বানিয়াচংয়ে হু হু করে বাড়ছে সর্দি-জ্বর ও কাশি রোগী, জনমনে আতঙ্ক


সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: বানিয়াচংয়ে হঠাৎ করে জ্বর-সর্দি ও কাশি রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত রোগীরা অনেকেই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের অবস্থা বেগতিক তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। জ্বর হওয়ার সাথে সাথে রোগীদের কাশি, ডায়রিয়া ও বমি হচ্ছে। এসব উপসর্গ করোনা হিসেবেই ধরে নিচ্ছেন আক্রান্ত ব্যক্তিসহ স্বজনরা। সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে প্রথমে চীনের উহান শহর থেকে করোনার সূত্রপাত হয়। এর মধ্যে কোভিড-১৯ ক্রমশ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮ লাখের উপরে মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক কোটি।
এর মধ্যে ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ হাজার ৬শ’ ৩৪ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯শ’ ৭০ জন। বানিয়াচংয়ে ৭শ’৫৪ জন পরীক্ষার মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ ও সুস্থ হয়েছেন ৫৭ জন। হাসপাতাল আইসোলেশনে কোন রোগী নেই এবং হোম আইসোলেশনে আছেন ১২ জন। উপজেলায় এখন অবধি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১জন।
করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী ও তৎকালীন ইউএনও মোঃ মামুন খন্দকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে গেছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকে দীর্ঘ ৩ মাস। এর মধ্যে ১৫দিন পর পর করোনার স্যাম্পুল দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও।
এরপরও উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের জান-মাল নিরাপদ রাখতে ছুটে চলেছেন অবিরাম দূর্গম এলাকায়। এর পর বর্তমান ইউএনও মাসুদ রানা ও অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমরান হোসেন এর নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা বিষয়ে কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। এর বদৌলতে অন্যান্য জায়গা থেকে অনেকটাই নিরাপদ ছিল বানিয়াচং। পরে লকডাউন সরকার শিথিল করার সাথে সাথে প্রশাসনিক তৎপরতাও অনেকটা কমে যায়। এর মধ্যে বেশ কিছুদিন বানিয়াচং সবুজ জোন (নিরাপদ) হিসেবে ছিল। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বানিয়াচংয়ে ১জন মারা গেছেন এবং সর্দি জ্বর-কাশির সাথে সাথে ডায়রিয়ার প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে জনমনে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা. আবুল হাদী মোহাম্মদ শাহপরান জানান, সম্প্রতি যেসব জ্বরের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের অধিকাংশদের করোনার উপসর্গ রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। আর তা ছাড়া ইতিমধ্যে জ্বর হওয়ার পর যাদের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে তাদেরকে পৃথক ঘরে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হবে এবং হাসপাতালে এসে স্যাম্পুল/ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন।
বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, আমাদেরকে করোনা ভাইরাস চলে গেছে মনে করলে আত্মঘাতি হবে। যতদিন না করোনা ভাইরাস নির্মূল না হবে, ততদিন আগের ন্যায়ই জন সাধারণকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।



