লিড নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার : প্রতিবাদে দিরাই ছাত্রলীগের স্মারকলিপি

দিরাই প্রতিনিধিঃ ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অনলাইনে দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশসহ তথ্য সন্ত্রাসের অভিযোগে দিরাই উপজেলা ২০ দলীয় ঐক্যজোটের সদস্য সচিব ইসলামী জামায়াত নেতা মুহাম্মদ ইমরান হোসাইন ও তার ভাই শাল্লা উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবুল হোসাইন কে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে ম্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে উক্ত স্মারকলিপি দাখিল করেন দিরাই উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সায়েল আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক সোহেল , উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব রায়, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি উজ্জল আহমদ চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক মান্না তালুকদার লিমন সহ নেতৃবৃন্দ।

এতে উল্লেখ করা হয়, ইমরান ও তার ভাই আবুল হোসেন ১৯৭৪ইং সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২) ধারায় দিরাই থানার মামলা নং ১৪ (জিআর ২১৯/২০১৬) তাং ১৭/১২/২০১৬ইং এর ১৩ ও ১৪ নং আসামী। দিরাই থানার এসআই শাহ আলম ভূইয়া (বিপি নং ৬৭৮৬০৮২৩৯৬) বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার দায়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি দিরাই থানার এসআই শামসুল হক খানের (বিপি নং ৮৫১৩১৫৬৬৪০) কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দানের ঘটনায় উক্ত ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে দিরাই থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান দিরাই থানায় জিডি দায়ের করেন। ইমরানের ভাই আবুল হোসাইনকে পুলিশই নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে আটক করে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের লক্ষ্যে তারা ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদগার ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য ড.জয়াসেন গুপ্তা,উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার,মেয়র মোশাররফ হোসেনসহ দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে। তারা গভীর সংগোপনে সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক নাশকতা সৃষ্টি ও পর্দার অন্তরালে থাকা জঙ্গীবাদকে লালন ও উৎসাহিত করে যাচ্ছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। ১৬ দফা অভিযোগ সম্বলিত স্মারকলিপিতে আরো দাবী করা হয়,১৯৯৭ সালে দিরাই উপজেলা সদরে প্রকাশ্যে দিবালোকে থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি নান্টু রায়কে খুন করা হয়। এ ঘটনার দায়ে পরিচালিত খুনের মামলা বিজ্ঞ আদালতে এখনও বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে শাল্লা উপজেলা সদরে জাতীয় নেতা অকাল প্রয়াত সংসদ সদস্য বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির নির্বাচনী সভায় বোমা হামলা পরবর্তীতে দিরাই বাজারের জনসভায় গ্রেনেড হামলা এবং জোট সরকারের আমলে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এর সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দেশী বিদেশী ও স্থানীয় কুচক্রী মহলের যোগসাজস রয়েছে। পরিকল্পিত এসব কিলিং মিশনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা এখনও বিচারাধীন। জাতীয়ভাবে জঙ্গীবাদ দমনে সরকার সফল হলেও দিরাই উপজেলা সদরে গ্রেনেড হামলা ও শাল্লা উপজেলা সদরে বোমা হামলাকারীরা এখনও চিহ্নিত বা আটক হয়নি। এসব ঘটনায় অজ্ঞাত কোন সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকতে পারে কিনা সে ব্যাপারে গোপনীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা থেকে নিজেদেরকে আত্মরক্ষাকল্পে নিরাপদ পেশা হিসেবে আসামী সহোদররা সংবাদকর্মী পেশাকে বেঁচে নিয়েছে,তাদের ধারনা নিজেদেরকে সক্রিয় রাখলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থেকে আত্মরক্ষার পাশাপাশি দালালীর আশ্রয়ে নিজেদের লোকদেরকে নিরাপদ রাখা যাবে। তারা দেশ বিদেশে সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে কাজ করছে। এছাড়াও আসামী ইমরান হোসাইন তার নিজের ফেইসবুক আইডি ‘ইমরান হোসাইন’ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালায়। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বিক্রিত করে বিভিন্ন পোষ্ট দেয় ও লিংক শেয়ার করে।

Related Articles

Back to top button