লিড নিউজসারাদেশ

‘ত্রাণের জন্য বিধবা ও সিঙ্গেল মাদার আমার বাসার সামনে হাজির হন’

ফাহাদ মারুফ:  মহামারী করোনা ভাইরাসে অসহায়ত্ব নেমে এসেছে জনজীবনে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সংক্রমণের সংখ্যা, দীর্ঘ হতে চলেছে লাশের সারি। তাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পুরোদেশে জনস্বার্থে লক ডাউন করেছে সরকার।

এতে অসহায় হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় সেসব দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ।

বিশেষ করে যারা অসহায় বিধবা ও সিঙ্গেল মায়েদের জন্য এই সমস্যাটা বিরাট আকার ধারণ করেছে। কারণ উনারা লাইনে দাড়াতে পারেন না, আবার মুখ খুলে কারো কাছে চাইতে ও পারেন বলতে ও পারেন না।

এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাতিক্রম উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাংকার শামীম আহমেদ। সহায় বিধবা ও সিঙ্গেল মায়েদের দোয়ারে দোয়ারে নিয়ে যাচ্ছেন ত্রাণ। বুধবার ২২ এপ্রিল ত্রাণ বিতরণ করেন শামীম আহমেদ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে এই মহতী উদ্যোগের একটি পোস্ট দিয়েছেন ব্যাংকার শামীম আহমেদ।

নিচে পাঠকদের জন্য ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল:

অসহায় সিঙ্গেল মায়েদের মাঝে এাণ সামগ্রী দিয়ে সহযোগীতার ক্ষুদ্র প্রয়াস।

ঢাকার আদাবর ১৬ নং ১ জন ও শনিরবিলে ২ জন সিঙ্গেল মা সহ মোট ৩ জনের মাঝে খাবার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গত দুইদিন যাবৎ ওনারা ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ করছিলেন। আমি জানতে চাই আমার ফোন নাম্বার ওনারা কোথায় পেয়েছে। বললেন ফেসবুকে আমার একটা এাণ বিতরন সংক্রান্ত পোষ্ট থেকে। আমি ওনাদের বিকাল ৩ টায় আমার বাসার সামনে আসতে বলি।

বিকাল ৩ টার মধ্যে আমি আমার অফিস শেষ করে আদাবরে চলে আসি। তখনো আমি দুপুরের খাবার খাইনি। বাসায়ও ঢুকিনি। এরই মাঝে ৩ জন সিঙ্গেল মা আমার বাসার সামনে এসে হাজির। বয়স আনুমানিক ২০-৩০ বছর হবে। আমি তাঁদের পারিবারিক অবস্হ্য ও সত্যতা যাচাই করার জন্য ২ জনের সাথে হেটে হেটে শনিরবিলে চলে যাই।

 

ওনাদের সাথে সাথে চিপা একটা সিড়ি দিয়ে দুই তলা একটা বাড়িতে উঠি।দ্বিতীয় তলার মাঝ দিয়ে একটা করিডোর। দুই পাশে ছোট ছোট রুম। এই বাড়িটাতে থাকে ফোনে যোগাযোগ করা দুইজন সিঙ্গেল মা।

একজনের ২ টা বাচ্চা,স্বামী ছেড়ে চলে গেছে এবং অন্যএ বিয়ে করেছে। মানুষের বাড়ি বাড়িতে কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়ে দুই বাচ্চার সংসার কোনো রকম চলে। বাসা ভাড়া ও আনুসাংগিক খরচ করে ঘরে খাবারের তেমন কিছু নাই।

 

সরকারি ভাবে কোনো প্রকার এাণ পায়নি। কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতেও পারছে না।সবকিছু শুনার পর ওনাদের দুইজনকে আমি একটা দোকানে নিয়ে আসি। সেই দোকান থেকে চাল,ডাল, আটা, আলু, তেল, লবন, পেয়াজ কিনে ওনাদের দুইজনের হাতে তোলে দেই।

আরেকটা এাণের প্যাকেট (প্রায় ১৩ কেজি) আমি আমার কাঁধে করে শনিরবিল থেকে আদাবর ১৬ নাম্বারে আরেকজন সিঙ্গেল মায়ের জন্য নিয়ে আসি এবং ওনার হাতে তোলে দেই।ওনারও দুই সন্তান এবং জীবনের ইতিহাস একরকম।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করার পর ৩ জন পরিবার আমাদের এই সামান্য খাবার সামগ্রী পেয়ে অনেক খুশি হয়েছে।

সারা বাংলাদেশে এদের মতো অসংখ্য মা আছেন যাদের স্বামীরা স্ত্রী ও সন্তান ফেলে অন্য কোথাও চলে গেছে। স্ত্রী বা সন্তানদের ভরণ পোষন তো দূরের কথা, কখনো ফোনে খোঁজটুকু পর্যন্ত নেয় না।

 

ইচ্ছে শক্তি,কিছু সময়,কিছু শ্রম ও কিছু অর্থ বয়ে আনতে পারে অনেকগুলো মানুষের মুখের হাসি ও অনন্দ। পেয়ে যাবেন অসহায় মানুষগুলো আত্বা থেকে দোয়া ও ভালোবাসা।

তাই আসুন দেশের এই দূর্যোগময় সময়ে এই সকল অসহায় সিঙ্গেল মাদার ও বিধবা মায়েদের পাশে এসে দাঁড়ায়।

“শামীম অাহমেদ”
Email: helphandsbd@gmail.com

Relief in response to COVID-19

Related Articles

Back to top button