কেনাকাটা করে বের হয়েছেন মজুমদার পাড়ার বাসিন্দা জেবিন বেগম। তিনি বলেন, এবার কাপড়ের দাম অনেকাংশে বেশি মনে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরই দাম বাড়ে। কিন্তু এবার অতিরিক্ত মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৪২ শত টাকা দিয়ে আমার মেয়ের জন্য যে ড্রেস কিনলাম তা এতো টাকা হওয়ার কথা না।

তবে মাহার একজন সেলস কর্মকর্তা জানালেন কাপড়ের মানের সাথে দামের মিল আছে। দাম যা আছে তা কাপড়ের মান ভেদে বেশি কম আছে। তাছাড়া মাহার প্রতিটি কাপড়ের একটি গুণগত মান আছে বলে জানান তিনি।

ভিন্ন শুকরিয়া মার্কেটেও। নামীদামী পোশাকের শপে কাপড়ের দাম বেশি থাকায় এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন শুকরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও। মাসখানেক আগে যে পোশাকের মূল্য ছিলো ২২শ’ টাকা এখন এই পোশাকের মূল্য ৩২শ’ টাকা বলে অভিযোগ করলেন ফাহমিদা খানম। শহরতলী মেজরটিলার এ বাসিন্দা বলেন, নামীদামী সকল দোকানে কাপড়ের দাম বেশি থাকায় শুকরিয়াতেও দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, রমজানের আগে এসেছিলাম। তখন একটি ড্রেসের দাম জেনে গিয়েছিলাম। তখন ছিলো ২২ শ’ টাকা। আর এখন একই পোশাকেরই দাম ৩২ শ’ টাকা রাখা যাবে বলছেন দোকানদার। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুকরিয়া মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, এবার তুলনামূলক দাম কিছু বেশি। কিন্তু দাম লাগামহীন নয় বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের এমন লাগামহীন দাম আদায়ের প্রবণতা পুরুষের কাপড়ে আরো বেশি। পুরুষের কাপড়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের দোহাই দিয়ে আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা দাম। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা পোশাকের মান বেশি, আমদানি খরচ বেশি; এমন রঙচঙা কথা বলে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করছেন মাত্রাতিরিক্ত মূল্য।

মির্জাজাঙ্গালস্থ পুরুষের পোশাকের দোকান বেল, শ্রিহাণ, ফ্লাশ, সাতরং, বি২উইন, জেলরুডস্থ বার্টন, ডিসপ্লেসহ নগরীর বেশিরভাগ জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের বিদেশি ব্র্যান্ডের বেশির ভাগ পোশাকেই গতবারের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণ মূল্যের ট্যাগ লাগানো হয়েছে। গত বছর যে সিকে ব্র্যান্ডের টি-শার্ট বিক্রি হয়েছিলো ৯ শত ৯৫ টাকা এবার একই টি-শার্টের গায়ে লাগানো হয়েছে ১৭ শত ২০ টাকার ট্যাগ; এমনটিও অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল থেকে লামাবাজার পর্যন্ত, পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ বিভিন্ন দোকান ও কুমারপাড়াস্থ বিভিন্ন দোকানে এমন আকাশচুম্বী দাম দেখা গেছে। শার্ট ১২-১৪ শত টাকা, কাতোয়ার দাম ১৫ শত টাকা পর্যন্ত। অতিরিক্ত দামের কারণে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হলেও সেদিকে খেয়াল নেই বিক্রেতাদের।

নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজার এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় দক্ষিণ সুরমাস্থ গালিমপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সুহাগ ও ইব্রাহিম আহদ উজ্জ্বল এর সাথে। দুজনেরই একই অভিযোগ ব্যবসায়ীরা মনগড়া দাম আদায় করছেন। চায়না, থাই, ইন্ডিয়া বলে যা ইচ্ছা দামের ট্যাগ লাগিয়েছেন।

তারা দু’জনের কেবল অভিযোগই নয়। আছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ। বললেন, সব জায়গায়ই একই অবস্থা। তবুও দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল খাদ্যদ্রব্যের প্রতি নজরদারি থাকলেও ঈদের সময় পোশাকের বাজারে কোন নজরদারী না থাকায় ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তা দাম আদায় করছেন বলে তাদের দাবি।

এদিকে সিলেটে পোশাকের দাম যখন আকাশ্চুম্বি তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাসির উল্লাহ খান বলেন, এতোদিন ব্যাপারটি আমাদের জানা ছিলো না। তাই কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তবে এবার পোশাকের বাজারের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

Related Articles

Back to top button