আন্তর্জাতিকলিড নিউজ

স্বামীর ‘ভুয়া মৃত্যু’র খবরে দুই সন্তান নিয়ে স্ত্রীর আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক: ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতির জন্য গাড়ি দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে নিজের মৃত্যুর খবর রটিয়ে দিয়েছিলেন চীনের এক ব্যক্তি। কিন্তু সেই মিথ্যা খবর বিশ্বাস করে দুই সন্তানসহ আত্মহত্যা করেছেন তার স্ত্রী।

এমন মর্মান্তিক খবর পাওয়ার পর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। চীনের হুনান প্রদেশের শিনহুয়া কাউন্টিতে এই ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির গাড়ি খুঁজে পাওয়া যায় নদীতে। ধারণা করা হচ্ছিল তিনি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

কিন্তু তার মরদেহ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম হে। এভাবে সাজানো গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই পরিকল্পনা সম্পর্কে লোকটি তার স্ত্রীকেও আগে থেকে কিছুই জানাননি।

ফলে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে-দুঃখে স্ত্রী তার দুই সন্তানকে নিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এর আগে তিনি অনলাইনে একটি সুইসাইড নোট লিখে যান। স্ত্রী সন্তানদের মৃত্যুর খবর জানার পর স্বামী নিজেই গিয়ে ধরা দেন হুনান প্রদেশের পুলিশের হাতে।

তার বিরুদ্ধে ইন্স্যুরেন্স প্রতারণা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পদের ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গত সেপ্টেম্বরে হে নিজের জন্য এক মিলিয়ন ইউয়ানের একটি জীবন বীমা করেন। এই বিষয়টিও তিনি নিজের স্ত্রীর কাছে গোপন রেখেছিলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর হে একটি ধার করা গাড়িতে চেপে দুর্ঘটনার নাটক সাজান। এই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটেছে এমন একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন। হে খুব বেশি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার নামে এক লাখ ইউয়ান ঋণ ছিল।

গত ১১ অক্টোবর হের ৩১ বছর বয়সী স্ত্রী তার চার এবং তিন বছর বয়সী দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছিলেন, তিনি স্বামীর সঙ্গী হতে যাচ্ছেন। তার ইচ্ছা তারা চারজন আবার যেন এক সঙ্গে মিলতে পারেন।

স্ত্রী-সন্তানদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মুষড়ে পড়েন হে। পরদিনই তিনি ধরা দেন পুলিশের হাতে। এর আগে তিনি অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এই ভিডিওতে তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে দেখা যায়, তিনি তার তিন বছর বয়সী মেয়ের চিকিৎসার জন্য ঋণ করেছিলেন। তার মেয়ে এপিলেপসি রোগে ভুগছিল।

এই ভিডিওটি এখন অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। চীনে মানুষ কি পরিমাণ আর্থিক এবং পারিবারিক চাপের মধ্যে আছে, সেটা নিয়ে কথা বলছেন অনেকে। চীনের মাইক্রো-ব্লগিং সাইটে এই ঘটনা সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগটি প্রায় তিন কোটি বার দেখা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button