১৫ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা একটি বাশেঁর সাঁকো


মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে : দেশ আর কত ডিজিটাল হলে একটি সেতু নির্মান হবে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর রৌহা গ্রামে। চর রৌহা গ্রামের ঝারকাটা নদীতে সেতুর পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। যার উপর দিয়ে ১৫টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করছে। এতে ভোগান্তির শেষ নেই ঘটছে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ঝারকাটা নদীতে একটি সেতুর দাবী দির্ঘদিনের। বিভিন্ন দলের সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের লোকজন প্রতিবছর বাঁশ সংগ্রহ করে যাতায়াতের জন্য সাঁকো তৈরি করে। সেই সাঁকোতে মানুষ চলাচলের সময় কড়কড় আওয়াজ করে। কয়েক দিন পরপর মেরামত করতে না পারলে পারাপারের জন্য তা অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বর্ষার পানি যখন বাড়তে থাকে তখন উজানের ঢলের প্রবল স্রোতে সাঁকো ভেসে যায়। ফলে সেখানে খেয়ানৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। চর রৌহা গ্রামের আলহাজ সবুর মিয়া (৭০) জানান, নদীর ওপারে প্রায় অর্ধলক্ষ লোকের বসবাস। এখন পানি কম তাই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে পাচ্ছি। কিন্তু পানি বাড়ার সাথে সাথে নৌকা ছাড়া কোন উপায় নেই। রৌহা গ্রামের আব্দুল হাই বলেন, আমরা কৃষক মানুষ।
নদীর ওপারে আমাদের অনেক জায়গা জমিন। যেখানে ধান, পাট, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ নানা সবজী আবাদ করি। কিন্তু এখানে একটি ব্রীজ না থাকায় অনেক কষ্ট করে এগুলো নদীর এপারে এনে মালামাল গাড়ীতে তুলতে হয়। এলাকাবাসী জানান, সেতুটি দিয়ে চর রৌহা, ছাতারিয়া, চর-সরিষাবাড়ী, নান্দিনা, বাঘমারা, আদ্রা, চুনিয়াপটল, জামিরাসহ পাশ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার দীঘলকান্দি, সেংগুরিয়া, আতামারি, বাড়ইপাড়া, খামারমাগুরিয়া, ফুলপাড়া, মারিয়াকান্দি, ধারাবর্ষা ও ছেন্নারচরের লোকজন যাতায়াত করে। সাতপোয়া ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যামিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ সেতু দিয়ে পারাপার হয়। আর.এনসি উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সাঁকো থেকে পড়ে গেলে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেকেই আহত হয়।
সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোজিনা খাতুন বলেন সাঁকো থেকে পড়ে আমার মাথা ফেটে গিয়ে ছিল। ২০১৩ সালে খেয়ানৌকা ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণী শিক্ষার্থী অন্তর (৭) ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আনিছ (৮) মারা যায়।
সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, সেতুটি নিমার্ন করা হলে অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে। তাই এখানে একটি সেতু নিমার্ন হওয়া অতি জরুরী।




