রাজনীতিলিড নিউজসিলেট

সিলেট-১আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীতার পছন্দের শীর্ষে ইনাম চৌধুরী

বিশেষ প্রতিবেদক:  বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ, সুখ্যাত কলামলেখক ও সিলেট সহ বাংলাদেশের সকল মহলের কাছে ক্নিন ইমেজের একজন সাদামনের মানুষ  ইনাম  আহমদ চৌধুরী ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০দলীয় জোটের সিলেট-১ আসনে  প্রার্থীতা নিয়ে সিলেট সহ সারাদেশে এখন আলোচনার ঝড়। কেননা সিলেট ১ বাংলাদেশের নির্বাচনী আলোচনায় বেশী আলোতিত।সাবেক সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সাইফুর রহমানের পর বর্তমান সময়ে সকল দিক থেকে সিলেট ১ আসনের মনোনয়ন তালিকায় এগিয়ে ইনাম চৌধুরী ।যদি এ আসনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির চৌধুরী ওকেন্দ্রীয় সদস্য ডাক্তার শাহরিয়ার মনোনয়ন প্রত্যাশী। সিলেট১ আসনের জনগন সব সময়ে একজন গ্রহনযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানের ব্যাক্তিদের প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাশা করে ।যার সকল গুনাবলী ইনাম আহমদ চৌধুরীর মধ্যে বিদ্যমান বলে সূধীজন ওরাজনীতিক মহল মনে করেন ।এ মূহুর্তে এ আসনে ইনাম চৌধুরীর  ব্যাক্তিগত ও রাজনৈতিক গ্রহনযোগ্যতা

শীর্ষে রয়েছে বলে এক সংস্থার জরিপে জানা গেছে । ইনাম চৌধুরীর প্রার্থীতা নিয়ে ঐকফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নির্ভার।

কিন্তু এ আসনে আওয়ামীলীগ নেতৃতাধীন জোট এখন ও সিদ্ধান্তহীনতায় । এ আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় বতর্মান এমপি ও অর্থমন্ত্রী  আবুল মাল  আব্দুল মোহিত আগে নিবার্চন না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু বর্তমানে তার ছোট ভাই সাবেক রাস্ট্রদূত ডঃ আবুল মোমেন ,সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহূল হোসেন ,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ ,সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন ।

একনজরে ইনাম চৌধুরীঃ

উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত জনগন ভিত্তিক রাজনীতিবিদ হিসাবে আরও পরিচিত ছিলেন। ইনাম আহমেদ চৌধুরী তাঁর ক্যারিয়ারের বাইরে সেটাই করেছিলেন, পাকিস্তানের বিশিষ্ট সিভিল সার্ভিসের সদস্য যিনি পরবর্তীকালে বাংলার সিভিল সার্ভিস হয়েছিলেন। তিনি প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু একজন কূটনীতিক হিসাবেও এটি সফল হয়েছিলেন। তিনি জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিতেও সেবা প্রদান করেন।

১৯৩৭ সালের জুন মাসে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন ইনাম এ,চৌধুরী। তাঁর পিতা, মৃত গিয়াস উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বৃটিশ আমলে একজন সফল  সিভিল সাভির্স এর সিনিয়র অফিসার ছিলেন।যিনি ঢাকা বিভাগের কমিশনার  এবং পূর্ব পাকিস্তান নির্বাচন অথরিটির চেয়ারম্যান  পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর মা রফিকুন্নেছা খাতুন চৌধুরী লোভা সোশ্যাল সার্ভিসকে উৎসর্গ করেছিলেন।ইনাম চৌধুরী প্রধানত শিলং-আসাম (ব্রিটিশ ভারত), সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা কলেজ ও ইউনিভার্সিটি শিক্ষা এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগডালেন কলেজে তাঁর স্কুল শিক্ষা লাভ করেন। তিনি অর্থনীতি, স্নাতকোত্তর ও এলএলবি বিষয়ে প্রথম বিভাগে তার সম্মাননা, উন্নয়ন অর্থনীতিতে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।তিনি পাকিস্তান প্রশাসন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি সচিব অর্থ মন্ত্রণালয় (ইআরডি) পরিকল্পনা ও শিপিং  মন্ত্রনালয়ের সচিব ছিলেন ।তিনি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সভাপতি হিসেবে লন্ডনে হেড কোয়ার্টারে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি জেদ্দা ভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এর ভাইস  চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় ছয় বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন  করেন। জাতিসংঘে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের সচিব ছিলেন (ইউএন-ইএসসিএপি)।

তিনি ১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে যোগ দেন এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। তিনি প্রায় দুই দশক ধরে পার্টির কর্মকান্ডে গভীর নিষ্ঠা ও মেধা দিয়ে  দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। গত বিএনপির ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের সরকারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়

চেয়ারম্যান ছিলেন ।তার সদস্য ছিলেন কয়েকজন সংসদ সদস্য ,গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়ের সচিব ও এফবিসিআই প্রেসিডেন্ট ,সিকিউরিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তরা।

ইনাম এ চৌধুরী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে একজন স্বনামধন্য কলাম লেখক এবং রাজনীতিবিদ বিশ্লেষক । তিনি কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং নিজেকে সুখ্যাত লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।তিনি সামাজিক সেবা কার্যক্রমের জন্য নিবেদিত।এবং দীর্ঘকাল ধরে (জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ছিলেন, তার  পিতা ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ এসোসিয়েশনের  প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি  ছিলেন)।তিনি নিজেও জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকার সাবেক প্রেসিডেন্ট  ছিলেন।ইনাম এ চৌধুরী এখন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সংস্থা ঢাকাবাসী সংগঠনের  সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি।

স্টুডেন্ট ক্যারিয়ারে তিনি 1952-53 সালে ঢাকা কলেজ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা চলাকালীন তিনি অনেক ছাত্র সংগঠনের অফিসার ছিলেন ।ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় সংস্কৃত সংসদের সভাপতি ।ঐতিহ্যবাহী  জালালাবাদ এসোসিয়েশন তাঁকে ‘সিলেট রত্ন’ শিরোনামে ভূষিত করেছে তার জনসেবা মূলক কর্মকান্ডের  জন্য।          

Related Articles

Back to top button