বিয়ানীবাজারে রোগীর পিতার উপর নার্সের হামলা: নিষ্পত্তির জন্য চাপ প্রয়োগ


নিজস্ব প্রতিনিধি :: বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ নার্স রাবিয়া আক্তার ও তার বাহিনীর হামলায় আহত শিব্বির আহমদকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জোর চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল এক নেতা শিব্বির আহমদ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোয়াজ্জেম আলী খানের সাথে আলাপ করে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।
এমনকি কৌশলে শিব্বিরকে ভয়ভীতি পর্যন্ত দেখানো হচ্ছে। যার কারণে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন নিরীহ শিব্বির আহমদ।
তাছাড়া তিনি পৌর এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় নিজেকে নিয়ে আরো বেশি শংকিত হয়ে পড়েছেন। এখন কি করবেন এনিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
জানা যায়, গত বুধবার রাতে বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের উত্তর দুবাগের বাসিন্দা শিব্বির আহমদ তার শিশুপুত্র সাফওয়ান আহমদকে অসুস্থ অবস্থায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ভর্তির পর হাসপাতালের স্টাফ নার্স রাবিয়া আক্তার সাফওয়ানের হাতে স্যালাইন পুষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর সাফওয়ানের হাতে রক্তক্ষরণ হলে তিনি রাবিয়াকে বিষয়টি অবহিত করে আসতে বলেন।
এসময় রাবিয়া আসছি বললে তিনি চলে যান। কিন্তু নার্স না যাওয়ায় এবং রক্তক্ষরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তিনি পরপর দু’বার রাবিয়ার কাছে গেলে রাবিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
এসময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে তারা একে অন্যের উপর হামলার জন্য উদ্যত হলে উপস্থিত লোকজন তাদের নিভৃত করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিব্বির নিজের শিশুর প্রাণ বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী আয়শা হক হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হোন।
তখন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ ঘটিকা। এর কিছুক্ষণ পরই নার্স রাবিয়া আক্তার ডিউটি বন্ধ রেখেই এবং ডিউটির পোশাক পড়া অবস্থায়ই তার স্বামী আহমেদ হাসান সবুজ ও তাদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালান ওই হাসপাতালে। হাসপাতালে প্রবেশ করেই তারা শিব্বিরকে টেনেহেঁচড়ে বের করে বেধড়ক প্রহার করেন। এসময় ওই হাসপাতালের দায়িত্বরতরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে রাবিয়ার স্বামী সবুজ ও তাদের ক্যাডার বাহিনী।
পরে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে পায় তারা। আহত শিব্বিরকে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে দায়িত্বরত অবস্থায় নিজ হাসপাতালে রোগীর অভিভাবকের সাথে নিজের বাকবিতণ্ডার কথা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোয়াজ্জেম আলী খানকে পর্যন্ত অবহিত করেননি নার্স রাবিয়া। বরং শিব্বিরকে নিজের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মারধর করে উল্টো থানায় অভিযোগ দেন রাবিয়া।
শিব্বির আহমদ অভিযোগ করে বলেন, আমাকে মারধরের পর আমার পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়ার জন্য আমার ভাই গেলে আমার অভিযোগপত্র রাখা হয় নি। তাছাড়া আমাকে এই ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা ও আরো কয়েকজন খুব বেশি চাপপ্রয়োগ করছেন। এখন কি করবো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, আমি নিজেই শংকিত।
শিব্বির আহমদের অভিযোগপত্র গ্রহণ না করার বিষয় জানতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্সের অভিযোগ পেয়েছি আর কারো অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




