ভাতা পেতে দীর্ঘ প্রতিক্ষা: শাল্লায় আনসার সদস্যদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ


বিশেষ প্রতিনিধি : শাল্লায় দরিদ্র আনসার সদস্যদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩মাস পর সকাল ৮ টা থেকে উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসের সামনে অনেক নারী ও পুরুষ আনসার সদস্যদের দেখা যায়। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত দিরাই-শাল্লা আসনের উপনির্বাচনের ডিউটির ভাতা প্রদান করা হবে। সেই লক্ষ্যে তারা এখানে প্রতীক্ষায় রয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী শতাধিক আনসার সদস্য সাংবাদিকদের জানান যে, আজ সকাল ১০ টায় তাদের ভাতা দেয়ার কথা। কিন্তু আজ বিকাল ৫ টা বেজে গেলেও তাদের কোন টাকা-পয়সা দেয়া হচ্ছে না। তারা আরো জানান নির্বাচনী ডিউটিতে যোগদানের জন্য তাদেরকে অনেক টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। ঘুষ দিয়েও সময়মতো তাদের ভাতা পাচ্ছে না।
এপ্রসংগে সুলতানপুরের আনসার সদস্য দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত সাংবাদিক ও শাল্লা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার সামনেই ঘুষ প্রদানের বিষয়টি অকপটে ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমি নিজে প্লাটুন কমান্ডারের মাধ্যমে নির্বাচনী ডিউটি করার জন্য ৩শ’ টাকা ঘুষ দিয়েছি। তখন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ও অপর একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যার নাম ওয়াহাব তারা দেলোয়ারকে ধমক দিয়ে সাংবাদিকদের সামনেই অফিস থেকে বের করে দেন।
শুধু তাই নয়, আনসার সদস্য রানু মিয়া, নুর জাহান, দেলোয়ার হোসেন, শান্তি রাণী, সুফিয়া বেগম, মানদা রাণী বিশ্বাস, কমলা রাণী বিশ্বাস, মনোয়ারা বেগম, অঞ্জলি রাণী বিশ্বাস, ফুল বানু, ভক্ত মাহিষ্য দাসসহ প্রায় শতাধিক আনসার সদস্য জানান যে, নির্বাচনী ডিউটি করা জন্য বিভিন্ন প্লাটুন কামান্ডাদের মাধ্যমে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাকে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা
হারে ইতিপূর্বে উৎকোচ প্রদান করেছেন।
তাদের মধ্যে অনেকেই স্বীকার করেন যে, প্রত্যেক সদস্যই টাকা দিয়ে ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অভিযোগকারী সাধারণ আনসার সদস্যদের ভাষ্য মতে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা আনসার
ভিডিপি কর্মকর্তা ওয়াহাব ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা রূপক তালুকদার প্রায় ২লক্ষাধিক টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছে।
এব্যাপারে প্লাটুন কমান্ডার পরিমল দাস বলেন, সদস্যদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে অফিসে জমা দিয়েছি। এসময় সাধারণ আনসার সদস্যগণ আরো জানান যে, সব ডিউটিতেই আমরার
টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে আমারারে ডিউটিতেক নেয় না।
এবিষয়ে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রূপক তালুকদার বলেন, যদি কোনো প্লাটুন কমান্ডার এরূপ কাজ করে থাকে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, গত ৩০ মার্চ উপনির্বাচনে এ উপজেলায় মোট ৫শ’ ৪জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা আনসার ভিডিপি’র মনিটরিং কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সাধারণ আনসার সদস্যদের টাকা ফেরৎ দেয়া হবে।
এবিষয়ে জেলা এডজুট্যান্ট সাজ্জাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কে নিছে, আমি জানি না। গ্রামের কিছু লোকজন আছে নিতে পারে। তার কোনো হদিস নেই। আমরা সুনামগঞ্জ থেকে এসেছি, আমরা টাকা কম দিচ্ছি কি না তা দেখেন।




