লিড নিউজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহিনুর পাশাকে নিয়ে ঝড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহিনুর পাশা চৌধুরী। বিগত বিএনপির নেতৃৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন ধানেরশীষ প্রতীকে। বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করলেও তিনি মূলত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ন-মহাসচিব।

ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষার কারনে জোটের রাজনীতিতে বেশ কদর তার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে রোড মার্চ আহ্বান ও শেষ পর্যন্ত যেতে না পারা নিয়ে বেশ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে রোডমার্চকে পুঁজি করে তিনি প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছেন। অবশ্য তিনি নিজেও তার কর্মীদের দিয়ে এর জবাব দিয়েছেন। আর জবাবে রয়েছে যথেষ্ট গড়মিল। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ রসালো আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। তাকে নিয়ে পুরো সিলেটজুড়ে চলছে কানাঘুষা।

জানা যায়, হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ব্যানারে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে টেকনাফ অভিমূখে রোডমার্চ কর্মসূচী দেন এই জমিয়ত নেতা। কর্মসূচীর শুরু থেকেই বিতর্ক চললেও শেষ পর্যন্ত যদি এটি সফলভাবে সম্পন্ন হতো হবেই হয়তো বিতর্ক থেকে বেঁচে যেতেন তিনি। কিন্তু নাটকীয়ভাবে রশীদপুর থেকে ফিরে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

অভিযোগ উঠেছে অধিকাংশ গাড়িকেই তিনি শেরপুর পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছিলেন। এমনকি রোডমার্চে মনিটরিং সেলের যে ট্রাকটি ব্যবহার করা হয় সেই ট্রাক এবং মাইক শেরপুর পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হয়েছিল।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ এসব বিষয় নিয়ে বৃহষ্পতিবার ফেইসবুকে একটি পোষ্ট দিলে শুরু হয় তোলপাড়। তার পোষ্টের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন জমিয়ত নেতা ও রোডমার্চের অন্যতম সমন্বয়ক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী।

মি. মালিক তার জাববের পোষ্টে যেসব তথ্য দিয়েছেন তাতেও রয়েছে বেশ ফারাক। এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন শুধু মিডিয়া বাবদ নাকি ৭৭ হাজার ৬শত ৯৯ টাকা খরচ হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে এই টাকা গেল কোথায়?

যদিও মি. মালিক এই খরচের খাতে দেখিয়েছেন-
#সিলেটে গোল্ডেন সিটি ইন্টারন্যাশনালে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ ২৭৮৯৯।
# সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে মত বিনিময়ে আপ্যায়ন ৩৪০০।
# ১০ টি জেলা সফর শেষে আপডেট জানাতে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ ১৫০০০।
# মিডিয়া সেল ৯৯০০।
# সাংবাদিক বাবত মিডিয়া সেল ২১৫০০।

তবে খোঁজ নিয়ে যানা যায়, যেখানে সংবাদ সম্মেলন করলে প্রেসক্লাব সমূহের নির্ধারিত ফিস দিতে হয় সেখানে মানবতার কথা বলে ফিসই দেয়া হয়নি, সেখানে এত টাকা কিভাবে খরচ হলো।

সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদের ফেইসবুক পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

।। রোডমার্চের নামে ভয়ংকর প্রতারণাঃ ধৈর্য্য ধরে পড়ুন ।।
হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’র ব্যানারে সিলেট-টেকনাফ রোডমার্চ। উদ্দেশ্য, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ । পক্ষকাল ধরে ব্যাপক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চলছিলো প্রচারণা। চলেছে অনুদান সংগ্রহ। কোটি টাকার বাজেট হয়েছে।কর্তৃপক্ষই বলেছে দেশ-বিদেশ থেকে এ অনুদান সংগ্রহ হয়েছে। শরনার্থীদের জন্য ত্রান, না রোড মার্চ- কোনটা বেশি জরুরী, এমন প্রশ্নের চেয়ে আরো ভয়ংকর খবর এখন সামনে। সেটি রীতিমত প্রতারণা, ভন্ডামি। রোডমার্চের জন্য আসা কোটি টাকার অনুদান জায়েজ করতে অভিনব এক কূটকৌশল। এ কৌশলের ধূর্ততার কাছে চাপা পড়েছে মানবিকতা। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রচিত হয়েছে এক অধর্মের ঘৃন্য উপাখ্যান। এ উপাখ্যানের নায়ক ধর্মীয় লেবাসধারী একটি গোষ্টি।
রোডমার্চের আগের দিন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’র চেয়ারম্যান শাহিনূর পাশা চৌধুরী। দাবী করেন, প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে রোডমার্চের। দুই শতাধিক গাড়ি থাকবে বহরে। খরচ হবে কোটি টাকার ওপরে।
বৃহস্পতিবার নির্ধারিত স্থান হুমায়ূন রশীদ চত্বর থেকে ৬৮টি গাড়ির বহর নিয়ে শুরু হয় রোডমার্চ । কয়েক কিলোমিটারের মাথায় রশিদপুর যাওয়ার আগেই রোডমার্চ থামিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, রোডমার্চের কোন প্রশাসনিক অনুমোদন নেয়া হয়নি। ত্রান বিতরণের জন্য নেয়া হয়েছে অনুমোদন।এত গাড়ি, এত মানুষ; কিন্তু ত্রান কই? খোঁজা শুরু হলো। ৬৮টি গাড়ির মধ্যে ৬৭টিতেই শুধু মানুষ, একটি গাড়ির পেছন দিকে পাওয়া গেলো অল্প কিছু ত্রানের প্যাকেট। পুলিশ সেই গাড়িটি ছেড়ে দেয়। বাকি সবাইকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।
সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের মূখপাত্র জেদান আল মূসা জানিয়েছেন, ত্রান বিতরণের কথা বলেই পুলিশের কাছ থেকে অনুমোদন চাওয়া হয়েছিলো। মানবিক কারণে সে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের রোডমার্চের বহরে ত্রাণ ছিলো গৌণ। সঙ্গত কারণেই তা আটকে দেয়া হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রোডমার্চের অনুমোদন না পেয়েও অনুমোদন পাওয়ার দাবী কেন করেছিলেন উদ্যোক্তারা? সেখানেও লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারণার কৌশল। অনুমোদন না পাওয়ার খবর চাউর হলে সংগৃহিত বিশাল অংকের অনুদানের টাকা ফেরত চাইতে পারেন দাতারা।তাই যেভাবেই হোক একটি রোডমার্চের শোডাউন না করলে যে নয়। আর তা করতে পারলেই কোটি টাকা জায়েজ। সংবাদ সম্মেলনে শাহিনূর পাশা চৌধুরী দাবী করেছিলেন, দুই শতাধিক গাড়ি থাকবে রোডমার্চের বহরে। অথচ, মাত্র ৬৮টি গাড়ি নিয়েই শুরু হয় যাত্রা। দুই’শ গাড়ির জন্য কোটি টাকার বাজেট হয়েছিলো। তাহলে গাড়ি ৬৮টি কেন? আর বহরে যোগ দেয়া গাড়িগুলোর মান দেখে যে কেউ বুঝতে পারবেন এ ধরনের লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নিয়ে সিলেট-টেকনাফ দুই হাজার কিলোমিটারের (যাওয়া-আসা) সফর সম্ভব নয়। এর মানে কি? মানে, উদ্যোক্তারা নিজেরাই জানতেন, রোডমার্চ সফল হবে না। তাদেরকে আটকে দেয়া হবে, যেহেতু অনুমোদন নাই।কিন্ত এতদিনে সংগৃহিত টাকা হজম করতে হবে যে। তাই কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে কিছু গাড়ি নিয়ে রোডমার্চ শুরুর একটি মহড়া করা তাদের জন্য অনিবার্য ছিলো।হয়েছেও তাই।
আরো মজার তথ্য হলো, রোডমার্চের জন্য যেসব গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছিলো সেগুলোকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য রিজার্ভ করা হয়নি। কয়েক ঘন্টার জন্য তাদের রিজার্ভ করা হয়েছিলো।উদ্যোক্তা সংগঠনের এক কর্মকর্তাই জানিয়েছেন এ তথ্য। তিনি জানান, প্রতিটি গাড়ি ৩৫০০ টাকা করে ভাড়া করা হয়। আর যেসব মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা রোডমার্চে যোগ দিয়েছিলেন তাদেরকে শেরপুর পর্যন্ত যাওয়ার কথা বলে আনা হয়েছে বলেও জানান এই নেতা।
এখন হিসেব করুনতো.. এই ৬৮টি গাড়ির ভাড়া কত হতে পারে? দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রচার-প্রচারণাসহ সব মিলিয়ে ধরুন আরো দুই লাখ টাকা খরচ। অর্থাৎ পাঁচ লাখের মধ্যেই মামলা খতম। এক কোটি থেকে পাঁচ লাখ বাদ দিলে কত বাকি থাকে? ৯৫ লাখ টাকা।
মাশাআল্লাহ ! এমন ইস্যূ যদি বছরে দুয়েকবার আসে, তাহলে আগামি নির্বাচনের খরচ যোগাড় হয়ে যাবে অনায়াসেই।

মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরীর ফেইসবুক পোষ্টটি হুবহু তুলেধরা হলো-

””””অভিযোগের জবাবে শাহিনুর পাশা চৌধুরী ””””” সফল রোড মার্চ দেখে যারা আমার ইজ্জতহানীর চেষ্টা করছেন, আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার পোস্ট। কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় ক্ষমা প্রার্থী।
বার্মার মুসলমানদের এই দুঃসময়ে কোন রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তি যখন শক্ত কোন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারেনি, তখন ঈমানের তাকীদে এই দুঃসাহসিক রোড মার্চ কর্মসূচী হাতে নেয়ায় এক শ্রেণীর মানুষের চক্ষুশূল হলাম আমি। আমার চরিত্র নিয়ে নানা অপবাদে জর্জরিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে কোটি টাকার প্রতারণা।

একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এই মাসের ৬ তারিখ সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে আজ ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিন সময় হাতে পাই।
“হিউম্যানিটি ফর রুহিংগা বাংলাদেশ” নামে আমরা এক ঝাক কাফেলা দিবা রাত্রি রাজধানী ঢাকা ২ বার সহ ১০ টি জেলায় আমরা সফর করি। আমার মুরব্বী হিসেবে ঐতিহ্যবাহী রেংগা মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান সাহেবকে প্রধান সমন্বয়কারী ও মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল আতাউর রহমান পীর স্যারকে সংগঠনের চীপ এডভাইজার ও রোড মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সিলেট সিটির কনভেনার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাই।
যেহেতু ইস্যুটি মানবিক। আমাদের গণ সংযোগ টিম এই ১৫ দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা সমিতি, মত বিনিময়, একান্ত বৈঠক সহ সহস্রাধিক মানুষের সাথে পরামর্শে মিলিত হই।
বিশাল এই কাজে সময়ের স্বল্পতাহেতু সকলের কাছে যেতে পারিনি, পরামর্শ নিতে পারিনি। তাই বাহক হিসেবে সিলেটে ২ টি সাংবাদিক সম্মেলন, ২ টি মত বিনিময় ও রাজধানীতে ১ টি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সকলের কাছে মেসেজটুকু পৌঁছানোর চেষ্টা করি।
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছিলাম ২ শতাধিক অথবা তার চেয়েও বেশী গাড়ী বহর আমাদের রোড মার্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দূরত্বের সফর হওয়ার কারণে মানুষের আগ্রহ থাকলেও সবাই অংশগ্রহণ করতে পারেনি– তবে আমাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন।

আমাদের এই কর্মসূচীর সফলতা দেখে কতিপয় হিংসুটে প্রকৃতির মানুষ বিষোদগার করতে গিয়ে বলেছেন– ২ শতাধিক গাড়ীর কথা বলে আমরা ফান্ডিং করেছি অথবা ত্রাণের কথা বলে মোটা অংকের চাঁদা সংগ্রহ করেছি।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো– অযৌক্তিক পাগলের প্রলাপ শুনিয়ে ইজ্জতহানী করতে পারবেন না– যদি আল্লাহর নুসরত থাকে।
১৫ দিনে ১০ টি জেলা সফর করতে গিয়ে যেখানে ঘুমোবার ফুরসতই পেলামনা। সেখানে চাঁদা করার সময়টুকু কোথায়। ফেইসবুকে অথবা মিডিয়ায় দেখে দেশ ও প্রবাসের যেসব সুধী, বন্ধু বান্ধব ও দলীয় নেতাকর্মীরা যে সহযোগিতা করেছেন, এটাই আমাদের কালেকশন।
আমরা ত্রাণের জন্য পারমিশন চাইবো কেন? এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্ব- উদ্দোগে যাচ্ছে, সরকারও কোন বাধার সৃষ্টি করছেনা। আমরা ত্রাণ দিলেনা কালেকশনের প্রশ্ন। আমরা রোড মার্চের পারমিশন চেয়েছি। আমরা জেলায় জেলায় সফর করে মানুষকে রোড মার্চ কাফেলায় স্ব- উদ্দোগে গাড়ী নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছি। আমরা নিজে গাড়ী ভাড়া করে মানুষকে নিয়ে যাবার সেই অঢেল সম্পদ হিউম্যানিটি ফর রুহিংগা অথবা আমাদের নেই।
যেকারণে স্বেচ্ছায় যারা সাহায্য করেছেন, তাদেরকে মোবারকবাদ।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য হিউম্যানিটি ফর রুহিংগার রোড মার্চ ঘোষণার পর থেকে ১৫ দিনে অর্থাত আজকের রোড মার্চ পর্যন্ত মোট হিসেবটি ওদের দাত ভাংগা জবাব দিতে চ্যালেন্জ হিসেবে উপস্থাপন করলাম।
আমাদের পোস্টার, লিফলেট, বেনার, সাংবাদিক সম্মেলন ৩ টি, গণ সংযোগ এবং আজকের খরচ সহ মোট টাকা ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ২৫৩
মোট আয় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকা।
ঘাটতি ৩৮ হাজার ২৪৬ টাকা।।

আয়ের খাত এবং ব্যক্তি ও সংস্থার নাম ও পরিমাণ উল্লেখ করলাম—-
১. হাজী তখলিছ মিয়া, ডারবী Uk 20,000 টাকা।
২. ডাক্তার সৈয়দ খুররম– রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল 4000 টাকা
৩. কাইয়ূম কামালী ও হাফিজ সৈয়দ জুনায়েদ আহমদ Oldham Uk 10000 টাকা
৪. হিফজুল করীম মাশুক Uk 5000 টাকা
৫. মাওলানা মিলাদ, দারুল কুরআন মাদরাসা 5000 টাকা
৬. মাওলানা ছাদিকুর রহমান Oldham Uk 10000 টাকা
৭. বাদাঘাট শিবের বাজার সংস্থা কাপড় সহ কেশ 23400 টাকা
৮. হাজী মোহাম্মদ আলী, কাতার 25000 টাকা
৯. হাফিজ মাওলানা লোকমান খান 5000 টাকা।
১০. একজন পথিক গাড়ীতে 100 ( একশত টাকা) টাকা।
আমার নাম ও পীর আতাউর রহমান স্যার এবং ভাইস চেয়ারম্যান তৈয়্যবুর রহমান চৌধুরীর নামে রোড মার্চের যৌথ একাউন্টে এ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন
১১. আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, উমান 25000 টাকা
১২. উমান জমিয়ত থেকে আব্দুল হালীম সাতবাকী সাহেবের মাধ্যমে 36507 টাকা।
১৩. জনৈক ব্যক্তি 15000 টাকা
( সিরিয়াল ১১ থেকে ১৩ জমা হয়েছে ব্যাংকে 76507 টাকা)
১৪. মাওলানা জহিরুদ্দীন দরবস্তী দুবাই, বিকাশে 20 000 টাকা
১৫. আমাদের মাদরাসার ফুজালা ও বর্তমান ছাত্রদের গাড়ী ভাড়া করার জন্য এবং খুসরা ব্যক্তি গাড়ীর সিট বুকিং সহ তাদের কাছ থেকে সংগ্রহকৃত মোট টাকা 60 000 টাকা
১৬. মাওলানা কবির আহমদ খান
50 000 টাকা।
এই ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকার উপরে কোন ব্যক্তি যদি বলেন, এক টাকাও চাঁদা দিয়েছেন, অথবা প্রমাণ করতে পারেন, তাদের প্রতি ওপেন চ্যালেন্জ ছুড়তে বাধ্য হলাম।
আর সর্ব সাকুল্যে ১৫ দিনে মোট খরচ হলো ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ২৫৩ টাকা।
ঘাটতি ৩৮ হাজার ২৪৬ আমার পকেট থেকে খরচ করেছি।
খরচের আইটেমগুলোও আপনারা চাইলে দেখাতে পারবো।
ব্যয়ের খাত:
#সিলেটে গোল্ডেন সিটি ইন্টারন্যাশনালে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ– ২৭৮৯৯
#সকল শ্রেণীপেশার নাগরিকদের সাথে মত বিনিময়– ৪৪৫০
# সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে মত বিনিময়ে আপ্যায়ন– ৩৪০০
# ১০ টি জেলা সফর শেষে আপডেট জানাতে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ– ১৫০০০
#পোস্টার,লিফলেট ই.৩৫২৩০
# পোস্টার লাগানো– ২৬০০
# মিডিয়া সেল– ৯৯০০
# প্রচার মিছিল– ১২১০০
# সংগীত শিল্পীকে হাদিয়া-১৫০০
# শায়েস্তাগন্জে পথসভা- ৩০০০
# কক্সবাজারে ত্রাণ- ৭০০০
# ১০ দিন সফরে খাবার- ৯৪৩৫
# রোড মার্চের স্টেইজ- ৮০০০
# ১৬ দিন গাড়ী ভাড়া -৭২২৭৬
# রোড মার্চে গাড়ী – ৯৯০০০
# সাংবাদিক বাবত মিডিয়া সেল
২১৫০০
# গাড়ীর পেট্রল –৬৫০
# বিবিধ– ২৬১৩
———————————-
৩৫২২৫৩
আশা করি ভদ্র লোকের জবাব পেয়েছেন। আশ্চর্য হলাম সদ্য হজ্ব ফেরত সাংবাদিক বন্ধুটি কি করে একজন মানুষের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার করতে পারেন।
আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য হেদায়াতের ফয়সালা করুন।সফল রোড মার্চ দেখে যারা আমার ইজ্জতহানীর চেষ্টা করছেন, আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার পোস্ট। কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় ক্ষমা প্রার্থী।
বার্মার মুসলমানদের এই দুঃসময়ে কোন রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তি যখন শক্ত কোন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারেনি, তখন ঈমানের তাকীদে এই দুঃসাহসিক রোড মার্চ কর্মসূচী হাতে নেয়ায় এক শ্রেণীর মানুষের চক্ষুশূল হলাম আমি। আমার চরিত্র নিয়ে নানা অপবাদে জর্জরিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে কোটি টাকার প্রতারণা।

একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এই মাসের ৬ তারিখ সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে আজ ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিন সময় হাতে পাই।
“হিউম্যানিটি ফর রুহিংগা বাংলাদেশ” নামে আমরা এক ঝাক কাফেলা দিবা রাত্রি রাজধানী ঢাকা ২ বার সহ ১০ টি জেলায় আমরা সফর করি। আমার মুরব্বী হিসেবে ঐতিহ্যবাহী রেংগা মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান সাহেবকে প্রধান সমন্বয়কারী ও মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল আতাউর রহমান পীর স্যারকে সংগঠনের চীপ এডভাইজার ও রোড মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সিলেট সিটির কনভেনার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাই।
যেহেতু ইস্যুটি মানবিক। আমাদের গণ সংযোগ টিম এই ১৫ দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা সমিতি, মত বিনিময়, একান্ত বৈঠক সহ সহস্রাধিক মানুষের সাথে পরামর্শে মিলিত হই।
বিশাল এই কাজে সময়ের স্বল্পতাহেতু সকলের কাছে যেতে পারিনি, পরামর্শ নিতে পারিনি। তাই বাহক হিসেবে সিলেটে ২ টি সাংবাদিক সম্মেলন, ২ টি মত বিনিময় ও রাজধানীতে ১ টি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সকলের কাছে মেসেজটুকু পৌঁছানোর চেষ্টা করি।
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছিলাম ২ শতাধিক অথবা তার চেয়েও বেশী গাড়ী বহর আমাদের রোড মার্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দূরত্বের সফর হওয়ার কারণে মানুষের আগ্রহ থাকলেও সবাই অংশগ্রহণ করতে পারেনি– তবে আমাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন।

আমাদের এই কর্মসূচীর সফলতা দেখে কতিপয় হিংসুটে প্রকৃতির মানুষ বিষোদগার করতে গিয়ে বলেছেন– ২ শতাধিক গাড়ীর কথা বলে আমরা ফান্ডিং করেছি অথবা ত্রাণের কথা বলে মোটা অংকের চাঁদা সংগ্রহ করেছি।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো– অযৌক্তিক পাগলের প্রলাপ শুনিয়ে ইজ্জতহানী করতে পারবেন না– যদি আল্লাহর নুসরত থাকে।
১৫ দিনে ১০ টি জেলা সফর করতে গিয়ে যেখানে ঘুমোবার ফুরসতই পেলামনা। সেখানে চাঁদা করার সময়টুকু কোথায়। ফেইসবুকে অথবা মিডিয়ায় দেখে দেশ ও প্রবাসের যেসব সুধী, বন্ধু বান্ধব ও দলীয় নেতাকর্মীরা যে সহযোগিতা করেছেন, এটাই আমাদের কালেকশন।
আমরা ত্রাণের জন্য পারমিশন চাইবো কেন? এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্ব- উদ্দোগে যাচ্ছে, সরকারও কোন বাধার সৃষ্টি করছেনা। আমরা ত্রাণ দিলেনা কালেকশনের প্রশ্ন। আমরা রোড মার্চের পারমিশন চেয়েছি। আমরা জেলায় জেলায় সফর করে মানুষকে রোড মার্চ কাফেলায় স্ব- উদ্দোগে গাড়ী নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছি। আমরা নিজে গাড়ী ভাড়া করে মানুষকে নিয়ে যাবার সেই অঢেল সম্পদ হিউম্যানিটি ফর রুহিংগা অথবা আমাদের নেই।
যেকারণে স্বেচ্ছায় যারা সাহায্য করেছেন, তাদেরকে মোবারকবাদ।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য হিউম্যানিটি ফর রুহিংগার রোড মার্চ ঘোষণার পর থেকে ১৫ দিনে অর্থাত আজকের রোড মার্চ পর্যন্ত মোট হিসেবটি ওদের দাত ভাংগা জবাব দিতে চ্যালেন্জ হিসেবে উপস্থাপন করলাম।
আমাদের পোস্টার, লিফলেট, বেনার, সাংবাদিক সম্মেলন ৩ টি, গণ সংযোগ এবং আজকের খরচ সহ মোট টাকা ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ২৫৩
মোট আয় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকা।
ঘাটতি ৩৮ হাজার ২৪৬ টাকা।।

আয়ের খাত এবং ব্যক্তি ও সংস্থার নাম ও পরিমাণ উল্লেখ করলাম—-
১. হাজী তখলিছ মিয়া, ডারবী Uk 20,000 টাকা।
২. ডাক্তার সৈয়দ খুররম– রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল 4000 টাকা
৩. কাইয়ূম কামালী ও হাফিজ সৈয়দ জুনায়েদ আহমদ Oldham Uk 10000 টাকা
৪. হিফজুল করীম মাশুক Uk 5000 টাকা
৫. মাওলানা মিলাদ, দারুল কুরআন মাদরাসা 5000 টাকা
৬. মাওলানা ছাদিকুর রহমান Oldham Uk 10000 টাকা
৭. বাদাঘাট শিবের বাজার সংস্থা কাপড় সহ কেশ 23400 টাকা
৮. হাজী মোহাম্মদ আলী, কাতার 25000 টাকা
৯. হাফিজ মাওলানা লোকমান খান 5000 টাকা।
১০. একজন পথিক গাড়ীতে 100 ( একশত টাকা) টাকা।
আমার নাম ও পীর আতাউর রহমান স্যার এবং ভাইস চেয়ারম্যান তৈয়্যবুর রহমান চৌধুরীর নামে রোড মার্চের যৌথ একাউন্টে এ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন
১১. আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, উমান 25000 টাকা
১২. উমান জমিয়ত থেকে আব্দুল হালীম সাতবাকী সাহেবের মাধ্যমে 36507 টাকা।
১৩. জনৈক ব্যক্তি 15000 টাকা
( সিরিয়াল ১১ থেকে ১৩ জমা হয়েছে ব্যাংকে 76507 টাকা)
১৪. মাওলানা জহিরুদ্দীন দরবস্তী দুবাই, বিকাশে 20 000 টাকা
১৫. আমাদের মাদরাসার ফুজালা ও বর্তমান ছাত্রদের গাড়ী ভাড়া করার জন্য এবং খুসরা ব্যক্তি গাড়ীর সিট বুকিং সহ তাদের কাছ থেকে সংগ্রহকৃত মোট টাকা 60 000 টাকা
১৬. মাওলানা কবির আহমদ খান
50 000 টাকা।
এই ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭ টাকার উপরে কোন ব্যক্তি যদি বলেন, এক টাকাও চাঁদা দিয়েছেন, অথবা প্রমাণ করতে পারেন, তাদের প্রতি ওপেন চ্যালেন্জ ছুড়তে বাধ্য হলাম।
আর সর্ব সাকুল্যে ১৫ দিনে মোট খরচ হলো ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ২৫৩ টাকা।
ঘাটতি ৩৮ হাজার ২৪৬ আমার পকেট থেকে খরচ করেছি।
খরচের আইটেমগুলোও আপনারা চাইলে দেখাতে পারবো।
ব্যয়ের খাত:
#সিলেটে গোল্ডেন সিটি ইন্টারন্যাশনালে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ– ২৭৮৯৯
#সকল শ্রেণীপেশার নাগরিকদের সাথে মত বিনিময়– ৪৪৫০
# সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে মত বিনিময়ে আপ্যায়ন– ৩৪০০
# ১০ টি জেলা সফর শেষে আপডেট জানাতে সাংবাদিক সম্মেলনে আপ্যায়ন সহ– ১৫০০০
#পোস্টার,লিফলেট ই.৩৫২৩০
# পোস্টার লাগানো– ২৬০০
# মিডিয়া সেল– ৯৯০০
# প্রচার মিছিল– ১২১০০
# সংগীত শিল্পীকে হাদিয়া-১৫০০
# শায়েস্তাগন্জে পথসভা- ৩০০০
# কক্সবাজারে ত্রাণ- ৭০০০
# ১০ দিন সফরে খাবার- ৯৪৩৫
# রোড মার্চের স্টেইজ- ৮০০০
# ১৬ দিন গাড়ী ভাড়া -৭২২৭৬
# রোড মার্চে গাড়ী – ৯৯০০০
# সাংবাদিক বাবত মিডিয়া সেল
২১৫০০
# গাড়ীর পেট্রল –৬৫০
# বিবিধ– ২৬১৩
———————————-
৩৫২২৫৩
আশা করি ভদ্র লোকের জবাব পেয়েছেন। আশ্চর্য হলাম সদ্য হজ্ব ফেরত সাংবাদিক বন্ধুটি কি করে একজন মানুষের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার করতে পারেন।
আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য হেদায়াতের ফয়সালা করুন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী সিলেট মিডিয়া ডটকমকে বলেন, সংবাদ সম্মেলন সমূহে প্রেসক্লাবসমূহের যাবতীয় ফিস যথাযতভাবে প্রদান করা হয়েছে। আর এসব ব্যয় মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরীর হাতে হওয়ায় এ সম্পর্কে আমি অবগত নই।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী সিলেট মিডিয়া ডটকমকে বলেন, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরীর বক্তব্যই আমার বক্তব্য।

Related Articles

Back to top button