বানিয়াচংয়ে টিসিবির পণ্য তোলেননি অধিকাংশ ডিলার: ক্রেতাদের ভোগান্তি


নিউজ ডেস্ক : বানিয়াচংয়ে টিসিবির সাত ডিলারের মধ্যে চার ডিলার পণ্য তোলেননি। গ্যানিংগঞ্জ বাজারের মেসার্স শোয়েব এন্টারপ্রাইজ পণ্য তুললেও বিক্রির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে মানুষ বুঝতেই পারছেন না।
সরকারের বিশেষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রোজায় স্বল্প আয়ের মানুষকে কম দামে পণ্য সরবরাহ করা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি কর্মসূচি হাতে নেয় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
টিসিবির দোকানে চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা, ৫ লিটার পুষ্টি সোয়াবিন তেল ৪২৫ টাকা ও ছোলা প্রতিকেজি ৭০ টাকায় ক্রেতারা কিনতে পারবেন। অথচ স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি চিনি ৭০ টাকা, মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি, ছোলার কেজি ৯০ টাকা ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৫২০ থেকে ৫৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কেন পণ্য তুলেননি জানতে চাইলে কাগাপাশা বাজারের মেসার্স মায়িন ট্রেডার্সের স্বস্তাধিকারী আবদুল মুহিত চৌধুরী জানান, গ্রামের মানুষ ন্যায্যমূল্যের দোকান বুঝেন না। পণ্য কিনতে এসে দর কষাকষি করেন। কাটতি কম এইবার পণ্য উঠাইনি।
গ্যানিংগঞ্জ বাজারের মোতাব্বির হোসেন জানান, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। টিসিবি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগও করা হয়নি।
একই বাজারের মেসার্স শোয়েব এন্টারপ্রাইজে যাওয়ার পর বোঝার উপায় নেই এই দোকানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে। নেই পণ্যের মূল্যেতালিকা ও ব্যানার। অথচ ৪০০ কেজি চিনি, ১০০ কেজি সয়াবিন ও ৬০০ কেজি ছোলা তুলেছেন এই ডিলার।
আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানালেন, এই দোকানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হতে কোনো দিন দেখেননি।
মার্কুলীবাজারের এমআর ট্রের্ডাসের আবুল কালাম জানান, পূর্বে ২বার পণ্য তোলে লোকসান গুনেছেন। তার অভিযোগ, চিনির প্রতি বস্তায় ৪/৫ কেজি চিনি কম পেয়েছেন। এই ব্যাপারে টিসিবি অফিসে যোগাযোগ করে কোনো সুফল পাননি। এইবার পণ্য উঠাতে অফিস থেকে কেউ তাগিদ দেননি।
ইকরামবাজারের সৌমিক এন্টারপ্রাইজের আবদুল কদ্দুছ শামীম জানান, পূর্বে টিসিবির ডিলার ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর স্বেচ্ছায় টিসিবির ডিলার থেকে তিনি সরে এসেছেন।
সরেজমিন আদর্শবাজার হোসেন ট্রেডার্সে দেখা গেছে, কম দামের টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভীর।
ডিলার হোসেন আহমদ খান জানান, মালের মজুদ কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিত খাচ্ছেন। তিনি পণ্যের মজুদ বাড়ানোর দাবি করেছেন। বড়বাজারের
টিসিবির সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো.ইসমাইল মজুমদার বলেন, টিসিবি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এর পণ্য মানসম্মত ও লাভজনক। বেশি লাভের আশা না করে যারা সেবার মানসিকতা নিয়ে পণ্য বিক্রিয় করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন তারাই টিসিবির ডিলার হয়েছেন। এখন পণ্য বিক্রয়ে আগ্রহী নন ডিলারদের বাতিলের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন সুপারিশ করলে ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া পরপর ৩বার পণ্য না তুললে ডিলারশীপ বাতিল হয়ে যায়।
ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সিংহ বলেন, কতজন ডিলার পণ্য উঠিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানায়নি টিসিবি।
তিনি জানান, স্বপ্রণোদিত হয়ে টিসিবির সাথে যোগাযোগ করে ই-মেইলে ডিলারদের তালিকা এনেছেন। ৭ ডিলারের মধ্যে পণ্য তুলেছেন ৩ ডিলার। উত্তোলনকৃত পণ্য ঠিকঠাক আছে কিনা প্রশাসন দেখার পর পণ্য বিক্রি শুরু করার কথা ডিলারদের। কিন্তু এই নিয়ম অনুসরণ করেননি ডিলাররা।
এসিল্যান্ড নূর-এ আলম বাজার ঘুরে দেখেন, টিসিবির পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অথচ পণ্য বিক্রয় সম্পর্কে ক্রেতারা জানেন না। এ ব্যাপারে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানাবেন তিনি



