মিরাবাজারে রোকেয়া হত্যার অন্তরালে দেহ ব্যবসা


রাজু আহমেদ: মিরাবাজারে এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকায় এ নিয়ে নানা কাহিনী ঘুরে ফিরছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় , দীর্ঘদিন পূর্বে সিলেটের মিরাবাজার খারপাড়ার মিতালী ৫৯ নম্বর বাসা ভাড়া নেন রোকেয়া বেগম নামের একজন মহিলা। তখন তার সাথে থাকা সুন্দরী ষোড়শী তানিয়া আক্তার কে তার মেয়ে পরিচয় দেয়। কিন্তু মেয়ে পরিচয় দিলেও তানিয়া তার মেয়ে ছিল না।
তানিয়াকে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার কদুপুর গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে আসে । তাকে বাধ্য করা হয় দেহ ব্যবসায়। তানিয়ার আপত্তিকর ভিডিও চিত্র ধারণ করে ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিদের কাছে এবং ছাত্রাবাসে তানিয়াকে মোটা অংকের বিনিময়ে পাঠানো হতো। এক সময় তার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে গোলাপগঞ্জ থানার জনৈক সোহেলের সাথে।
তানিয়া তার অন্ধকার জগতে প্রবেশের কথা সোহেলকে শুনায়। এক সময় তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে হৃদয় ঘটিত সম্পর্ক । কিন্তু তাদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় রোকেয়া বেগম।
২৪/১২/১৫ সালে তানিয়া রোকেয়া কে হত্যার পরিকল্পনা করে। কৌশলে তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে।
সোহেল কে খবর দেয়। সোহেল গভীর রাতে বাসায় ঢুকে ধারালো বঁটি দিয়ে রোকেয়া কে কুপিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে দুজনে পালিয়ে যায়। ২৫/১২/২০১৫ সালে রোকেয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে আসে তানিয়ার নাম।
গত ৬/১ / ১৬ সালে তানিয়া ও সোহেলকে গোলাপগঞ্জে থানার ভাদেশ্বর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করে তানিয়া।
তানিয়া ও সোহেল দুজনে এখন কারাগারে বন্দি দিন কাটাচ্ছে। স্বামী পরিত্যাক্তা রোকেয়াও একসময় দেহপসারিণী ছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।




