লিড নিউজ

বিয়ানীবাজারে মালিকা দ্বন্দ্বের কারণে সড়ক সংস্কারের কাজ আটক : দুর্ভোগ

আহমদ রেজা চৌধুরী: সড়ক ও জনপথ এবং এলজিইডির মধ্যে মালিকা দ্বন্দ্বের কারণে বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউনিয়নের একমাত্র যোগাযোগ সড়ক রয়েছে সংষ্কার ও মেরামত বিহীন অবস্থায়।

দীর্ঘদিন থেকে গ্রামীণ এ সড়কে সংস্কার ও মেরামত কাজ না হওয়ায় এ ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত দূর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দায়িত্বশীলরা মনে করেন, গ্রামীণ এ সড়কটির মালিকানা দ্বন্দ্ব নিরসন না হলে রাস্তার সংস্কার কিংবা মেরামত কাজ হবে না।
সড়ক ও জনপদের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সেমন্ত বলেন, এরকম একটি গ্রামীণ সড়ক আমাদের হওয়া উচিত না। এরকম সড়কে হালকা যানবাহন বেশি চলাচল করে। কিন্তু কেন সড়কটি আমাদের তালিকা আসলো সেটা বুঝা মুশকিল। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে এ সড়কের সংস্কার কিংবা মেরামত কাজ করা সম্ভব নয়। তবে আগামী বাজেটে যদি বরাদ্ধ আসে তাহলে সড়কের ওই অংশে সংস্কার কাজ করা যেতে পারে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী জনপদ বৈরাগীবাজার-কুড়ারবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের বিয়ানীবাজার অংশে সর্বশেষ ২০০৭ সালে সংস্কার ও মেরামত কাজ করে এলজিইডি। বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তত্ত্বাবধানে বৈরাগীবাজার থেকে আকাখাজানা এলাকা পর্যন্ত সংস্কার করা হয়। এলজিইডি সড়কের গ্রেজেড তালিকায় এ সড়ক ৬৯১১৭২০০৫ নম্বরে রয়েছে। বিয়ানীবাজার অংশে রয়েছে সড়কের ১০.৩২ কিলোমিটার অংশ।
সওজ সিলেট অফিস সূত্রে জানা যায়, এ সড়কটি সড়ক ও জনপদের গ্রেজেডে রয়েছে। সওজ তালিকায় ২২৮১২ নম্বরে রয়েছে। বিয়ানীবাজার-বৈরাগীবাজার-কুড়ারবাজার-বুধবারীবাজার-বাদেপাশা-গোলাপগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক নামে ৫২ কিলোমিটার সড়ক সওজ’র অধিনে ২০১৩ সালে তালিকাভুক্ত হয়। সওজ’র তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এ সড়কে কোন সংস্কার কিংবা মেরামত কাজ করা হয়নি।
সরেজিমনে গিয়ে দেখা যায়, বৈরাগীবাজার থেকে কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের অসংখ্য জায়গায় গর্ত, খানাখন্দ’র সৃষ্টি হয়েছে। পলেস্তারা ভেঙ্গে বেরিয়ে পড়ছে ইট-সুরটি। সড়কের গর্ত ও খানাখন্দ থাকা অংশে নোংরা পানি জমে থাকায় যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়েন।
কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, এলাকার মানুষ কি পরিমান দুর্ভোগে রয়েছেন সেটা বলে বুঝানো যাবে না। গত চার বছর থেকে কোন মেরামত কাজ না হওয়ায় সড়ক জুড়ে গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সওজ এ রাস্তার কাজ না করলে সেটা এলজিইডিকে ছেড়ে দেয়া উচিত। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আমি সেই দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী বলেন, সড়কে সংস্কার কাজ করার জন্য গত বছর (২০১৬) প্রাক্কলন করা হয়। কিন্তু আমাদের মালিকানা না থাকায় আমরা এ সড়কে কোন কাজ করতে পারব না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলজিইডি মালিকানা নেই এরকম কোন সড়কে এলজিইডি কোন কাজ করতে পারে না।
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সেমন্ত বলেন, সড়কটি আমাদের থাকবে কি না সেটা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা পরিদর্শনে এসে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বিয়য়টি পজেটিভ আকারে তাদের কাছে উত্থাপন করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি সড়কটি এলজিইডিকে ফিরিয়ে দেয়া উচিত। মন্ত্রণালয় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

Related Articles

Back to top button