লিড নিউজ

শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে অধ্যক্ষের বেপরোয়া বক্তব্য, ‘দা’ নিয়ে দম্ভোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট শহরতলীর শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষ ২০১৭-১৮ সেশনের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামুলক বক্তব্য না রেখে উশৃঙ্খল বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে প্ররোচনা দিলেন কলেজ অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম।
শনিবার সকালে কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি ১ম বর্ষ ২০১৭-১৮ সেশনের প্রথম ওরিয়েন্টেশন (পরিচিতি) ক্লাসে দম্ভোক্তির সঙ্গে এমন বেপরোয়া উশৃঙ্খল বক্তব্য দিলেন শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম।
প্রায় ঘন্টাব্যাপী কলেজ অধ্যক্ষের বক্তব্যে কথায় কথায় দা-কুড়াল, তার ছাত্রজীবনের সন্ত্রাসী কর্মকা- স্বগর্ভে উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমি কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্ররাজনীতির লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান ছিলাম। আমার নেতৃত্বেই তৎসময়ে ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে শহর-নগরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ হতো। তৎসময়ে আমাকে অন্ধকার জগতের নেতা হিসেবে সমাজের সবাই সমীহ করতো। আমাকে ‘দা’ সিরাজ হিসেবে এক নামে সবাই ডাকতো এবং চিনত। আজও আমার সেই পরিচিতি বিলীন হয়নি। সে সময়ে আমার মওজুদকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ যেগুলো ছিলো সেটা যদিও আমি কবর দিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমার ঐতিহ্যপূর্ণ সেই ‘দা’ এখনো হাতে আছে। সেটা কিছুদিন পর পর শান করে রাখি।
এটা যেকোনো সময় ব্যবহার করার শক্তি ও সামর্থ এখনো আমার আছে। বয়স আমার ৬৫ হলেও মনের জোরে ২০ এর নিচে আমার বয়স নামিয়ে এনেছি। আমি এখন টগবগে যুবক। আমার ঐতিহ্যবাহী ‘দা’ নিয়ে যে কাউকে যেকোনো সময় প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখি। এক পর্যায়ে কলেজ অধ্যক্ষ তার দীর্ঘ বক্তব্যে কলেজের শিক্ষকদেরকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তি ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে শিক্ষকদের অযোগ্য, অপদার্থ ও কুলাঙ্গার বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়াও অধ্যক্ষ বর্তমান সরকার ও কলেজ পরিচালনা পর্যদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে বলেন, শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজ তার একক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষের এমন বেপরোয়া ও কুরুচিপূর্ণ উশৃঙ্খল বক্তব্যে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষকমন্ডলী ও নবাগত প্রায় ৪ শতাধিক কোমলমতি ছাত্রছাত্রী কলেজের প্রথম ক্লাসে এসে কলেজের অধ্যক্ষের উন্মাদ ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য শুনে চরম অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। অনেকেই অধ্যক্ষের এহেন বক্তব্যকে ছাত্রছাত্রীকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে প্ররোচিত করবে বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কমর উদ্দিনের পরিচালনায় ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাহাব উদ্দিন লাল, কলেজের অধ্যাপক মন্ডলির মধ্যে জাকির হোসেন, জহর লাল দে, কানিজ ফাতেমা, কৃষ্ণা ভট্টাচার্য, শিল্পী মজুমদার, আব্দুল জহির তালুকদার, আব্দুস সহিদ, সঞ্জয় তালুকদার, মাহফুজা বেগম, মো. শফিক মিয়া, মিন্টু চন্দ্র দাস, মোছাম্মত খাদিজা আক্তার, মো. আফজাল হোসেন, মোছাম্মত পানামা বেগম, বিপুল তালুকদার, শুভেন্দু শেখর পাল, আমিনুল হক, রনদ্বীপ চৌধুরী প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার এলাকায় ১৯৯৩ সালে শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সাল হতে এ পর্যন্ত প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার এ দায়িত্বকালে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠে। বর্তমানে সিলেট জজ আদালতে তার বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালার বাইরে ২০১৬ সনে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ভর্তিকালীন কলেজের পরিচালনা পর্যদের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগে জনৈক কলেজছাত্রের অভিভাবকের দায়ের করা একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কলেজ অধ্যক্ষের বেপরোয়া অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ করে আসছেন। এমনকি অধ্যক্ষের অপকর্মের বিরুদ্ধে কলেজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরকে অবহিত করে এলাকাবাসী লিখিতভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

Related Articles

Back to top button