সুনামগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রকে বৎলকারের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফের চতুর্থ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রকে বৎলকারের অভিযোগ উঠেছে।’ অভিযুক্ত’র নাম, সৈয়দ আলফাজ উদ্দীন।’ তিনি উপজেলার ললিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিভাবকগণ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’ইতিপুর্বে ওই করিৎকর্মা শিÿক তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে বলৎকারের মত ঘটনা ঘটিয়ে একাধিকবার বদলী হন।’
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ললিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আলফাজ ১১ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রকে লেখাপড়া করানোর কথা বলে গত ০৭ ফেব্রƒয়ারী সন্ধায় বিদ্যালয় কক্ষে ডেকে নিয়ে জোর পুর্বক বলৎকার করেন।’ বলৎকারের শিকার ছাত্রকে এ ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন ওই শিক্ষক ।’
বাড়ি ফিরে ওই ছাত্র তার পরিবারের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করে প্রতিকার চাওয়া হয়।’ এরপর কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল থেকে ৭০জন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সহ দায়িত্বশীল কতৃপক্ষের নিকট অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।’ এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আলফাজ উদ্দীন এলাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন।’
উপজেলার ললিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহসিনা খাতুন বলেন, ‘ সহকারি শিক্ষক সৈয়দ আলফাজ উদ্দীন কর্তৃক ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রকে যৌন হয়রানির ঘটনাটি আমাকে জানানোর পর আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিষয়টি অবহিত করেছি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আকবর আলী বৃহস্পতিবার জানান,‘নির্যাতিত শিশুর পরিবারের লোকজন আমাকে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনার সত্যতা ও পাওয়া গেছে এমনকি উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে ঘটনার সত্যতাও পেয়েছেন।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বৃহস্পতিবার বললেন,‘আমি ইতিপর্বে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক ঘটনার সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি।’
উল্লেখ্য, সহকারি শিক্ষক আলফাজ উদ্দীন ইতিপূর্বে উপজেলার ওমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় শিশু শিক্ষার্থীর সাথে বৎলকারের ঘটনা ঘটিয়ে বদলী হন।’ একই উপজেলার আমড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় আবারও শিশু শিক্ষার্থীর সাথে বলৎকারের ঘটনা ঘটানোয় তাকে অনত্র বদলী করা হয়।’ এরপর উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় তৃতীয় বার শিশু শিক্ষার্থীর সাথে বলৎকারের ঘটনা ঘটান ওই গুণধর শিক্ষক।’ এরপর ওই শিক্ষককে ফের উপজেলার ললিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।’ বিদ্যালয়ে যোগদানের এক বছর পার হতে না হতেই আবারো শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগ উঠে একই করিৎকর্মা শিক্ষক আলফাজের বিরুদ্ধে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের আসাম গাঁওর বাসিন্দা জিন্নত আলীর ছেলে আলফাজ উদ্দিনের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে বৃহস্পতিবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি অসুস্থ, ছুটি নিয়ে বাড়িতে আছি। বৎলকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, এ নিয়া রিপোর্ট না করলে ভালো হয় বলেই মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।




