সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে দক্ষিণ সুরমাকে


নিউজ ডেস্ক : সিলেট মহানগরকে দুই ভাগ করেছে সুরমা নদী। যার এক পাশে উত্তর সুরমা আর অন্য পাশে দক্ষিণ সুরমা। সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড পড়েছে দক্ষিণ সুরমা প্রান্তে। নগরীর প্রবেশদ্বারও হচ্ছে এটি। এখানে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাছাড়া নগরের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই এলাকার অপরাধ প্রবণতা একটু বেশি লক্ষণীয়। এ কারণে দক্ষিণ সুরমার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রথম বারের মতো দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বসানো হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। ইতিমধ্যে ক্বীন ব্রীজের শেষ অংশ থেকে রেলওয়ে স্টেশন হয়ে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার কেবল টানানো হয়েছে। এসব সব মিলিয়ে ১৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই সপ্তাহ পর সিসি ক্যামেরাগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন বলেন, ‘ সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে অপরাধ জগতের আস্তানা খ্যাত বাস টার্মিনাল, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা নগর কর্তৃপক্ষ স্থাপন করলেও এগুলোর মনিটরিং করা হবে প্রশাসন থেকে। এ কারণে অপরাধীদের সহজে চিহ্নিত করা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কদমতলি স্বর্ণশিখা সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমদ বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা বসানো এটি একটি মহতি উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়ন হলে আইনশৃংখলা বাহিনীর জন্য অপরাধী ধরতে অনেকটা সহজ হবে। অপরাধ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।’
এদিকে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এর আগে উত্তর সুরমার বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোন কাজে আসেনি।
মির্জা কামরুল ইসলাম নামের একজনের অভিমত- ‘সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে কিন্তু তারপরও অপরাধ ছিনতাই কমছে না। এসব ক্যামেরা লাগিয়ে সুনামের প্রয়োজন নেই। শহরের যেসব জায়গায় সিসি ক্যামেরা সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। ফলে অপরাধ ছিনতায়ই কমছে না । সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে হয়তো অপরাধ কমে আসতো। এজন্য দক্ষিণ সুরমায় লাগানো সিসি ক্যামেরার সঠিক তদারকি করতে হবে।



