লিড নিউজ

বিয়ানীবাজারে এক মহিলার উপর চেক ডিজঅনার মামলা : আসামী পলাতক

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিয়ানীবাজার পৌরসভাস্থ পশ্চিম নয়াগ্রামে ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাসকারী মনোয়ারা খানম মিনা নামক এক মহিলার বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন মামনীয় আদালত। পৌরসভার খাসাড়ীপাড়া গ্রামের অধিবাসী মিজানুর রহমান জুবের নামক ভাগনার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে মামী মনোয়ারা এখন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মনোয়ারা বেগম মিনা জৈন্তা উপজেলার হরিপুর গ্রামের আলীম উদ্দিনের স্ত্রী বলে জানা গেছে। মনোয়ারা বেগমের পিতার বাড়ী বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়ায়।
বাদী ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, স্বামী এবং এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভার পশ্চিম নয়াগ্রামের বদরুল মিয়ার বাড়ীতে দীর্ঘদিন থেকে ভাড়া থাকেন মনোয়ারা। গত ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল স্বামী আলীম উদ্দিনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য খাসাড়ী পাড়া গ্রামের তারই ভাগনা মোঃ মিজানুর রহমান (জুবের) এর কাছ থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন মামী মনোয়ারা। তিন মাসের মধ্যে ঐ টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও নানা টালবাহানা করে তিন বছরেও এক টাকাও ফেরত দেননি মনোয়ারা। এ অবস্থায় গত ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে পাওনাদার মিজান উপজেলার শ্রীধরা গ্রামের মোঃ সহিদুল ইসলাম, কসবা গ্রামের আহমদ হুসেন, মোঃ ছাইফ উদ্দিন (খুকন) এবং গুঙ্গাদিয়া গ্রামের মুজিবুর রহমানকে নিয়ে মনোয়ারা খানমের ভাড়া বাসায় যান। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মনোয়ারা উপস্থিত লোকজনের সম্মুখে স্বীকার করেন যে, ২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারী মিজানের পাওনা সমুদয় টাকা পরিশোধ করে দেবেন। মনোয়ারার দেয়া তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে মিজান মধ্যস্থ লোকজনকে নিয়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মামীর বাসায় যান। কিন্তু ঐ দিন মনোয়ারা বেগম টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করেন এবং নিজের লোকজন দিয়ে মিজানকে অপদস্ত করার পায়তারা করেন। কিন্তু সঙ্গে মধ্যস্থকারী লোকজন থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পান মিজান। ঐ দিন একপর্যায় উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে মনোয়ারা খানম মিজানুর রহমান (জুবের) এর পাওনা টাকা বাবদ জনতা ব্যাংক লিমিটেড বিয়ানীবাজার শাখার মনোয়ারা খানমের নামীয় একাউন্টের ১৯/১/২০১৬ তারিখের একটি ব্যাংক চেক দেন। উল্লেখিত তারিখে চেকটি নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে উক্ত একাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা নেই মর্মে মন্তব্য পূর্বক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৪/১/২০১৬ তারিখে চেকটি ডিজঅনার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাগনা মিজান চেক ডিজঅনার মামলা পূর্ব আইনী পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৬ সালের ৯ ফেব্র“য়ারী আইনজীবীর মাধ্যমে ৩০ দিনের সময় স্বাপেক্ষে মনোয়ারা খানম বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। কিন্তু মনোয়ারা ঐ উকিল নোটিশেও সাড়া দেননি। এ অবস্থায় গত ১৪/৩/২০১৬ তারিখে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে চেক ডিজঅনার প্রতারণার অভিযোগে The Negotiable Instrument Act ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় মনোয়ারা খানমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মিজান। আদালতে মামলার বিচার চলে এবং বিবাদী মনোয়ারা খানম মাননীয় আদালতে একাধিকবার সময় প্রার্থনা করে কালক্ষেপন করতে থাকেন। বিভিন্ন তারিখ শেষে চলতি বছরের ১৯ মার্চ কোর্টে মামলাটির চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অবশেষে গত ২৪ মে মাননীয় আদালত উক্ত মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে বিবাদীকে চেকে উল্লেখিত অর্থের ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। অন্যথায় ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বলে মামলার বাদী জানিয়েছেন। মিজান জানান, বিবাদী মনোয়ারা বেগম আদালতের আদেশ মতো টাকা জমা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সে অনুযায়ী বিবাদী মনোয়ারাকে গ্রেফতার করার জন্য বিয়ানীবাজার থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান গত ১ জুন তারিখে তার ভাড়া বাসায় গিয়েও তাকে পাননি। জানা গেছে, মনোয়ারা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপণে চলে গেছেন।
বিবাদী মনোয়ারা খানমের বক্তব্য জানার জন্য বারংবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোর্টের ওয়ারেন্টে আসামী ধরতে তার ভাড়া বাসা ও বাপের বাড়িতে অভিযান চালিয়েও তাকে পাইনি। গ্রেফতার এড়াতে সে আত্মগোপণে চলে গেছে। তবে তাকে আটক করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Back to top button