লিড নিউজ

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পায়ের আঙ্গুল কাটা গেল যুবকের

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার এক ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার খেসারত হিসেবে নিজের পায়ের আঙ্গুল কাটা গেল দুলু দাশ নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের। পুত্রের মুমূর্ষ অবস্থা দেখে এখন মা বাবাও পাগলপ্রায়।

দুলু উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের হতদরিদ্র দীপক মালাকারের পুত্র। এ অবস্থায় তাদের চোখে-মুখে নেমে এসেছে অন্ধকার। গত কয়েকদিনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি পথে বসেছে।

কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি গাছের ডাল উপর থেকে পরে যায় দুলুর পায়ে। অল্পকিছু কেটে গেলে এতে ওই ইউনিয়নের আখড়ারঘাট বাজারে গত ৪ ডিসেম্বর মোহাম্মদ শামছুল ওয়াদুদ নামের ডিগ্রীধারী (ইউ এম ,ডি এম টি (ইন কোর্স)সি পি এম সি পি,সি এইচ টি ঢাকা) ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ (সদর) হাসপাতাল) এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসেন।

আঙ্গুলের অবস্থা দেখে ওই চিকিৎসক দুলুর পায়ের আঙ্গুলে ৯টি সেলাই করে ওষুধ লিখে দেন। তার দেয়া প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ওষুধ খাওয়ার পর দুুলুর পায়ের আঙ্গুলের আরো অবনতি ঘটে পঁচা গন্ধ বের হতে থাকে। তার পরও আরো একাধিকবার তার কাছে গেলে তিনি বেন্ডিস খুলে নতুন করে আবার লাগিয়ে দেন।

পরে স্থানীয়দের পরামর্শে গত ১০ ডিসেম্বর পাশ্ববর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত এমবিবিএস ডিগ্রীধারী ডাঃ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এর স্মরণাপন্ন হন তারা। আঙ্গুলের এই করূন অবস্থা দেখে ওই চিকিসককে দোষারূপ করে তিনি। এই দুই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

পরে তার পরামর্শে সিলেটে গেলে দুলুর পায়ের আঙ্গুল কাটা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। পরে বিশেজ্ঞদের সহযোগীতায় তার পায়ের আঙ্গুল কর্তন করা হয়। এ ব্যাপারে ডাঃ শামছুল ওয়াদুদ- এর মুঠোফোনে শুক্রবার এ প্রতিবদেকের যোগাযোগ হলে প্রথমে তিনি বলেন এটা কিভাবে সম্ভব হবে? পরে তিনি স্বীকার করে বলেন দাদা বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

Related Articles

Back to top button